Tuesday, 24 February 2015

আগুন লেগেছে ,কি করবেন?

আপনার কোনো জন্মশত্রু নেই, তারপরও কোনো এক অদৃশ্য আততায়ী আপনাকে জ্বালিয়ে ভস্ম করে দেয়ার জন্য, পেট্রোলবোমা হাতে ঘুরে বেড়াচ্ছে! দোষ আপনার নয়, কিন্তু তারপরও জ্বলতে হচ্ছে আপনাকেই, তাই আত্মরক্ষার জন্য কী করতে পারেন আপনি? এর কোনো নির্দিষ্ট সমাধান কেউ হয়তো দিতে পারবে কিনা জানি না কিন্তু আপনাকে বাঁচাতে কোনো মাসুদ রানা তো আর আকাশ থেকে ঝাঁপিয়ে পড়বে না নিশ্চয়ই! তাই বাঁচার চেষ্টা করতে হবে নিজের কমনসেন্স আর জেনারেল নলেজ ব্যবহার করেই আসুন, আমরা বরং সেটাই বাড়ানোর চেষ্টা করি

ছবি- ইত্তেফাক

আগুনের ধর্মই হচ্ছে - চারিপাশে যা কিছু আছে সব পুড়িয়ে নিঃশেষ করে দেয়া। আগুনকে জ্বলে উঠার জন্য এবং নিরবচ্ছিন্নভাবে জ্বলতে থাকার জন্য তিনটি মাধ্যম ব্যবহার করতে হয় - উপযুক্ত তাপ, অক্সিজেন, এবং দাহ্যবস্তু। এই তিন নিয়ামকের একটিও যদি অনুপস্থিত থাকে, আগুন জ্বলবে না বা জ্বলন্ত অবস্থা থেকে নিভে যাবে। আর অক্সিজেনের উপস্থিতিতে উপযুক্ত তাপ পেয়ে দাহ্যবস্তুতে যখন একবার আগুন লেগে যায়, তখন আর নতুন করে তাপ দেয়ার প্রয়োজন পড়বেনা আগুন নিজেই ধারাবাহিকভাবে তাপোৎপাদী বিক্রিয়ার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তাপ সংগ্রহ করে নেবে। তাই আগুনকে থামাতে হলে তাপ প্রশমন করতে হবে, নতুবা অক্সিজেন বা দাহ্যবস্তুকে সরিয়ে ফেলতে হবে

আগুনের প্রকারভেদঃ

দাহ্যবস্তুর ধরণের উপর নির্ভর করে আগুনকে ভাগ করা হয়েছে এভাবে-
class A: সাধারণ দাহ্যবস্তু যেমন কাঠ, কাগজ, কাপড়, প্লাস্টিক, রাবার, ইত্যাদি জৈব কঠিন পদার্থ। এই জাতীয় আগুন পানি দিয়ে নিভানো সম্ভব।

class B: এই জাতীয় আগুনের জ্বালানি হচ্ছে সব ধরণের দাহ্য তরল এবং গ্যাস, গ্যাসোলিন (পেট্রোল), গ্রিজ, তেল, রঙ, ইত্যাদি। এই জাতীয় আগুনে অগ্নিনির্বাপক হিসেবে পানি ব্যবহার করা যায় না, বরং বাতাসকে (i.e. অক্সিজেনকে) আগুন থেকে সরিয়ে ফেলার ব্যবস্থা করতে হয়। এক্ষেত্রে অগ্নিনির্বাপণে CO2 (কার্বন-ডাই-অক্সাইড) গ্যাস ব্যবহার করা হয়।

class C: বিদ্যুৎ ও বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি (যেমনঃ মোটর/সুইচ/তার, ইত্যাদি) থেকে এই জাতীয় আগুনের সূত্রপাত হয়। এই জাতীয় আগুন নির্বাপণের কাজে বিদ্যুৎ অপরিবাহী রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহৃত হয়। পানি বিদ্যুৎ সুপরিবাহী। তাই পানি ব্যবহারের চিন্তা করা আর খাল কেটে কুমির আনা সমতুল্য।

class D: বাতাসের সংস্পর্শে উচ্চমাত্রার দাহ্যধাতু (যেমনঃলিথিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম, সোডিয়াম, টাইটেনিয়াম, জিরকোনিয়াম ইত্যাদি) থেকে এই জাতীয় আগুনের সূত্রপাত হয়। সাধারণত উৎপাদনকারী শিল্পকারখানাগুলোতে এই ধরণের অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এক্ষেত্রে অগ্নিনির্বাপণের জন্য বাতাস অপসারণের ব্যবস্থা করতে হয়। এই ধরনের আগুনে পানি ব্যবহার করা যায়না। পানি ধাতুর সাথে বিক্রিয়া করতে পারে।

