Monday, 1 August 2016

জাপান কাহিনী -- মাছ চাই না বড়শি চাই?

[জাপান কাহিনী] মাছ চাই না বড়শি চাই? প্রডাক্ট চাই নাকি টেকনোলজি চাই?

এটা একটা জনপ্রিয় চাইনিজ ছোট গল্প।
ছেলে মাছ খেতে চাইলো।
মাছ দিলে, সে একদিনই মাছ খাবে। সাময়িকভাবে খুশি হবে। গদ গদ হয়ে বাবার গলায় ধরে বলবে উঅ আই নি (আই লাভ য়ু)। তুমি এত্তো গুলো ভাল কেন?
বাবা তাকে সেই সুযোগ দিলেন না। মাছ না দিয়ে ধরিয়ে দিলেন একটা বড়শি। মাছ ধরা শিখিয়ে দিলেন।
ছেলের প্রথম কয়েকটা দিন কষ্টে কাটলো। কিন্তু মাছ ধরার টেকনিক টা জানার কারণে সে সারা জীবন মাছ খেতে পারলো।
আপনি কি চাইবেন? মাছ? নাকি মাছ ধরার কৌশল?

(১)
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপানের হাতে কী ছিল? আমেরিকানদের লক্ষ লক্ষ বোমার আঘাতে ঝাঁঝরা হয়ে যাওয়া ৪৭ টা বিভাগীয় শহর ছিল। যোগাযোগ, শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি কোন অবকাঠামোই তো অবশিষ্ট ছিল না। ছিল না তেমন কোন প্রাকৃতিক সম্পদ।
তাহলে? দেশটা গড়ে উঠলো কিভাবে?
তয়োতা, হোন্দা, তোসিবা, সনি, হিতাচি এমন শত শত কোম্পানি কাজ করে দিল নিজেদের লোক দিয়ে। সি,ই, ও থেকে শুরু করে ম্যানেজার, লেবার সবই জাপানি। নিজেদের কর্মদক্ষতা বাড়লো, অভিজ্ঞতা বাড়লো। এই কোম্পানি গুলো কোথাও টেন্ডারে অংশগ্রহণ করলে বা কোন কর্মচারি চাকুরীতে আবেদন করলে কেউ বলতে পারবেনা- যাহ তোদের অভিজ্ঞতা নেই, আগে অভিজ্ঞতা নিয়ে আয়, তারপর প্রজেক্ট/চাকুরী।
বিশ্বব্যাঙ্ক থেকে টাকা ধার নিল। সেই টাকা দিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষা, চিকিৎসার অবকাঠামো তৈরি করলো। শিনকানসেন (পৃথিবীর দ্রুততম ট্রেন) টানলো, বড় বড় শহর গুলোকে হাই ওয়ে দিয়ে কানেক্ট করলো। শত শত ফ্লাই ওভার তৈরি হলো, পাহাড়ের ভেতরে সমুদ্রের নীচে টানেল তৈরি হল। মজার ব্যাপারটি হলো - বিদেশ থেকে কোন লেবার আমদানি করলো না। কোম্পানি গুলোর ম্যানেজার বাইরে থেকে আনলো না।
ধরুন প্রধানমন্ত্রীর কার্যকলাপ ধারণ করার জন্য ক্যামেরা লাগবে। ওনারা তিনজন নয় ছয়জন লোক পাঠাবেন। ক্যামেরা যাচাই বাছাই করার জন্য নয়। ক্যামেরা কিভাবে বানাতে হয় সেই টেকনোলজি শিখে মগজে ভরে আনার জন্য। যেন দেশে এসে শুধু প্রধানমন্ত্রীর জন্যই নয়, সাধারণ জনগণ ও এফোর্ড করতে পারে এমন ক্যামেরা বানাতে পারেন।
জি,ডি,পি হু হু করে বাড়তে লাগলো।
ধারের টাকা ফেরত দিয়ে ২০ বছরের মাথায় আমেরিকাকে, বিশ্বব্যাঙ্ককে উল্টা ঋণী করে ফেললো। শুরু থেকেই জাপান বাইরে থেকে কোন প্রডাক্ট কেনে নি। টেকনোলজি আমদানি করেছে।
মাছ চাইলেই মাছ নয়, মাছ ধরার কৌশলটা শিখিয়ে দাও।
(২)
মালয়েশিয়ার মাহাতির মুহম্মদ জাপানে পড়াশুনা করেছেন। ক্যাপাসিটি বিল্ড করার জাপানিদের এই কৌশলটি শিখে গেলেন। আশি দশকে নব্বই দশকে স্ট্রাটিজিক্যালি দলে দলে মালয় গোস্টি কে বিদেশে পাঠালেন। পড়াশুনার জন্য। স্কিল ডেভেলপমেন্ট এর জন্য। আমেরিকা, ইউরোপ আর জাপান। বিদেশ থেকে ফেরার সাথে সাথেই সেই বিদ্যা কাজে লাগানোর মত জায়গায় সেট করে দিলেন। প্রোডাক্টিভিটি বাড়ল, আয় বাড়ল। ম্যানেজার শ্রেণীর লোক তৈরি হল। বিদেশ থেকে যা আমদানি করলো তা হল লেবার শ্রেণীর লোক। যোগাযোগ, শিক্ষা, চিকিৎসার অবকাঠামো তৈরি হল। নিজের দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বাড়ালেন।
এখন আর ছাত্রদের তেমন বিদেশে যেতে হচ্ছে না। বরং বাইরে থেকে মালয়েশিয়াতে বিদেশি ছাত্র আসা শুরু করেছে।
চিকিৎসার জন্য বাইরে যেতে হচ্ছে না। মাহাতির মুহম্মদ নিজের চিকিৎসার জন্য বাইরে না গিয়ে নিজ দেশে হাসপাতাল বানানোর কিচ্ছা সবার জানা।
আর আমরা আমাদের মন্ত্রী, এমপি দের জন্য বিনা ট্যাক্সে কিভাবে গাড়ি আমদানি করতে পারি সেই পলিসি বানিয়ে দিলাম। অথচ আমাদের প্রগতি, র‌্যাংগস ওনাদের দিয়ে কি গাড়ির ১০% জিনিস ও তৈরি করে শুরুটা করলে কেমন হতো? ইতিমধ্যে মেইড ইন বাংলাদেশ একটা ব্র্যান্ড বেরিয়ে আসতো না? কয়েক হাজার লোকের কর্মসংস্থান হতো না? টেকনোলজি ডেভেলপমেন্ট, স্কিল ডেভেলপমেন্ট হতো না?
জাপানি কোম্পানি গুলো কে ইনভেস্ট করার উইন উইন সিচুয়েশন তৈরি করে দিলেন। জাপানিরা ইনভেস্ট করলেন। গাড়ি কোম্পানি, হোম ইলেক্ট্রনিক্স কোম্পানি। মাহাতির এর দল স্ট্রাটিজিটা এমনভাবে করলেন যাতে টেকনোলজিটা ট্রান্সফার হয়। স্কিল ডেভেলপমেন্ট টা হয়। ৫০ বছরে জাপান যা টেকনোলজি ডেভেলপ করেছে তা যেন ৫ বছরে ট্রান্সফার হয়।
তার ফলাফল দেখেন। ৮৫ এর দিকে মালয়েশিয়ান ব্র্যান্ড এর প্রোটন সাগা (মিতসুবিশি জয়েন্ট ভেঞ্চার) গাড়ি বাজারে এলো।
একটা গণতান্ত্রিক সরকার এই তিনটি কাজই ভাল করবে। অন্য কোন কাজে হাত দিতে গেলেই ব্যর্থতা আসবে। দেশের স্বার্থের চেয়ে দলের স্বার্থকে প্রাধান্য দেবে। রামপাল নিয়ে এতো চিল্লাচিল্লি কেন?
ক্যামেরা থেকে শুরু করে হোম-ইলেক্ট্রনিক্স এর এমন কোন জাপানি প্রোডাক্ট নেই যা মেইড ইন মালয়েশিয়া লেখা নেই। গত সপ্তাহে ম্যানচেষ্টার থেকে জাপানি ফ্লাইটে করে জাপান ফিরছি। মুসলিম হালাল ফুড অর্ডার দিয়ে রেখেছিলাম। দেখি বাক্সে হালাল একটা সিল দেয়া। লেখা Certified by MHCTA (Malaysian Halal Consultation and Training Agency)।


(৩)
একটা দেশে সরকারের রোল কি হতে পারে। সরকারের কাজ তিনটি - (ক) ট্যাক্স কালেক্ট করবে (খ) পলিসি তৈরি করবে, মনিটর করবে আর (গ) রাস্তাঘাট পরিষ্কার রাখবে।
(৪)
স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো শহর । বাংলাদেশের একজন নামকরা অর্থনিতিবিদ গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ান। জেমস ওয়াট নামের যে বৈজ্ঞানিক স্টিম ইঞ্জিন আবিষ্কার করেছিলেন, তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয়েরই একজন ইন্সট্রুমেন্ট মেকার ছিলেন। উনি গ্লাসগো শহরটা ঘুরে দেখালেন। শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থা, ওয়াটার সাপ্লাই, পার্ক, টাউন হল ইত্যাদি। গ্লাসগো সেন্ট্রাল রেলওয়ে স্টেশন টা তৈরি হয়েছে ১৮৭৯ সালে। অন্যান্য অবকাঠামো গুলোও একই সময়ের তৈরি। বৃটিশ সরকার আমাদের দেশ গুলো থেকে ট্যাক্স কালেক্ট করেছেন আর ব্যয় করেছেন জনস্বার্থে। অর্থনিতিবিদ বললেন, আর আমাদের অবস্থা দেখেন- শাহজাহান সাহেব আমাদের অবকাঠামোতে মনোযোগ না দিয়ে বানালেন তাজমহল, নিজের জন্য। জনগণের জন্য নয়। সায়েস্তা খা টাকায় আটমন চাল খাওয়ার ব্যবস্থা করে দিলেন। যারা কিনল তাদের উপকার হলো, কিন্তু যে চাল তৈরি করলো সেই কৃষকের বারোটা বাজলো। আটমন চাল মানে ১৪ মন ধান। ১৪ মন ধান বিক্রি করে মাত্র এক টাকা আয় হতো। গরিব কৃষক গরিবই রয়ে গেল।


(৫)
১৯৯৬ সালের কথা। ভারতে আইটি সেক্টরে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন বেড়েই চলছে। ভারতের সরকার বড় তিনটি কোম্পানির প্রধান দের ডাকলেন। ইনফোসিস, টাটা আর আজিম প্রেমজির উইপ্রো কে। ডেকে বললেন, দেশের উন্নতির জন্য আপনাদের কন্ট্রিবিউশন অনেক। সরকারের কাছে কি আপনাদের কিছু চাওয়ার আছে? তিন কোম্পানিই অবাক হলেন। বললেন, আমাদের একমাস সময় দেন। আমরা একটা লিস্ট দেবো। ওনারা এক সপ্তাহ পরেই একটা উইশ লিস্ট দিলেন। তিন কোম্পানির তিন দাবি- (ক) Stay away from us (খ) Stay away from us (গ) Stay away from us।
আইটি সেক্টরে আমাদের দেশের সরকারের ভূমিকা কি হওয়া উচিত? এ নিয়ে নিশ্চয়ই অনেক গবেষণা হচ্ছে। কোন লিঙ্ক আছে?