আমাদের প্রসঙ্গটা ছিলো পেট্রোলবোমা নিয়ে। ইতোমধ্যেই বুঝতে পেরেছেন, পেট্রোল কোন ক্লাসের আগুন। জ্বি, সঠিক ধরেছেন - class B.  যেহেতু তেল পানির তুলনায় হালকা, তাই এই জাতীয় আগুনে পানি ব্যবহার করলে তা নিভে না যেয়ে বরং ছড়িয়ে পড়তে পারে। এ ধরনের আগুনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকর হচ্ছে বালি অথবা কার্বন-ডাই-অক্সাইড/পাউডার ফায়ার এক্সটিঙ্গুইসার।


পোশাক নির্বাচন ঃ

নিয়ন্ত্রণহীন আগুন যে কতটা ভয়ানক, তা তো একটা পাগলও জানে! এখন আমি বা আপনি তো আর ইচ্ছা করে আগুনের কাছে পুড়তে যাচ্ছিনা। কেউ যখন জোর করেই আমাদের পোড়াতে চাচ্ছে, নিজেকে বাঁচাতে তাই সর্বোচ্চ চেষ্টাটাই করতে হবে। এখন আপনি তো আর পিঠে একটা ফায়ার এক্সটিঙ্গুইসার বা এক বালতি পানি বা একটা বালির বস্তা নিয়ে অফিসের উদ্দেশে রওনা দিতে পারেন না, তাই না?

তার চাইতে বরং আপনার পোশাক টা এমন হতে পারে যা কিছুক্ষণের জন্য হলেও আগুনকে প্রতিরোধ করতে সক্ষম হয়। হ্যাঁ, আগুনকে যদি প্রতিরোধ করতে চান, তাহলে পোশাক নির্বাচনের ক্ষেত্রে আরও একটু বুদ্ধিমান হোন। আগুনের ধর্মই হচ্ছে উপরের দিকে বাওয়া। কাগজ বা কাপড়ে আগুন লাগলে খেয়াল করে দেখবেন আগুন কেবল নীচ থেকে উপরের দিকে উঠে যাবার চেষ্টা করছে। তাই এমন সব ফাইবারের তৈরি পোশাক পরুন যাতে আগুন উপরের দিকে উঠতে বা ছড়িয়ে পড়তে বাধাগ্রস্থ হয়-

> পোশাক পরিধানের পূর্বে fiber declaration দেখে নিন। Acrylic, modacrylic, nylon, olefin, polyester, wool - এই সিনথেটিক ফাইবার গুলো হচ্ছে সব চাইতে নিরাপদ। এই স্পেসিফিক সিনথেটিক ফাইবারগুলোতে আগুন লাগলে আগুন সহজে ছড়িয়ে পড়তে পারে না। একটা নির্দিষ্ট জায়গা পুড়ে নিজে নিজেই নিভে যায়। তাই ১০০% কটনের পোশাক না পরে চেষ্টা করুন কটনের সঙ্গে এই ফাইবারগুলোর কম্বিনেশন রাখার। (যেমনঃ ৫০ঃ৫০/৬০ঃ৪০ কটনঃপলিস্টার ইত্যাদি।)

> ১০০% কটন যদি পড়েনই তবে কাপড়টা যেন একটু ভারী হয় (more than 88.2 GSM), সেই দিকটা খেয়াল করুন। লাইট ওয়েট (খুব বেশি হাল্কা কাপড়ের তৈরি) পোশাক যথা সম্ভব এড়িয়ে চলুন। কটন পড়তে যতটাই আরামদায়ক হোক, এর সবচাইতে খারাপ দিক হচ্ছে একবার আগুন ধরলে ফস করে পুরোটাই পুড়ে যাবে। No mercy.

> Raised surfaced /brushed/sanded/microsanded fabric (কাপড়ের মূল সারফেস থেকে সুতা উঠানো) এই ধরনের স্পেশাল ট্রিটমেন্টের কাপড় flammability test পাশ করেছে কিনা না জানা থাকলে না পড়াই ভাল (নামী দামি ব্র্যান্ডগুলো সাধারণত তাদের পোশাকে flammability test করিয়ে নেয়)। কেননা এই জাতীয় কাপড়ে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। (raised surfaced fabric এর উদাহরণ হচ্ছেঃ টেরি/ফ্রেঞ্চ টেরি/সেরপা/কর্ড/ফ্লানেল ইত্যাদি।)

> সব চাইতে বেস্ট অপশন হচ্ছে ডেনিমের তৈরি পোশাক। ডেনিম অনেক ভারী হওয়ায় সহজে পুড়ে যায় না, আগুন লাগলে বেশ কিছু সময় আপনাকে রক্ষা করবে (যদিও অনেক অফিসের ড্রেসকোডে ডেনিম not allowed)।

> মেয়েরা অপ্রয়োজনীয় ঝুলওয়ালা পোশাক পরিধান না করে এমন পোশাক পরুন যা সহজে গুছিয়ে বসতে বা হাঁটতে পারেন; যেন সহজেই যে কোনো সময় যে কোনো পরিস্থিতিতে দ্রুত যে কোন দুর্ঘটনাস্থল থেকে নিরাপদ দূরত্বে সরে যেতে পারেন। ওড়না সব সময় গুছিয়ে রাখুন।

পোড়ার মাত্রাঃ

এবার পুড়ে যাওয়া ত্বক সম্পর্কে একটু জানি-

মানুষের ত্বক তিনটি ভাগে বিভক্তঃ
১) Epidermis (এপিডারমিস) ত্বকের দৃশ্যমান তলটি হচ্ছে এপিডারমিস।
২) Dermis (ডারমিস) এটি এপিডারমিসের নিচের অংশ।
৩) Subcutaneous fat, ত্বকের সবচেয়ে নিচের অংশকে বলে সাবকিউটেনাস ফ্যাট।

পুড়ে যাওয়ার অংশের ক্ষতির মাত্রার উপর নির্ভর করে বার্নকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
ফার্স্ট ডিগ্রি/সুপারফিসিয়াল:  ফার্স্ট ডিগ্রি বার্নে ত্বকের উপরিভাগ (এপিডারমিস) লাল হয়ে যায়। একে superficial burn বলে। এর সবচেয়ে সাধারন উদাহরণ হচ্ছে সান বার্ন বা অতিরিক্ত সূর্য রশ্মির প্রভাবে ত্বক পুড়ে যাওয়া।

দ্বিতীয় ডিগ্রি/আংশিক পোড়া: সেকেন্ড ডিগ্রি বার্নে ত্বকের উপর ফোস্কা পড়বে। এতে এপিডারমিস ও ডারমিসের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

তৃতীয় ডিগ্রি/সম্পূর্ণ পোড়া: থার্ড ডিগ্রি বার্ন এ ত্বক সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এতে ডারমিস, এপিডারমিস এবং সাবকিউটেনাস ফ্যাট সহ নিচের টিস্যু গুলোও সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে কখনও কখনও হাড় পর্যন্ত পৌছে যায়। এতে মস্তিষ্কে অনুভূতি পৌঁছে দেওয়ার নার্ভগুলোও নষ্ট হওয়ায় সাধার্ণত থার্ড ডিগ্রি বার্ন এরিয়াতে ভিক্টীম কোন ব্যথা অনুভব করেনা কিন্তু সবচাইতে কষ্টকর অংশটুকু হচ্ছে, থার্ড ডিগ্রি বার্নের আশেপাশের এরিয়ার ত্বক যখন সংকুচিত হতে আরম্ভ করে। এই কষ্ট অবর্ণনীয় (কারও যদি জানতে ইচ্ছা হয় কেমন কষ্ট তাহলে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিট ঘুরে আসতে পারেন)।

ফার্স্ট ডিগ্রি বার্নে এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে সেকেন্ড ডিগ্রি বার্নে, প্রাথমিক চিকিৎসার কিছু অপশন থাকলেও অনেক বেশি এরিয়া জুড়ে সেকেন্ড ডিগ্রি বার্ন এবং থার্ড ডিগ্রি বার্নে সরাসরি মেডিকেল ইমারজেন্সি কল করতে হবে।