জাপানের জাইকা আমাদের অনেক সাহায্য করেন। আমরা খুশি। এই খুশিটাকে স্বল্পমেয়াদী না করে দীর্ঘ মেয়াদী করা চাই। শুনে থাকবেন বছর দুই আগে জাপানি সরকারের সাথে আমাদের ৬০ বিলিয়ন ইয়েন এর একটা চুক্তি সই হয়েছে। বলেন তো দেখি এই টাকা কি সাহায্য? নাকি ধার? ধার নিচ্ছে কে ফেরত দিচ্ছে কে? আমরা যদি ধারই নিয়ে থাকি, তাহলে এই টাকাটা কন্ট্রোল করছে কে? প্ল্যান করছে কে, ইমপ্লিমেন্ট করছে কে? কতটাকার প্রোডাক্ট কিনছি? কত টাকার টেকনোলজি কিনছি? কতটাকার স্কিল ডেভেলপমেন্ট হচ্ছে? টাকাটা ফেরত দিচ্ছি কবে?
জাপান আমাদের একটা বন্ধু দেশ। প্রোডাক্ট না চেয়ে টেকনোলজি চাইলে ওনারা "না" করবেন না। আমরা মাছ চাচ্ছি নাকি মাছ ধরার টেকনোলজি চাচ্ছি, এই সিদ্ধান্ত দেয়ার দায়িত্ব আমাদের।
সুত্রঃ অশির আহমেড

Wednesday, 13 July 2016

বন্ধুত্ব বিষয়ক কিছু বাণী

আমার বন্ধুরা আমার সাম্রাজ্য। 
-এমিলি ডিকেনসন 

দুর্ভাগ্যবান তারাই যাদের প্রকৃত বন্ধু নেই। 
-অ্যারিস্টটল 

আলোতে একাকী হাটার চেয়ে বন্ধুকে নিয়ে অন্ধকারে হাটা উত্তম। 
-হেলেন কিলার 

সবকিছুর শেষে আমরা আমাদের শত্রুদের বাক্য মনে রাখবো না, কিন্তু বন্ধুর নীরবতা মনে রাখবো। 
-মার্টিন লুথার কিং 

বন্ধুত্ব গড়তে ধীরগতির হও। কিন্তু বন্ধুত্ব হয়ে গেলে প্রতিনিয়তই তার পরিচর্যা করো। 
-সক্রেটিস 

বন্ধুদের সংখ্যার ওপর সত্যিকারের বন্ধুত্ব নির্ভর করে না। বরং এটি বন্ধুদের বিশ্বাস ও পছন্দের ওপর নির্ভর করে। 
-স্যামুয়েল জনস্টন 

সত্যিকারের বন্ধুত্ব গাছের ধীরে ধীরে বেড়ে ওঠার মতো বাড়ে। 
-জর্জ ওয়াশিংটন 

বন্ধুত্ব হচ্ছে ডানা বিহীন ভালোবাসা। 
-লর্ড বায়রন 

আমার ভালো বন্ধুদের কথা মনে করে আমি যতোটা সুখী হতে পারি, অন্য কোনোভাবে ততোটা সুখী হতে পারি না। 
-উইলিয়াম শেক্সপিয়ার 

একজন সত্যিকারের বন্ধু তোমাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। 
-অস্কার ওয়াইল্ড 

আমাদের রহস্যময়তার পরীক্ষণে প্রাপ্ত সবচেয়ে সৌন্দর্যময় জিনিসগুলো হলো শিল্প, বিজ্ঞান এবং বন্ধুত্ব। 
-অ্যালবার্ট আইনস্টাইন 

আমরা বন্ধুর কাছ থেকে মমতা চাই, সমবেদনা চাই, সাহায্য চাই ও সেই জন্যই বন্ধুকে চাই। 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 

বন্ধুদের মধ্যে সবকিছুতেই একতা থাকে
-প্লেটো

বন্ধত্ব একমাত্র সিমেন্ট যা সবসময় পৃথিবীকে একত্র রাখতে পারবে
-উইড্রো উইলসন

নিয়তি তোমার আত্মীয় বেছে দেয়, আর তুমি বেছে নাও তোমার বন্ধু
-জ্যাক দেলিল

যদি তুমি মানুষকে বিচার করতে যাও তাহলে ভালবাসার সময় পাবে না
-মাদার তেরেসা

অন্ধকারে একজন বন্ধুর সঙ্গে হাঁটা আলোতে একা হাঁটার চেয়ে ভালো
-হেলেন কেলার

যদি থাকে বন্ধুর মন গাং পাড় হইতে কতক্ষন
-জীবনানন্দ দাশ

ছেলেবেলার বন্ধুরা মেয়েদের ভালোবাসার মতই কোথায় যেন হারিয়ে যায়। ভাবতে অবাক লাগে একেক সময়। মনে হয় যে, বুঝি একরকম ভালোই। তাদের নির্মেদ দেহ আর নির্মেঘ মন নিয়ে কৈশোরের নিবিড় মাধুর্যে মিশিয়ে নিটোল মুক্তোর মতই চিরদিনের স্মৃতির মধ্যে অক্ষয় থেকে যায় তারা - পরে যে কখনও আর ফিরে দেখা দেয় না তাতে জীবনের মতই সুমধুর থাকে, পলে পলে দন্ডে দন্ডে অবক্ষয়ে টাল খায় না, ক্ষয় পায় না।
-শিবরাম চক্রবর্তী

বন্ধু পাওয়া যায় সেই ছেলেবেলায় স্কুল-কলেজেই। প্রাণের বন্ধু। তারপর আর না। আর না? সারা জীবনে আর না? জীবন জুড়ে যারা থাকে তারা কেউ কারো বন্ধু নয়। তারা দু'রকমের। এনিমি আর নন-এনিমি। নন-এনিমিদেরই বন্ধু বলে ধরতে হয়।
-শিবরাম চক্রবর্তী

কাউকে সারা জীবন কাছে পেতে চাও? তাহলে প্রেম দিয়ে নয় বন্ধুত্ব দিয়ে আগলে রাখো। কারণ প্রেম একদিন হারিয়ে যাবে কিন্তু বন্ধুত্ব কোনদিন হারায় না
-উইলিয়াম শেক্সপিয়র

কখনো কোন বন্ধুকে আঘাত করো না, এমনকি ঠাট্টা করেও না
-সিসেরো

গোলাপ যেমন একটি বিশেষ জাতের ফুল, বন্ধু তেমনি একটি বিশেষ জাতের মানুষ
-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

দু'টি দেহে একটি আত্মার অবস্থানই হলো বন্ধুত্ব
-এরিস্টটল

প্রকৃতির সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টির নাম বন্ধুত্ব
-এমারসন

বিশ্বস্ত বন্ধু হচ্ছে প্রাণরক্ষাকারী ছায়ার মতো। যে তা খুঁজে পেলো, সে একটি গুপ্তধন পেলো।
-নিটসে

আমলকি পেয়ালের কুঞ্জে, কিছু মৌমাছি এখনো যে গুঞ্জে জানি কোন সুরে মোরে ভরালে গো বন্ধু
-গৌরী প্রসন্ন মজুমদার

আমরা বন্ধুর কাছ থেকে মমতা চাই, সমবেদনা চাই, সাহায্য চাই ও সেই জন্যই বন্ধুকে চাই
-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

আমার ভালো বন্ধুদের কথা মনে করে আমি যতোটা সুখী হতে পারি, অন্য কোনোভাবে ততোটা সুখী হতে পারি না
-উইলিয়াম শেক্সপিয়র

একজন সত্যিকারের বন্ধু তোমাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে
-অস্কার ওয়াইল্ড

আমাদের রহস্যময়তার পরীক্ষণে প্রাপ্ত সবচেয়ে সৌন্দর্যময় জিনিসগুলো হলো শিল্প, বিজ্ঞান এবং বন্ধুত্ব
-অ্যালবার্ট আইনস্টাইন

বন্ধুত্ব গড়তে ধীরগতির হও। কিন্তু বন্ধুত্ব হয়ে গেলে প্রতিনিয়তই তার পরিচর্যা করো।
-সক্রেটিস

বন্ধুদের সংখ্যার ওপর সত্যিকারের বন্ধুত্ব নির্ভর করে না। বরং এটি বন্ধুদের বিশ্বাস ও পছন্দের ওপর নির্ভর করে।
-স্যামুয়েল জনস্টন

সত্যিকারের বন্ধুত্ব গাছের ধীরে ধীরে বেড়ে ওঠার মতো বাড়ে
-জর্জ ওয়াশিংটন

বন্ধুত্ব হচ্ছে ডানা বিহীন ভালোবাসা
-লর্ড

আমার বন্ধুর জন্যে সবচেয়ে বেশি যা করতে পারি তা হলে শুধু বন্ধু হয়ে থাকা। তাকে দেয়ার মতো কোন সম্পদ আমার নেই। সে যদি জানে যে আমি তাকে ভালবেসেই সুখী, সে আর কোন পুরস্কারই চাইবে না। এক্ষেত্রে বন্ধুত্ব কি স্বর্গীয় নয়?
-হেনরি ডেভিড থিওরো

কোন মানুষই অপ্রয়োজনীয় নয় যতোক্ষন তার একটিও বন্ধু আছে
-রবার্ট লুই স্টিভেন্স

বিশ্বস্ত বন্ধু হচ্ছে প্রাণরাকারী ছায়ার মতো। যে তা খুঁজে পেলো, সে একটি গুপ্তধন পেলো।
-নিটসে