কেউ পুড়ে যাচ্ছে , আপনার করনিয়ঃ

> তাৎক্ষণিকভাবে source of the burn বা আগুনের উৎসকে অপসারণ করুন।
> আগুন থেকে সরানো হয়ে গেলে সবার আগে পরীক্ষা করুন ভিক্টিমের শ্বাস-প্রশ্বাস ঠিক আছে কিনা।
> কোন রকম স্পর্শ না করে ক্ষতির মাত্রা আগে বোঝার চেষ্টা করুন।
> থার্ড ডিগ্রি বার্নে কোন ধরনের চিকিৎসা দিতে যাবেন না, চেষ্টা করুন পরিষ্কার ভেজা কাপড় দিয়ে পুড়ে যাওয়া অংশ ঢেকে দিতে এবং যতটা দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।
> সেকেন্ড ডিগ্রি বার্নে ভুলেও ফোস্কা গলানোর চেষ্টা করবেন না।
> ফার্স্ট/সেকেন্ড ডিগ্রি বার্নের ক্ষেত্রে সবচাইতে ভাল প্রাথমিক চিকিৎসা হচ্ছে প্রবাহমান পানিতে (running tap water) ১০ মিনিট পোড়া অংশটি শীতল করা। পোড়া অংশে কখনই সঙ্গে সঙ্গে টুথপেস্টউপকারী। ত/মাখন/ক্রিম লাগাবেন না এক্ষেত্রে running tap water হচ্ছে সবচাইতে বেস্ট ট্রিটমেন্ট।

আপনি ভিক্টিম , এখন কি করবেনঃ

আপনি নিজে যদি কখনও এই ধরনের পরিস্থিতির শিকার হন, আপনার ফার্স্ট রিফ্লেক্স হওয়া উচিৎ - মুখ এবং শ্বাসনালীকে আগুনের ক্ষতি থেকে যতটুকু সম্ভব রক্ষা করা। হাত দিয়ে বা ওড়না দিয়ে প্রথমেই মুখ ঢেকে ফেলুন। এই ধরনের পরিস্থিতিতে কখনোই অস্থির হয়ে ছুটোছুটি করবেন না। এমন করলে, গায়ে যদি আগুন লেগে থাকে, তা আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে। সোজা শুয়ে পড়ে গড়াগড়ি খান। কোনো আবদ্ধ ভবনে আগুন লাগলে দুর্ভাগ্যজনকভাবে যদি বার হতে না পারেন এবং আগুনের ধোঁয়ায় বাতাস পূর্ণ হয়ে যায়, তবে উপর হয়ে শুয়ে পড়ুন, ক্রল করে বার হবার চেষ্টা করুন, বা সাহায্যের জন্য অপেক্ষা করুন।

অনেক সময় দেখা যায়, হাতের কাছে ফায়ার এক্সটিঙ্গুইসার (অগ্নিনির্বাপক) থাকা স্বত্তেও শুধুমাত্র ব্যবহারবিধি জানা না থাকায় এটি কাজে লাগাতে পারেন না। নিচের ছবিটি দেখুন এবং ধারাবাহিকভাবে ফলো করুন (একটা গুরুত্বপূর্ণ জিনিস সব সময় খেয়াল রাখবেন। এক্সটিঙ্গুইসারের মুখ তাক করবেন আগুনের উৎসে; কখনোই অগ্নিশিখা বরাবর নয়)...



আর দেয়ার মত কোনো পরামর্শ মাথায় আসছে না। এমন পরিস্থিতিতে আসলে সবচেয়ে বেশি জরুরি হচ্ছে, একজন মানুষের প্রতি আরেকজনের সাহায্য। পৃথিবীর আর যেখান থেকেই মানবিকতা হারিয়ে যায় যাক, আপনার হৃদয়টা যেন মানবিক থাকে। ভাল থাকুন, নিরাপদে থাকুন।
source : Biggan jatra