গোপনীয়তা রক্ষা না করে চললে, বন্ধুত্ব টিকে না
-চার্লস হেনরি ওয়েব

আহ্, কী ভালোই না লাগে - পুরনো বন্ধুর হাত
-মেরি এঙলেবাইট

বন্ধুদের মধ্যে সব কিছুতেই একতা থাকে
-প্লেটো

আসবে আবার আশিন-হাওয়া, শিশির-ছেঁচা রাত্রি, থাকবে সবাই - থাকবে না এই মরণ-পথের যাত্রী! আসবে শিশির-রাত্রি! থাকবে পাশে বন্ধু স্বজন, থাকবে রাতে বাহুর বাঁধন, বঁধুর বুকের পরশনে আমার পরশ আনবে মনে- বিষিয়ে ও-বুক উঠবে- বুঝবে সেদিন বুঝবে!
-কাজী নজরুল ইসলাম

তুমি স্বপ্ন বন্ধু উপদেশ গণমানুষ বন্ধুত্ব অনুপ্রেরণা রাত প্রেরণা  বাণী চিত্র
তোমার সখার আসবে যেদিন এমনি কারা-বন্ধ, আমার মতন কেঁদে কেঁদে হয়ত হবে অন্ধ- সখার কারা-বন্ধ! বন্ধু তোমার হানবে হেলা ভাঙবে তোমার সুখের মেলা; দীর্ঘ বেলা কাটবে না আর, বইতে প্রাণের শান- এ ভার মরণ-সনে বুঝ্বে- বুঝবে সেদিন বুঝবে!
-কাজী নজরুল ইসলাম

একাকিত্ব তুমি অনুভুতি অনুভব বেদনা স্বপ্ন বন্ধু উপদেশ অনুভূতি বন্ধুত্ব অনুপ্রেরণা প্রেরণা  বাণী চিত্র
ফুটবে আবার দোলন চাঁপা চৈতী-রাতের চাঁদনী, আকাশ-ছাওয়া তারায় তারায় বাজবে আমার কাঁদনী- চৈতী-রাতের চাঁদনী। ঋতুর পরে ফিরবে ঋতু, সেদিন-হে মোর সোহাগ-ভীতু! চাইবে কেঁদে নীল নভো গা, আমার মতন চোখ ভরে চায় যে-তারা তায় খুঁজবে- বুঝবে সেদিন বুঝবে!

-কাজী নজরুল ইসলাম

আরো......

Saturday, 18 June 2016

প্রেম

প্রেম কি? প্রেম মানেই কি শুধু মুখের ভালবাসা? প্রেমে শরীরও আসে। আপনি যতই ওই শরীরটাকে খারাপ চোখে দেখেননা কেন এটিই বাস্তবতা। প্রেম করার সময় আপনার নিজেরও মনে হবে আজ ভালবাসার মানুষটি একটু কাছে পাই, একান্তে কিছু সময় কাটাই। কতজন আছে বুকে হাত দিয়ে বলতে পারেন যে প্রেমিক/প্রেমিকার সাথে ফোনে কথা বলেছেন অথচ ১বারের জন্যও সেস্কুয়াল আলাপ করেন নি? প্রেম করা, শারিরিক সম্পর্ক করা, সেস্কুয়াল আলাপ করা এগুলোর মধ্য দোষের কিছু না। উভয়ের মধ্য সম্মতি থাকলে দোষের কিছু নেই। উভয়ে প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ। একজন মানুষ ভালবেসে, বিশ্বাস করেই তার ব্যাক্তিগত তথ্য শেয়ার করে বা শেয়ার করতে দেয় । প্রেম ভাঙ্গার পরে আপনার কোন অধিকার নেই সেই তথ্য প্রকাশ করার ।। প্রকাশ করাটা নির্যাতনের আয়তায় পরে । আমাদের দেশে ছেলেরা প্রেম করে খুব উচু গলায় বলে "ওয়ি মাইয়ারে খাইয়া দিছি" কথাটা আমার বন্ধুদের মুখেও অনেকবার শুনেছি । কথা বলার সময় কেমন একটা আনন্দ ।। ভাই তুমি কথাটা বলে যেমন আনন্দ পেলে মেয়েটা কথাটা তেমন ভাবে নিতে পারবেনা ।। এমনকি বন্ধুরা ও ওয়ি মেয়ের ব্যপারে অশ্লীল ভাবা শুরু করবে। তথ্যটা তখন শুধু মেয়েটার জন্য দুর্নামেরই হবেনা তার জন্য পরবর্তিতে সামাজিক সমস্যা হবে । আমাদের দেশে একটা মেয়ের ভার্জিনিটি নেই কথাটা অভিশাপ বা জঘন্য ধরা হয় (উপযুক্ত শব্দ দিতে পারলাম না ) । একটা ছেলে যদি হাজার মেয়ের সাথে সম্পর্ক করে কোন সমস্যা নেই ।। সেখানে একটা মেয়ের সেক্সুয়ালিটি নিয়ে এত কথা কেন । পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এটাই স্বাভাবিক । এখন কিছু বললেই কেউ বলবে ধর্মের বাইরে কথা বলে ,সমাজের বাইরে কথা বলে ।। যেইসব বিপবিপ পোলারা দেশ প্রেম নিয়ে এত কথা বলে তারাও ভার্জিন মেয়ে খোঁজে। অনেক উদাহরণ দেখেছি , বিয়ের রাতে বউ ভার্জিন না বুঝে সংসার শেষ । এমন হয় । আমাদের মাথায় ছোট থেকেই এই বোঝানো হয় মেয়ে মানে ঘরে থাকবে , পর পুরুষের সাথে কথা বলা যাবেনা, কাপর চোপর ঠিক রাখতে হবে , বারির বাইরে রাত কাটানো মেয়েদের জন্য অসম্ভব সেটা যতই বিশ্বাসের ব্যক্তি বা বন্ধুদের সাথে হক ।
আসলে এমন কথা লিখলে অনেক লেখা যায় । মুল কথা হচ্ছে দেশের অর্ধেক ছেলে অর্ধের মেয়ে ।। মেয়েরা যত দিনে ছেলেদের মত স্বাধীন হবে তত দিনে দেশ উন্নত হতে শিখবে,নাহলে এত দেশ প্রেম দেশ প্রেম করার দরকার নাই (স্বাধীন বলতে- না থাকবে ধর্ষনের ভয়, না থাকবে রাতে চলাচলের ভয় , রাত নিয়ে চিন্তার ভয়-আরো অনেক আছে } আমরা আসলে স্বাধীন দেশে নেই , আমরা স্বাধীন দেশের নাগরিক না।
প্রেম শব্দটা নিয়ে খুব খেলা চলে, প্রেম করার নামে ধর্ষণ চলে ।

(অনেক কিছু লিখতে চাইলাম পারলাম না)

Sunday, 22 May 2016

গাঁজা খাওয়ার ৯ উপকার কী কী?

গাঁজার নেশা হলে, সে নেশা বাড়াবাড়ি পর্যায়ে গেলে জীবনে বিপদ ডেকে আনতে পারে৷ তবে, গবেষকরা বলছেন পরিমাণমতো গাঁজা ওষুধ হিসেবে সেবন করলে নাকি অনেক উপকার৷ বিজ্ঞানীদের বাতলে দেওয়া এমনই নয়টি উপকার তুলে ধরা হল এই প্রতিবেদন!
1. মৃগীরোগ কমায়
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া কমনওয়েলথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা ২০১৩ সালেই জানিয়েছেন, মারিজুয়ানা বা গাঁজা একটি নির্দিষ্ট মাত্রায় নিলে মৃগী বা এই ধরণের কিছু স্নায়ুরোগ থেকে দূরে থাকা যায়৷ বিজ্ঞান বিষয়ক সাময়িকী জার্নাল অফ ফার্মাকোলজি অ্যান্ড এক্সপেরিমেন্টাল থেরাপিউটিক্সে ছাপাও হয়েছে তাদের এই গবেষণালব্ধ তত্ত্ব৷
2. গ্লুকোমা দূরে রাখতে সহায়তা করে
এই বিষয়টি তো প্রায় দশ বছর আগে জানা গিয়েছে৷ যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল আই ইন্সটিটিউট জানিয়েছিল মারিজুয়ানা গ্লুকোমার ঝুঁকিও কমায়৷ গ্লুকোমা চোখের এমন এক রোগ যা চির অন্ধত্ব ডেকে আনে৷
3. আলৎসহাইমার শত্রু
দ্য জার্নাল অফ আলৎসহাইমার’স ডিজিজে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মারিজুয়ানা মস্তিষ্কের দ্রুত নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়াও রোধ করে৷ আর এভাবে আলৎসহাইমার ঝুঁকিও কমাতে পারে মারিজুয়ানা৷ তবে মারিজুয়ানা ‘ওষুধ’ হলেই রোগ সারাবে, কারও নিয়ন্ত্রণহীন আসক্তির পণ্য হলে নয়৷
4. ক্যানসারেরও ‘অ্যানসার’!
এই বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র সরকারিভাবেই স্বীকার করেছে৷ ২০১৫ সালে সেই দেশের ক্যানসার বিষয়ক ওয়েবসাইট ক্যানসার অর্গ-এ জানানো হয়, মারিজুয়ানা অনেক ক্ষেত্রে টিউমারের ঝুঁকি কমিয়ে ক্যানসার প্রতিরোধকেরও ভূমিকা পালন করে৷
5. কেমোথেরাপির ক্ষতি কম
ইউএস এজেন্সি ফর ড্রাগ জানিয়েছে, মারিজুয়ানা ক্যানসার রোগীর রোগযন্ত্রণা অন্যভাবেও কমায়৷ ক্যানসার রোগীকে এক পর্যায়ে কেমোথেরাপি নিতে হয়৷ কেমোথেরাপির অনেক পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া৷ মারিজুয়ানা কেমোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াজনিত অনেক ক্ষতি লাঘব করে৷
6. স্ট্রোক কম হয়
এটি যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অফ নটিংহ্যামের গবেষকদের উদ্ভাবন৷ তাঁরা গবেষণা করে দেখেছেন, মারিজুয়ানা মস্তিষ্ককে সুস্থ রাখতেও সহায়তা করে৷ ফলে স্ট্রোক-এর ঝুঁকি কমে৷
7. গাঁজা মাল্টিপল সক্লেরোসিসবিরোধী
মানুষের স্নায়ুতন্ত্রে একটি বিশেষ স্তর ক্ষতিগ্রস্থ হলে ‘মাল্টিপল সক্লেরোসিস’ বা এমএস নামের এক ধরণের স্নায়ুরোগ হয়৷ ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী মারিজুয়ানা সেবন করলে এই রোগের ঝুঁকিও কমে৷
8. ব্যথা নিরোধ
ডায়াবেটিস চরম রূপ নিলে রোগীদের অনেক সময় হাত-পা এবং শরীরের নানা অংশে জ্বালা-যন্ত্রণা হয়৷ ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়ার গবেষকরা বলছেন, ক্যানাবিস সেই যন্ত্রণা লাঘব করতে সক্ষম৷
9. হেপাটাইটিস ‘সি’-র পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কমায়
হেপাটাইটিস সি-র পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও কমায় মারিজুয়ানা৷ নির্দিষ্ট মাত্রায় ওষুধের মতো গাঁজা সেবন করিয়ে দেখা গিয়েছে এই রোগে আক্রান্তদের শতকরা ৮৬ ভাগেরই পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া অনেক কমেছে৷
সুত্র: Webmd Drugfreeworld , Bustle , Perkel

Friday, 15 April 2016

মৃত্যুর পর কী হয়?

মৃত্যুর পর মানুষের অস্তিত্ব থাকে না। স্বকীয়তা, পরিচিতি সবকিছুই শেষ হয়ে যায় মৃত্যুর পর পর। প্রাচীন গ্রীক দার্শনিকরা যখন দেখতে পেলেন জীবন আর মৃত্যুর মধ্যে পার্থক্যটা শুধু এটুকুই, তারা সিদ্ধান্ত নিলেন, মৃত্যুর পর নিশ্চয়ই দেহ থেকে কিছু চলে যায়, আর সে জিনিসটাই জীব আর জড়ের মধ্যে পার্থক্য, যা মানুষকে স্বকীয়তা দেয়, পরিচিতি দেয়। চীনা “চী”, জাপানি “কী”, পলিনেশিয়ান “মানা” এসব ধারণা এই ব্যাপারটাকে ঘিরেই গড়ে উঠেছে। এই জিনিসের উপর ভিত্তি করেই গড়ে উঠেছে অনেক “ism”।
মৃত্যুর পর কী “হতে পারে” আমরা জানি না। তবে বিজ্ঞান জানে মৃত্যুর পর কখন শরীরে কী হয়। আসুন দেখে নিই বিজ্ঞান নিশ্চয়তার সাথে কী বলে-
মৃত্যুর পর অতিবাহিত সময়ের উপর ভিত্তি করে ধাপগুলোকে মোটামুটি  এরকম-
  • মৃত্যুর কয়েক সেকেন্ড পরে মস্তিষ্কের কার্যকলাপ অনেক বেড়ে যায়, আর পরে সব শেষ হয়ে যায়।
  • মৃত্যুর কয়েক সেকেন্ড পরে শরীরের তাপমাত্রা ১.৬ ডিগ্রী ফারেনহাইট কমে গিয়ে কক্ষ তাপমাত্রার সমান হয়ে যায়।
মৃত্যুর কয়েক মিনিট পরে শরীরের কোষগুলো অক্সিজেনের অভাবে মারা যায় আর তারা ভেঙে যেতে থাকে, আর এভাবে পচন প্রক্রিয়া শুরু হয়। 



  • কয়েক ঘণ্টার মাথায় শরীরের পেশীগুলোতে ক্যালসিয়াম বাড়তে থাকে, আর এর ফলে পেশীগুলোতে চাপ পড়ে এবং শরীর একটা অবস্থায় শক্ত হয়ে যায়। এই অবস্থাকে বলে “Rigor Mortis”, এটা ৩৬ ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
  • এই প্রক্রিয়া শেষ হয় পেশীর শ্রান্ত হওয়া দিয়ে, এই অবস্থায় আপনার শরীরে জমা থাকা বর্জ্য পদার্থ বের হয়ে যায়।
  • আপনার মৃত চামড়া শুকিয়ে যেতে থাকে, যার ফলে আপনার চুল আর নখকে দেখতে বড় মনে হয়।
  • মহাকর্ষের টানে আপনার রক্ত নিচের দিকে চলে যায়, ফলে আপনাকে লাল ছোপ ছোপ দাগসহ ফ্যাকাশে দেখায়।
  • মৃত্যুর কয়েক দিন পরে আপনার শরীরের কিছু জায়গা সবুজ হয়ে যায়, আপনার অঙ্গে থাকা এনজাইমগুলো নিজেদের হজম করা শুরু করে, সাধারণত ব্যাকটেরিয়াদের সাহায্য নিয়ে।
  • আপনার পচতে থাকা শরীর থেকে দুর্গন্ধ বের হয়, কারণ সেখানে Putrescine [NH₂(CH₂)₄NH₂] সৃষ্টি হয়।
  • মৃত্যুর কয়েক সপ্তাহ পরে আপনার শরীরের ৬০% শূককীটেরা হজম করে ফেলে।
  • আপনার রঙ তখন বেগুনী থেকে কালো হতে থাকে। কারণ, ব্যাকটেরিয়ারা আপনার মৃতদেহকে পচাতে থাকে।
  • আপনার শরীর যদি ৫০ ডিগ্রী ফারেনহাইট তাপমাত্রায় রাখা হয় চার মাসের মাথায় আপনার শরীরের নরম কলা পচে যাবে, আর শেষ পর্যন্ত বাকি থাকবে আপনার কংকাল।
  • সুত্র: google image ,Bigganjatra , Blog




Friday, 11 March 2016

ব্ল্যাক হোল (কৃষ্ণ গহ্বর)

ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণ গহ্বর কি?
দৃশ্যমান মহাবিশ্বে (The observable Universe) রয়েছে কমপক্ষে ১০০ বিলিওন গ্যালাক্সি (ছায়াপথ)। প্রতিটা গ্যালাক্সিতে রয়েছে ১০০ বিলিওন থেকে ১০০ ট্রিলিওন তারকা। সৃষ্টির শুরু থেকেই এই তারকা গুলোতে প্রতিনিয়ত ঘটে চলছে ভয়ানক বিস্ফোরণ। নিউক্লিয়ার ফিউশন রিয়াকশনের কারণে এই বিস্ফোরণ হয়ে থাকে। একাধিক হাইড্রোজেন পরমানু একত্রিত হয়ে হিলিয়াম তৈরি করে আর প্রচন্ড বিস্ফোরণের সাথে এনার্জী হিসাবে নির্গত করে আলো, তাপ, তেজস্ক্রিয়তা ইত্যাদি। কিন্তু তারকাদের এই জ্বালানি (হাইড্রোজেন) এক সময় শেষ হয়ে যায়। বিস্ফোরণ, আলো, তাপ কিছুই দেওয়ার ক্ষমতা থাকে না। তখন সুর্যের চেয়ে ১০-১২ গুন বা আরও বেশি ভর বিশিষ্ট তারকা গুলো প্রচন্ড বিস্ফোরণের সাথে নিভে যায়। এই নিভে যাওয়া তারকা গুলোকেই ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণ গহ্বর বলা হয়।

ব্ল্যাক হোলের সৃষ্টি কিভাবে হয়?
ব্ল্যাক হোল হচ্ছে মহাবিশ্বের সবচেয়ে অদ্ভুত সৃষ্টি গুলোর মধ্যে একটা। তারকা গুলোর মধ্যে যখন ভয়ানক বিস্ফোরণ চলতে থাকে তখন এর মধ্যে প্রচন্ড একটা বহির্মুখী চাপ (radiation) সৃষ্টি হয় যা বিস্ফোরণে সৃষ্ট বস্তুগুলোকে (particles) বাহিরের দিকে ঠেলতে থাকে। একই সাথে তারকা গুলোর ভিতরে থাকে প্রচন্ড শক্তিশালী মধ্যাকর্ষণ শক্তি যা ওই বস্তু গুলোকে ভিতরের দিকে টানতে থাকে যার কারণে তৈরী হয় একটা সুষম ব্যালেন্স (সমতা) যা চলতে থাকে বিলিওন বিলিওন বছর ধরে। কিন্তু মূল জ্বালানী হাইড্রোজেন হিলিয়ামে রুপান্তরিত হতে হতে এক সময় একেবারে নিঃশেষ হয়ে যায়। তখন বাকি থাকে শুধুই হিলিয়াম। যেহেতু ফিউশন রিয়াকশন তখনো চলতে থাকে, তাই তখন হিলিয়ামের বিভাজন ঘটিয়ে এই প্রক্রিয়া চালু রাখা হয়। কিন্তু এক সময় হিলিয়ামও শেষ হয়ে যায়। তখন পর্যায়ক্রমে কার্বন আর অক্সিজেনের বিভাজন ঘটিয়ে শক্তি উৎপাদনের প্রক্রিয়া চালু রাখা হয়। 

আমাদের সূর্যের মত ছোট তারকা গুলো মোটামুটি এখানেই থেমে যায়। যথেষ্ট ভর না থাকায় এরা আর কোন বিক্রিয়া চালাতে সক্ষম হয় না। আর তখনই মৃত্যু ঘটে এই তারকার। এই অবস্থায় এদেরকে বলা হয় White Dwarf. ফিউশন প্রক্রিয়া না চললেও অত্যাধিক তাপ মাত্রার কারণে এরা জ্বলজ্বল করে। বিলিওন বিলিওন বছর পরে এগুলো নীরবে ঠান্ডা হয়ে অন্য অবস্থায় রুপান্তরিত হয় যাকে বলা হয় Planetary Nebula বা নীহারিকা। পরবর্তীতে এসব নীহারিকা থেকেই সৃষ্টি হয় নতুন নতুন গ্রহ নক্ষত্রের।

সুর্যের চেয়ে সামান্য বড় বা কয়েক গুন বড় তারকা গুলো আরও কয়েক ধাপে ফিউশন প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এদের মধ্যাকর্ষণ বল যথেষ্ট শক্তিশালী হয় ইলেক্ট্রন আর প্রোটণকে প্রচন্ড চাপে নিউট্রন আর নিউট্রিনোতে পরিণত করার জন্য। নিউট্রিনো অন্যন্ত গতিশীল হওয়ার কারণে এরা শূণ্যে হারিয়ে যায়, রয়ে যায় শুধু নিউট্রন। নিউট্রনকে ভেঙ্গে এনার্জী উৎপাদন করার মত যথেষ্ট শক্তি না থাকায় এই তারকা গুলো এখানেই থেমে যায়। এই অবস্থায় এদেরকে বলা হয় Neutron Star. এদের ঘনত্ব এত বেশি হয় যে এক চা চামচ নিউট্রন স্টারের ভর পুরো মাউন্ট এভারেস্টের ভরের সমান। নিউট্রন স্টারের ভিতরে কিছু কিছু প্রোটণ আর ইলেক্ট্রন তখনো পর্যন্ত অবশিষ্ট থেকে যায় যা এর মধ্যে একটা শক্তিশালী Magnetic field তৈরী করে। Neutron Star গুলো প্রচন্ড গতিতে ঘুরতে থাকে যা কিনা নিজ অক্ষে মিনিটে ৪০ হাযার বার পর্যন্ত হতে পারে। প্রচন্ড ঘুর্ণন গতি আর শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্রের (Magnetic field) কারণে নিউট্রন স্টার থেকে প্রচন্ড শক্তিশালী আলোক রশ্মি নির্গত হয় যা লাইট হাউজের আলোর মত কিছুক্ষন পর পর দেখা যায়। মনে হয় আলোটা জ্বলছে নিভছে। এই ধরণের নিউট্রন স্টারকে বলা হয় Pulsar.