Tuesday, 17 February 2015

প্রাথমিক চিকিৎসা

প্রাথমিক চিকিৎসা বা ফার্স্ট এইড (ইংরেজি: First aid) নির্দিষ্ট কোন ব্যক্তির শারীরিক অক্ষমতা, ক্ষতিগ্রস্ততা বা আঘাতপ্রাপ্তির প্রেক্ষাপটে সাধারণ জ্ঞানের উপর নির্ভর করে অস্থায়ী চিকিৎসাবিশেষ। দূর্ঘটনাজনিত কোন কারণে আরো গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ততা ও সঙ্কটাপন্ন হবার হাত থেকে রোগীকে বাঁচাতে প্রাথমিক চিকিৎসা অত্যন্ত ফলপ্রসূ ভূমিকা পালন করে থাকে। এর ফলে ভূক্তভোগী ব্যক্তিকে অস্থায়ীভিত্তিতে নিরাপত্তা প্রদান করে উন্নত চিকিৎসার জন্যেহাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। ফলশ্রুতিতে ডাক্তার বা নার্স প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সহযোগিতা করে আঘাতপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে নিজ গৃহে প্রত্যাবর্তন কিংবা অন্য কোন বিশেষায়িত হাসপাতালে দ্রুত প্রেরণের সঠিক নির্দেশনা ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে থাকেন।

প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদানের জন্যে তেমন কোন যন্ত্রপাতি বা চিকিৎসা উপকরণের প্রয়োজন পড়ে না। এর প্রধান কারণ হচ্ছে যে-কোন স্থানে ও সময়ে দূর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। জরুরী চিকিৎসা কর্তৃপক্ষ প্রাথমিক চিকিৎসার উপর আগ্রহী ব্যক্তিদেরকে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন। এর ফলে প্রশিক্ষণ গ্রহণকারী ব্যক্তি নির্দিষ্ট স্থানে তথ্য প্রেরণ করেন ও অ্যাম্বুলেন্স আসার পূর্ব পর্যন্ত রোগীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। 

প্রাথমিক চিকিৎসার মূল উদ্দেশ্য নিম্নবর্ণিত তিনটি বিষয়ের উপর সীমাবদ্ধ -

বিপদাপন্ন ব্যক্তির জীবনকে সংরক্ষণ করা। তাকে সমূহ মৃত্যুর সম্ভাবনা থেকে দূরে সরিয়ে রাখা।
আরো আঘাতপ্রাপ্তি থেকে রক্ষা করা। ভূক্তভোগী ব্যক্তির আঘাত যাতে আরো দ্রুত ছড়িয়ে না পড়ে বা আরো গুরুতর পর্যায়ের দিকে অগ্রসর না হয় সেদিকে নজর রাখা। রক্তপাত বন্ধ করার দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া।
উদ্দীপনা জাগিয়ে তুলে ব্যক্তিকে অজ্ঞান অবস্থায় হাসপাতালে প্রেরণ না করা। আঘাতপ্রাপ্তি তেমন গুরুতর নয় এ বিষয়টি ব্যক্তির অন্তঃমনে প্রবেশ করানো। আরোগ্য লাভের জন্যে ব্যান্ডেজ বা প্লাস্টার প্রয়োগের ন্যায় সাধারণ চিকিৎসা সেবাই অনেকাংশে মূল চিকিৎসায় রূপান্তরিত হতে পারে।

প্রশিক্ষণ
আগ্রহী ব্যক্তিকে প্রাথমিক চিকিৎসার উপর খুবই উঁচুমানের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। সাধারণতঃ প্রশিক্ষণ পর্বটি অভিজ্ঞতাসম্পন্ন চিকিৎসক ব্যক্তিত্ব কর্তৃক পরিচালিত হয়ে থাকে। প্রশিক্ষণের মান, সময়সীমা দেশে-দেশে ভিন্ন হতে পারে। যুক্তরাজ্যে একদিনের জন্যে প্রাথমিক চিকিৎসাবিষয়ক প্রশিক্ষণমালা প্রদান করা হয় এবং কার্যস্থলে চার দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ চলে। প্রশিক্ষণে আঘাতপ্রাপ্তি থেকে আত্মরক্ষা, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা এবং চিকিৎসা প্রদানের ধাপসমূহ অন্তর্ভূক্ত থাকে।

তথ্যসূত্র
"Accidents and first aid". NHS Direct. Archived from the original on 2008-05-03