কিন্তু সুর্যের চেয়ে ১০-১২ গুন বা তারও বেশি ভর বিশিষ্ট তারকা গুলো তখন পর্যন্ত ফিউশন প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এরা নিউট্রনকে ভেঙ্গে এনার্জী উৎপাদন করে বিক্রিয়া চালু রাখে। এভাবে পর্যায়ক্রমে পিরিওডিক টেবিলের সিলিকন, অ্যলুমিনিয়াম, পটাসিয়াম বিভাজন করতে করতে এক সময় লোহায় এসে থামে। যেহেতু লোহা বিভাজন করে কোন এনার্জী উৎপাদন করা সম্ভব হয় না তাই মুহুর্তেই ওই তারকার বহির্মুখী চাপ উৎপাদনকারী রেডিয়েশন বন্ধ হয়ে যায় আর রয়ে যায় শুধু মধ্যাকর্ষণ শক্তি।

যেহেতু অন্তর্মুখী বল (মধ্যাকর্ষণ শক্তি) ছাড়া অন্য কোন শক্তি তখন আর কার্যকর থাকে না তাই তারকার ভিতরকার ব্যালেন্স নষ্ট হয়ে যায় আর এক সেকেন্ডের মিলিওন ভাগের এক ভাগ সময়ের মধ্যে পুরা তারকা তার নিজের ভিতরেই collapse করে বা ভেঙ্গে পরে। ভেঙ্গে পরার মুহুর্তে তার বহির্ভাগে এক ভয়াবহ বিস্ফোরণ হয় যাকে বলা হয় Super Nova. আমাদের সূর্যের চেয়ে অনেক বেশি বড় তারকা (Super massive Stars) গুলোর ক্ষেত্রে এই বিষ্ফোরণকে বলা হয় Hyper Nova. এই বিষ্ফোরণ গুলো বিশ্ব ভ্রক্ষান্ডের সবচেয়ে বড় ও উজ্জ্বলতম বিস্ফোরণ হয় যার প্রথম ১ সেকেন্ডে যে পরিমান এনার্জী নির্গত হয় তা আমাদের সুর্যের সারা জীবনে (নিভে যাওয়ার আগ পর্যন্ত) নির্গত সব এনার্জীর চেয়ে ১০০ গুন বেশি হয়ে থাকে।

অন্য দিকে ভয়াবহ মধ্যাকর্ষণ বলের চাপে তারকাটা ছোট হতে হতে তার নিজের আয়তনের ট্রিলিওন ট্রিলিওন ভাগের এক ভাগের সমান আকৃতি ধারণ করে।
(নোটঃ ভর ঠিক রেখে পৃথিবীকে ছোট করতে করতে যদি একটা চীনা বাদামের সমান করা যায় তাহলে ওই চীনা বাদামটা হবে পৃথিবীর ব্ল্যাক হোল।)
যার ফলে এর ভিতরের ঘনত্ব আর মধ্যাকর্ষণ বল অসীম আকার ধারণ করে আর সৃষ্টি হয় এক নতুন ব্ল্যাক হোল। বিজ্ঞানীরা এই অবস্থাকে বলে Singularity যেখানে সময় আর স্পেস হয়ে পড়ে অর্থহীন আর চিরাচরিত কোয়ান্টাম ফিজিক্সের সব সূত্র অকেজো হয়ে যায়। বিষ্ফোরণের পর মুহুর্তেই নব্য সৃষ্ট এই ব্ল্যাক হোলের দুই পাশ দিয়ে দুটো এনার্জী জেট (Super heated Particles) দুই দিকে ছুটে যেতে থাকে আলোর গতিতে। চলার পথে এদের সংস্পর্শে আসা সব কিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এই জেটকে বলা হয় Gamma ray burst. ব্ল্যাক হোলের ভিতরে মধ্যাকর্ষণ শক্তি এতই বেশি থাকে যে এর সীমানার (Event Horizon) মধ্যে যা কিছু আসে তার সবই এর ভিতরে হারিয়ে যায়। এমনকি আলোও এর আকর্ষণ থেকে বেরিয়ে আসতে পারে না যার কারণে ব্ল্যাক হোল কখনো দেখাও যায় না। এজন্যই এর নাম করণ করা হয়েছে ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণ গহ্বর।

টুকিটাকি
প্রায় প্রত্যেকটা গ্যালাক্সির কেন্দ্রে থাকে অত্যন্ত বিশাল আকৃতির শক্তিশালী একটা করে ব্ল্যাক হোল যেগুলো সৃষ্টি হয়েছে বিশ্ব ভ্রক্ষান্ড সৃষ্টির (Big Bang) সাথে সাথেই। কেন্দ্রের এই Super Massive ব্ল্যাক হোল গুলো পরবর্তীতে নতুন গ্যালাক্সি তৈরীতে সাহায্য করে। ক্ষেত্র বিশেষে এরা এত বড় হয় যে এ যাবত আবিষ্কৃত সকল ব্ল্যাক হোলের মধ্যে সবচেয়ে বড় ব্ল্যাক হচ্ছে আমাদের সুর্যের চেয়ে ৪০ বিলিওন গুন বড় (by mass, till 2015)। আমাদের নিজস্ব গ্যালাক্সি মিল্কি ওয়ের কেন্দ্রেও রয়েছে একটি Super massive ব্ল্যাক হোল যা আমাদের সৌর জগৎ থেকে প্রায় ২৬ হাযার আলোক বর্ষ (light years) দূরে যার আকৃতি সুর্যের চেয়ে প্রায় ৪০ লক্ষ গুন বড়।
(নোটঃ আলোক বর্ষ বা light year কোন বছরের হিসাব না। এটা একটা দূরত্বের একক, মাইল, কিলোমিটারের মত। আলোর গতি সেকেন্ডে প্রায় ১ লাখ ৮৬ হাযার মাইল বা ৩ লক্ষ কিলোমিটার। আলোর গতিতে ১ বছর চললে যে দূরত্ব অতিক্রম করা যাবে, ওই দূরত্ব কে ১ আলোক বর্ষ বা 1 light year বলা হয়।)
শক্তিশালী চৌম্বকিয় আবেশের কারণে এই ব্ল্যাক হোল গুলোর চার পাশে জমে থাকা ধুলো কণার মেঘ, গ্যাস ইত্যাদি প্রচন্ড উত্তপ্ত হয়ে শক্তিশালী x-ray আর radio wave তৈরী করে যা এর দুই পাশ দিয়ে প্রচন্ড গতিতে রেডিয়েশন জেট বীম আকারে নির্গত হতে থাকে। এই বীম গুলো পার্শবর্তী গ্যালাক্সির ধুলো কণার মেঘ, গ্যাস ইত্যাদিকে প্রচন্ড চাপ ও তাপে উত্তপ্ত করে যার ফলে পরবর্তীতে ওই গ্যালাক্সিতে নতুন নতুন তারকারাজির সৃষ্টি হয়। একে বলা হয় AGN বা Active Galactic Nucleus. সব গ্যালাক্সিতে AGN থাকে না, যেমন আমাদের কেন্দ্রীয় ব্ল্যাক হোলের কোন AGN নেই। আমরা যখন আমাদের অবস্থান থেকে এই জেট গুলোকে উল্লম্ব ভাবে দেখি তখন একে বলা হয় Radio Galaxy. যখন কোন অ্যাঙ্গেল থেকে দেখি তখন একে বলা হয় Quasar বা কোয়াশার। আর যখন আমরা সরাসরি আলোর উৎস বরাবর জেটের কেন্দ্রের দিকে দেখি তখন একে বলা হয় Blazar. মূলত একই অবজেক্টের ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি আর অবস্থানের কারণে ভিন্ন ভিন্ন নাম হয়ে থাকে।

ব্ল্যাক হোলের মৃত্যু
ব্ল্যাক হোল নিজেই একটা মৃত তারকা, তারও আবার মৃত্যু আছে?
আছে। যে জিনিষের শুরু আছে তার অবশ্যই একটা শেষ আছে। ব্ল্যাক হোলেরও মৃত্যু হয়।
আমরা জানি যে ব্ল্যাক হোলের মধ্যাকর্ষণ বল এতই শক্তিশালী যে এর ভেতর থেকে কোন কিছুই (এমনকি আলোও) বেরিয়ে আসতে পারে না। যত বেশি অবজেক্ট ব্ল্যাক হোলের ভেতরে হারিয়ে যাবে, ব্ল্যাক হোলের আকৃতি দিনে দিনে ততই বড় হবে। তবে astrophysicist স্টিফেন হকিং এর মতে, ব্ল্যাক হোলও কিছু জিনিষ নির্গত করে, আর তা হচ্ছে রেডিয়েশন। তার মতে, ব্ল্যাক হোল থেকে প্রতিনিয়ত রেডিয়েশন বিকির্ণ হতে হতে এক সময় (বিলিওন ট্রিলিওন বছর) ব্ল্যাক হোল শূণ্যে মিলিয়ে (Evaporate) যাবে।
মহাশূন্যের প্রতিটা জায়গায় মূহুর্তে মূহুর্তে স্বল্প সময়ের জন্য ধণাত্মক ও ঋণাত্মক ভর যুক্ত sub atomic particles তৈরী ও ধ্বংস হচ্ছে। এই প্রক্রিয়া যখন ব্ল্যাক হোলের Event Horizon এর আসে পাশে হয় তখন ধণাত্মক ভর বিশিষ্ট particles গুলো অত্যাধিক শক্তিশালী হওয়ার কারণে বিকিরিত হয়ে যায়। বিকিরণের এই তত্বকে বলা হয় Hawking Radiation. অন্য দিকে ঋণাত্মক ভর বিশিষ্ট particles গুলো ব্ল্যাক হোলের শক্তিশালী মধ্যাকর্ষণের কারণে এর ভিতরে পড়ে হারিয়ে যায়। ঋণাত্মক ভর বিশিষ্ট হওয়ার কারণে এরা ব্ল্যাক হোলের ভর খানিকটা কমিয়ে দেয়। এভাবে বিলিওন ট্রিলিওন বছর ধরে একই প্রক্রিয়া চলতে চলতে এক সময় ব্ল্যাক হোলের ভরও শুণ্য হয়ে যাবে আর মৃত্যু হবে ব্ল্যাক হোলের।

কিন্তু হকিং এর এই সমাধান বিজ্ঞানীদের বড় এক প্রশ্নের সম্মুখীন করে। ব্ল্যাক হোল যদি এভাবে একদিন শূণ্যে মিলিয়ে যায় তাহলে এর ভিতরের সব তথ্যও এর সাথে চিরতরে হারিয়ে যাবে যা চিরাচরিত কোয়ান্টাম মেকানিক্সের মৌলিক বিধানের সম্পূর্ন পরিপন্থী। কোয়ান্টাম মেকানিক্সের বিধান মতে বিশ্বভ্রক্ষান্ডে এনার্জী সব সময় সমান থাকবে। একে কখনো তৈরী বা ধ্বংস করা যাবে না। আর এজন্যই হকিং এর থিওরি নতুন এক প্রশ্নের সৃষ্টি করে যাকে বলা হয় Black Hole Information Paradox. তাহলে এর সমাধান কি?
এই সমস্যা সমাধানের প্রেক্ষিতে সম্প্রতি হকিং নতুন এক তত্ত্ব প্রদান করেন। তার মতে, যেসব তথ্য ব্ল্যাক হোলের ভিতরে হারিয়ে যায় তার কোন কিছুই এর কেন্দ্রে অবস্থান করে না বরং অবস্থান করে তার Event Horizon এর মধ্যে। তার মতে, এই তথ্য গুলো সংরক্ষিত হয় হলোগ্রামের আকারে। একে বলা হয় Holographic Principle. এই তত্ত্ব মতে, ত্রিমাত্রিক কোন বস্তুর ভিতরের প্রত্যেকটা তথ্য, দ্বিমাত্রিক তথ্য হিসেবে সংরক্ষন করা সম্ভব যার মানে হচ্ছে যে তথ্য গুলো হারিয়ে যাছে না বরং অন্য অবস্থায় রুপান্তরিত হয়ে যাচ্ছে। তবে বিজ্ঞানীরা এখনো খুঁজে বের করতে পারেননি যে কিভাবে ওই তত্ত্ব ব্ল্যাক হোলের Event Horizon থেকে বেরিয়ে আসতে পারে। আমরা হকিং এর পরবর্তি গবেষণা গুলোর জন্য অপেক্ষা করি আর দেখি তিনি এই সমস্যার যুক্তিযুক্ত কোন সমাধান বের করতে পারেন কিনা।
সুত্র ঃ রচনা-- MK , MAMUN KHANDAKER ,

Friday, 4 March 2016

ঘুমনোর দায় পরেছে

শহরে এখন নিস্তব্ধতার মেঘ জমেছে,
আকাশ ও তারা নিভিয়ে ঘুমিয়ে পরেছে,
আমার ও ঘুমানোর সময় হয়েছে,
ঘুম না আসলে দোষটা তোমার,
অন্য কারো দোষ দেয়ার দায় সেরেছে, 
ঘুম না আসলে স্বপ্ন দেখো ,
তোমার ঘুমনোর দায় পরেছে ।

Thursday, 3 March 2016

নতুন আতংকঃ জিকা ভাইরাস

সুদূর অতীত থেকেই প্রকৃতি মানুষের জীবনকে প্রাণপাচুর্যে পরিপূর্ণ করে রেখেছে। মানুষ আর প্রকৃতি এক অটুট বন্ধনে আবদ্ধ তাই মানুষের উপর প্রকৃতির ঋণাত্মক প্রভাব ও হয় খুব ভয়ংকর। প্লেগ, কলেরা, বসন্তের মতোন দুর্যোগগুলো মানব সম্প্রদায়কে যে বিপর্যয়ের সম্মুখীন করেছিল জিকা ভাইরাস যেন তার স্মৃতি মনে করিয়ে দিতেই নতুন এক আতংকের নাম হিসেবে পদার্পণ করেছে পৃথিবীর বুকে।

জিকা ভাইরাস কী?



জিকা ইনফেকশন রোগটি আমাদের অতি পরিচিত ডেংগু রোগের মতোন আর ছড়ায় ও এডিস মশার মাধ্যমেই। আজকাল এই রোগের কথা সংবাদমাধ্যমে, টিভি মিডিয়ায় প্রচুর পরিমাণে শোনা গেলেও এমন কিন্তু না যে এই রোগের উৎপত্তি হয়েছে কিছুদিনের মধ্যেই। ১৯৪৭ সালের উগাণ্ডার জিকা ফরেস্টে এই রোগ সর্বপ্রথম রেসাস বানরের মধ্যে থেকে মশাদের শরীরে ছড়ায়। সর্বপ্রথম এই রোগে আক্রান্ত মানুষের সন্ধান পাওয়া যায় ১৯৪৮ সালে নাইজেরিয়ায়। আফ্রিকায় এই রোগ কিছু কিছু সময় দেখতে পাওয়া গেলেও পশ্চিমাবিশ্বে এর প্রাদুর্ভাব শুরু হয় গত মে মাস থেকে। এখন পর্যন্ত এই ভাইরাস কোন সুদুরপ্রসারী ক্ষতির চিহ্ন নিয়ে আসেনি আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে, কিন্তু গর্ভবতী মহিলাদের জন্য এই রোগ মহামারীর থেকেও বেশি ভয়ানক। কেন? সেই কথায় আসছি কিছুক্ষণ পরে।

জিকা ভাইরাস কীভাবে ছড়ায়?

কিছুদিন ধরে এই যে বারবার শুনছেন জিকা ভাইরাস! জিকা ভাইরাস! কিন্তু এই রোগ থেকে বাঁচতে হলে আগে আপনাকে জানতে হবে যে এই রোগ ছড়ায় কীভাবে? জিকা ভাইরাস ছড়ায় মশার মাধ্যমে, তবে সব ধরনের মশা না এডিস জেনাসের মশাই এই রোগের জন্য দায়ী। এই মশা যেমন একটি বড়সড় পুলের মধ্যে বিস্তার লাভ করতে পারে ঠিক একইভাবে একটি বোতলের মুখের মধ্যে রাখা পানির মধ্যেও বংশ বিস্তার পারে। এডিস মশা সাধারণত দিনে কামড়ায়। এদের গোত্রের সবথেকে ভয়াবহ সদস্য হলো এডিস এজিপ্টি যারা জিকা রোগের প্রধান বাহক। এদের বিচরণ আমেরিকায় শুধুমাত্র ফ্লোরিডা, গালফ কোস্ট আর হাওয়াই এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ। তবে খুব গরমের সময় এদের ওয়য়াশিংটন এও দেখা যায়।

এশিয়ার টাইগার মশা এডিস এল্বোপিকটাস ও এই রোগ ছড়ায় কিন্তু পরিসরে এজিপ্টির থেকে কম। এদের শিকাগো আর নিউইয়র্কে গ্রীস্মকালে আনাগোনা বাড়ে।

এইসব মশা যখন কোন আক্রান্ত মানুষকে কামড়ায় তখন সে রোগীর কাছ থেকে এই ভাইরাসে সংক্রমিত হয়। পরবর্তীতে সংক্রমিত মশা সুস্থ মানুষকে কামড়ালে সে আবার জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যায়।

জিকা ভাইরাস এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় কিছু প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। চলুন এই প্রশ্নের জটগুলো খোলার চেষ্টা করে দেখি।

১। জিকা ভাইরাস কি মায়ের শরীর থেকে সন্তানের শরীরে ছড়ায়?




এখন পর্যন্ত এক কথায় উত্তর হলো, হ্যাঁ! সন্তান প্রসবের পূর্ব মুহূর্তে মায়ের শরীর থেকে সন্তানের শরীরে এই রোগ প্রবেশ করতে পারে। মাইক্রোফেলি নামক ভয়ংকর ধরনের এক জন্মগত ত্রুটি নিয়ে অনেক শিশু জন্ম নেয়ার রিপোর্ট পাওয়া গেছে সম্প্রতি। এই রোগাক্রান্ত শিশুদের মাথা অন্যান্য স্বাভাবিক শিশুদের তুলনায় ছোট আর এইসমস্ত শিশুদের মায়েরা গর্ভকালীন সময়ে জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত ছিল। মাইক্রোফেলি রোগে যেসব শিশুরা আক্রান্ত হয় এদের মধ্যে সৌভাগ্যবান ১৫% থাকে যাদের শুধু মাথাটাই ছোট হয়, কিন্তু অভাগা বাকি ৮৫% শিশুর মস্তিষ্কের উপর মাইক্রোফেলি ভয়াবহ প্রভাব ফেলে। অনেক ক্ষেত্রে এদের বৃদ্ধি ঠিকমত হয়না এবং এরা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী হয়। জিকা ভাইরাস আর অদ্ভুত এই সমস্যার একদম ঠিক ঠিক যোগসূত্র টা যে কোথায় তা এখনও আবিষ্কৃত না হলেও বিশেষজ্ঞগণ গর্ভবতী মায়েদের এই ব্যপারে সতর্ক থাকতে বলেছেন। ব্রাজিলে এই রোগে আক্রান্ত প্রায় ৪০০০ শিশুর রিপোর্ট পাওয়া গেছে এবং এর মধ্যে ৩৮ জন মারা গেছে। 

এমনকি ব্রাজিল, কলম্বিয়া, ইকুয়েডর, এল স্যল্ভাডোর এ আপাতত সন্তান ধারণ না করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

২। রক্ত বা সিমেন কি জিকা ভাইরাস বহন করে?

এতক্ষণ জিকা ভাইরাস নিয়ে এত কিছু পড়ে নিশ্চয়ই বুঝে গেছেন বাতাসে উড়ে এই রোগ আপনার শরীরে ঢুকে আপনাকে অসুস্থ বানিয়ে দেবে না। জিকা ভাইরাস সংক্রমণের জন্য অবশ্যই একটি বাহক লাগবে। আর এই রোগের মূল বাহক হলো মশা। সম্প্রতি মানুষের রক্ত আর সিমেনেও এর উপস্থিতি পাওয়া গেছে। রক্ত নেয়া বা শারীরিক সম্পর্কের ফলে এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে এমন রোগীর রিপোর্ট পাওয়া গেলেও সংখ্যায় তা অতি নগণ্য। আবার ভেবে দেখুন যদি রক্ত এই রোগ আসলেই ছড়াতো তাহলে রোগীকে কামড়ালে যেকোন ধরনের মশাই এই রোগে আক্রান্ত হয়ে যেতো। কি, ঠিক তো? কিন্তু এমনটি কিন্তু হচ্ছেনা। তাই আপাতত সঠিকভাবে এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া না গেলেও সাবধানতা অবলম্বন করতে তো মানা নেই। 

৩। জিকা ভাইরাস কী জিবিএস এর জন্ম দেয়?
জিবিএস বা গ্যলিয়্যান ব্যরে সিন্ড্রোম নামের এক বিশেষ ধরনের রোগ আছে যা মানুষের রোগ প্রতিরোধ সিস্টেমকেই শরীরের বিরুদ্ধে লাগিয়ে দেয়। তখন এরা রোগজীবাণু ধ্বংস করা বাদ দিয়ে আপনার স্নায়ুকোষগুলোকে ধবংস করা শুরু করে। এর ফলে মাংসপেশির দূর্বলতা এমনকি কোন কোন ক্ষেত্রে প্যারালাইসিস ও দেখা যায়। সাধারণত এর প্রভাব কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত থাকে। তবে অল্প কিছু ক্ষেত্রে দেখা গেছ এ মানুষ এর প্রভাব সারাজীবন বয়ে নিয়ে বেড়ায় এমনকি এতে মৃত্যুও হতে পারে। আসলে জিকা নাকি অন্যান্য কোন নির্দিষ্ট ভাইরাস এই রোগের উৎপত্তি ঘটায় কি না তা এখনও বলা সম্ভব হয়নি। তবে জিকা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বাড়ার সাথে সাথে ব্রাজিলে জিবিএস ও তীব্র আকারে বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই গবেষকরা মাথা চুল্কাতে বসে গেছেন আসলেই কি জিকা ভাইরাস টেনে আনছে জিবিএস এর মতোন মারাত্মক রোগকেও।

জিকা ভাইরাসে আক্রান্তের লক্ষ্মণ?



জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত প্রতি পাঁচ জনের একজন মানুষের মধ্যে অসুস্থতার লক্ষ্মণ দেখা যায়। কিছু সাধারণ লক্ষ্মণের মধ্যে আছে জ্বর, শরীরে র‍্যাশের সৃষ্টি, হাড়ের সংযোগস্থলে ব্যথার অনুভূতি, কংজাংক্টিভাইটিস (চোখ ওঠা)। এছাড়াও এই সময় মাথাব্যথা আর মাংসপেশীতে প্রচণ্ড ব্যথা হয়। জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত হবার সাথে সাথেই কিন্তু এইসব উপসর্গ দেখা যায় না। বেশ কয়েক দিন বা সপ্তাহ পর রোগীর মধ্যে এই লক্ষ্মণগুলো দেখা যেতে থাকে। 

জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে অসুস্থতা বড়জোর কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত থাকতে পারে। হাসপাতালে যাবার মতোন অবস্থাও কিন্তু তৈরী হয়না। এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর পরিমাণ খুবই নগণ্য। আপনার অসুস্থতা কমে গেলেও রক্তের মধ্যে এই ভাইরাস কয়েক মাস থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত তার উপস্থিতি জানান দিতে পারে।

র‍্যাশ ওঠার কারণে অনেকেই এই অসুখটিকে ডেংগু বা হামের সাথে গুলিয়ে ফেলতে পারে। তাই সঠিকভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে রোগ নির্ণয় অত্যন্ত জরুরী।

প্রতিরোধ আর প্রতিকারঃ কীভাবে রক্ষা করবো নিজেদের?



জিকা ভাইরাস আপাতদৃষ্টিতে খুব ভয়ংকর না হলেও এর ক্ষতিকর দিক কিন্তু অনেক। এখন পর্যন্ত এই রোগের নির্দিষ্ট কোন প্রতিষেধক আবিষ্কৃত হয়নি, কিন্তু তাই বলে আমরা তো আর হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকতে পারি না। এভাবে ভাবতেও পারি না যে মশা তো কামড়াবেই, এই রোগ হয়ে গেলে আর কী করার। যেহেতু এডিস মশা যেকোন জায়গায় জমে থাকা পানিতে জন্ম নেয় তাই আশেপাশের কোথাও যেন পানি জমে না থাকে সেদিকে খেয়াল করতে হবে। এরা দিনের বেলাতেই আপনাকে আক্রমণের শিকার করবে তাই দিনের বেলা ঘুমালেও মশারী টানাতে ভুলবেন না। খেয়াল রাখবেন যে, কোন মশা যেন আপনাকে না কামড়ায়। জানালার চারিদিকে আলাদা করে এমন জালিকা স্থাপন করতে পারেন যাতে মশা ঘরে না ঢুকতে পারে। যেকোন রোগে আক্রান্ত হবার আগেই সবথেকে ভাল উপায় হলো নিজেকে সতর্ক রাখা। 

এলাকার মানুষজন মিলে কিছুদিন পরপর বিভিন্ন কীটনাশক দূরীকরণের স্প্রে প্রয়োগ একটি ভাল উদ্যোগ। তবে ঝুকি আছে এমন এলাকায় যদি আপনি ভ্রমণ করতে চান তাহলে অবশ্যই বাড়তি সতর্কতা অত্যন্ত জরুরী।

জিকা ভাইরাসের প্রতিষেধকঃ
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, জিকা ভাইরাসের প্রতিষেধক আমাদের হাতে নাগালে আসতে আসতে পার হয়ে যাবে আরও দেড় বছর। প্রায় ১৫টি প্রতিষ্ঠান এই দৌড়ে সামিল হয়ে থাকলেও তাদের কাজ একদমই প্রাথমিক পর্যায়ে। জেনেভার এক কনফারেন্সে এই সংস্থার মুখপাত্র জানান এখনই তারা প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম প্রকাশে রাজি নয়। ইউএসএ তে খুব শীঘ্রই এর পরীক্ষামূলক কাজ শুরু হলেও তা পুরোপুরি স্বীকৃত হয়ে মানুষের নাগালে পৌঁছাতে অপেক্ষা করতে হবে আরও অনেকটা সময়।

বাংলাদেশ এবং জিকা ভাইরাসঃ আমরা কি হুমকির মুখে?


জিকা ভাইরাসের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে আমরা সবাই-ই অবগত। বাংলাদেশে কি এই রোগে আক্রান্ত হবার কোন সম্ভাবনা আছে- চিন্তার বিষয় এই একটাই। প্রতিষেধকবিহীন এই রোগ খুব দ্রুত বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ছে, তাই আমরা যে একেবারে হুমকির সম্মুখে না, তা বলা যায় না। তবে আশার বিষয় এই যে দক্ষিণ এশিয়াতে এখন পর্যন্ত জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত খুব বেশী রোগীর খবর পাওয়া যায়নি। তাই আশা করা যায় যে আমাদের সেই খারাপ দিন দেখার সম্ভাবনা আপাতত নেই বললেই চলে যখন ফুটফুটে একটি শিশুকে অপরিণত মস্তিষ্ক আর ছোট্ট একট মাথা নিয়ে চলাচল করতে দেখতে হবে।

জিকা ভাইরাসের গোপন নথি!



এতক্ষণ যা বললাম তা নিত্যদিনের খবর হয়ে গেছে। কিন্তু আপনার আমার জানার বাইরেও কিছু খবর আছে, যা হয়ত ইচ্ছে করেই রাখা হচ্ছে সবার অগোচরে। আচ্ছা উপরে যা কিছু পড়েছেন তারপর আপনার কি মনে হচ্ছে জিকা ভাইরাস আসলেই এতটা ভয় পাবার মতোন কিছু যতটা একে নিয়ে পশ্চিমা বিশ্ব মেতে উঠেছে?

বিল গেটস-মেলিণ্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের নাম নিশ্চয় সবাই শুনেছেন। এই ফাউণ্ডেশনের ব্রিটিশ বায়োটেক কোম্পানি ডেংগু মশার প্রাদুর্ভাব থেকে মানুষকে বাঁচানোর জন্য বিশেষ ধরনের জেনেটিকালি ইঞ্জিনিয়ার্ড বিশেষ এক ধরনের মশার সৃষ্টি করে। ধারণা করা হচ্ছে মানবসৃষ্ট এই বিশেষ ধরনের মশাই আসলে জিকা ভাইরাস ছড়ানোর জন্য দায়ী। হ্যাঁ ঠিকই শুনছেন যে ভাইরাস মানুষের জীবনে আতংক বয়ে নিয়ে এসেছে, যে রোগ নিয়ে নিত্যদিন মিডিয়া এই পরিমাণে মেতে উঠেছে তা প্রাকৃতিক কোন রোগ নয়!

২০১১ সাল থেকে অক্সিটেক নামের এই কোম্পানি ব্রাজিলের গহীন অরণ্যে এই মশার বংশবিস্তার করে চলেছে ডেংগু মশার প্রাদুর্ভাব থেকে মানুষকে রক্ষার জন্য। এক সপ্তাহে তারা প্রায় দুই মিলিয়ন মশা উৎপাদন করে ব্রাজিলের ক্যম্পিনাস এ অবস্থিত এদের ফ্যাক্টরীতে।

আচ্ছা এবার একটু অন্য হিসেবে আসি। ২০১৫ এর ১ নভেম্বর থেকে প্রায় ৪০০০ শিশু এই ছোট্ট মস্তিষ্ক নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছে। সাধারণত ব্রাজিলে প্রতিবছর এরকম ১৫০ জন শিশু জন্মগ্রহণ করে। এনবিসি নিউজের নতুন রিপোর্ট অনুযায়ী এই ৪০০০ জন শিশুর এই সংখ্যা প্রকাশ সরকারের এক ধরনের বাহুল্য।

কিন্তু কথা হলো কেন-ই বা মানুষের মধ্যে এই আতংক ছড়ানো। যেখানে জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত ৫ জন রোগীর মাত্র একজনের সামান্য জ্বরবোধ হয় আর বাকি চারজন তো জানতেই পারে না যে তারা এই রোগে আক্রান্ত হয়েছিলো। আর এই জিকা ভাইরাসের ঘাড়েই কিনা এতগুলো শিশুর জীবন নষ্টের দায়ভার চাপিয়ে দেয়া হলো উপযুক্ত প্রমাণ ছাড়াই।



আরেকটি রহস্যময় তথ্য জেনে নিন, ২০১৫ সাল থেকে ব্রাজিল সরকার গর্ভবতী মায়েদের একটি নতুন ভ্যক্সিন নেয়া অত্যাবশ্যক করেন। টিডিএপি নামক এই ভ্যাক্সিনের সঠিকভাবে কোন পরীক্ষা ছাড়াই হঠাত এভাবে আবশ্যকীয় করে দেয়া আর ঠিক একই সময়ে এরকম অদ্ভুত শিশু জন্মের হার হুহু করে বেড়ে যাওয়াটা আসলে কাকতালীয় ঘটনা থেকে একটু বেশি কিছুই বলে মনে হয়। এই ভ্যক্সিন এর উৎপত্তিস্থল সম্পর্কে একটু খোজ নিতে শুরু করলেই একটি নাম আবার সামনে পেয়ে যাবেন- বিল গেটস-মেলিণ্ডা গেটস ফাউণ্ডেশন। এমনকি এই ভ্যক্সিন লাইসেন্সড হবার আগে তার কার্যকারিতা সম্পর্কে অর্থাৎ গর্ভবতী মায়ের শরীরে গিয়ে আসলেই কাজ করে কি না সেই ব্যাপারে পরীক্ষা করার কোন নথিপত্র ও পাওয়া যায়নি।

একটু যদি অন্যভাবে ব্যাপারটা নিয়ে ভেবে দেখি তাহলে কি এটাই মনে হয় না জন্মগত এই ত্রুটি আর জিকা ভাইরাসকে একই সময়ে সামনে আনা হয়েছে? ব্রাজিল-ই বা কেন আমেরিকা থেকে মন একটি ভ্যক্সিন কিনে তার দেশে অত্যাবশ্যক করে দিলো যার কোন নির্দিষ্ট পরীক্ষার ইতিহাস নেই, নাকি এজন্য তারা উপযুক্ত পরিমাণে পকেট গরম করার সুযোগ পেয়েছে। এখন আবার আমেরিকা জিকা ভাইরাসের প্রতিষেধক এর পিছে ছুটছে। চেষ্টা করে দেখুন তো এমনই কোন ঘটনার কথা স্মৃতিতে আসে কি না? হ্যাঁ একইভাবে মিডিয়া ইবোলা ভাইরাস নিয়েও মানুষের মনে আতংক সৃষ্টি করেছিল।

যেমনটি আগেই বলেছি অনেক দেশে গর্ভধারণ এরই মধ্যে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, সবকিছু মিলিয়ে মনে হচ্ছে আসলেই বিল গেটস এর জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ এজেণ্ডা বাস্তবায়িত হচ্ছে। সম্প্রতি মাত্র একজন মানুষের সিমেনে এই ভাইরাসের উপস্থিতি টের পাওয়ার সাথে সাথেই একে সেক্সুয়ালি ট্রান্সমিটেড অর্থাৎ শারীরিক সম্পর্কের মাধ্যমে ছড়ানো রোগের কাতারে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে মানবমনে শারীরিক সম্পর্ক এবং সন্তান ধারণের প্রতি আতংকের সৃষ্টি হচ্ছে। ২০০৩ সাল থেকেই বিল গেটস জোরপূর্বক ভ্যক্সিনাইজেশন করে জন্মনিয়ন্ত্রণের সপক্ষে কথা বলেছেন।

তবে এই রহস্যের কুলকিনারা এতো সহজে সম্ভব নয়। বিশ্বের বড় বড় ব্যক্তিত্বের বিপক্ষে বা সপক্ষে কথা বলার মানুষের অভাব কখনোই ছিলো না। তাই আমরা শুধু আপনাদের চলতি বিশ্বের পরিস্থিতির কাছাকাছিই নিয়ে যেতে পারি। সত্য-মিথ্যা জানার জন্য আমাদের হয়ত অপেক্ষা করতে হবে আরও বেশ কিছুটা সময়। কিন্তু উন্নত বিশ্বের অনেক ঘটনার সুরাহা যে আমাদের কান পর্যন্ত আসেনা- এ নতুন কিছু নয়। তাই আপাতত এসব কোন্দলে না পড়ে আমরা নিজেদের ও নিজ নিজ সন্তানদের নিরাপত্তা প্রদানের দিকেই বেশি মনোযোগী হই। আশা করি বিশ্বে বিরাজমান এই জিকা ভাইরাস আতংক আমাদের দ্বারপ্রান্তে এসে কখনোই হানা দেবে না।
উৎসঃ
ফারজানা অনন্যা (টপিক)
http://www.cdc.gov/zika/
http://www.trinfinity8.com/

Friday, 26 February 2016

সবাইকে বিশ্বাস করি - কাউকেই বিশ্বাস করি না !

একটা সময় ছিল, সবাইকেই বিশ্বাস করতাম। সবকিছুই খাঁটি ভাবতাম। তারপর মা বলল, গোয়ালা গরুর দুধে জল মেশায়। মানে সব গোয়ালাই মেশায়। খুব স্বাভাবিক ব্যাপার এটা। ধাক্কা লাগল। তবুও ভাবতাম, আরে ঠিক আছে, যা দেখছি, যা শুনছি তা ঠিক না হয়ে যায়ই না। তারপর একদিন কোন একটা পুজোবার্ষিকীতে পড়লাম আর্মস্ট্রং, অলড্রিন, কলিন্সের নাম মুখস্থ করে সিম্পলি বোকা বনেছি। আমেরিকা গোটাটাই ধোঁকা দিয়েছে। তখন খেয়াল পড়ল, আরে তাই তো! চাঁদে পতাকা ওড়ে কেমনে? এক ষষ্ঠাংশ ওজন নিয়ে রুক্ষু মাটির বুকে জুতোর ছাপ পড়ে কেমনে? অতএব, ইতিহাস বইয়েও ঘাপলা? তাও নিজেকে বললাম, আরে ঠিক আছে, অমন দু'একটা হয়ে থাকবে। বাকি সবাই অন্তত যা বলছে তাইই বলতে চাইছে, করতে চাইছে। একদিন জানতে পারলাম 'রিয়েলিটি শো' এর নাকি স্ক্রিপ্ট থাকে। হাসি- কান্না- ঝগড়া- ওহ শিট- ইয়াহহু সব নাকি মেপে! খেয়েছে! একি রে ভাই! কোথায় যাই তবে! আরেকটু বড় হলাম। দেখি কৈশোরের আদর্শদের মধ্যেও ঘোঁট পেকে একশা। কুড়ির কোঠায় পৌঁছে আদর্শ জিনিসটার ঘনচক্কর বুঝে জন্মের মত 'আদর্শ মানব-টানব' এর টান কাটিয়ে দিলাম।
তারপর এলাম ইন্টারনেটে। লে হালুয়া। চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছি ওবামার পাশে তুমুল ঘ্যাম নিয়ে মোদি হেঁটে আসছেন করিডোর বেয়ে, দেখেই শ্রদ্ধা পেয়ে যায়, বিশ্বাসও করলাম অনেকদিন ধরে, হঠাৎ দেখি ছবি ফেক। ফটোশপ করা! তারপর দেখি নিউটনের ছবি চিপকে তিনি জীবনে যা বলেননি তাই লিখে ফেবুতে পোস্টার। তারপরে আরও দেখি একটা ছবিতে দুইখান টিরেন- দুটো কনভার্জিং ট্র‍্যাকে ছুটে আসছে- ছবিতে লেখা 'লাইক করে লিখুন স্টপ, আর দেখুন কী হয়'। হা আল্লে্হশ্বর, হা বুদ্ধৃষ্ট, সেই ছবিতে সাড়ে তিন লাখ লাইক আর পৌনে চার লাখ 'স্টপ' লেখা কমেন্ট!
ঠিক এই জায়গায় এসে আমি নিজের ওপর প্রবলভাবে বিশ্বাস হারাতে শুরু করলাম। ভীষণ সন্দেহের চোখে দেখা শুরু করলাম নিজেকে। দিন গেল। জানতে পারলাম আমার ঘরের দেওয়ালে দেশের যে মানচিত্র ঝোলে সেটা মোটেও ঠিক মানচিত্র নয়। ফুল ঘাপলা। বুঝতে পারলাম নেতা যখন বলছে 'আমি এই করেছি, এই করি' তখন সেটা পুরোটাই গুল-মার্গ কেস। অথচ, আমি ভাবতে থাকি একটা লোক লক্ষটা লোকের সামনে চোখমুখ স্বাভাবিক রেখে চিৎকার করে একটা মিথ্যে বলছে, কীভাবে? না না, হতেই পারে না। আমি দ্বিগুন অবিশ্বাসী হয়ে যাই নিজের ওপর।
তারপর দেখি ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ইজুক্যালটু বিলিয়ন ডলার ঘাপলা, সাদ্দাম হত্যা ইজুক্যালটু অন্য কেস, এমনকি মিশন জেরোনিমোও নাকি ঘাপলা। আগেই শুনেছিলাম, দিন কয়েক আগে অ্যাসাঞ্জ বললেন, আরে লাদেনবাবু দিব্য বেঁচে রয়েছেন তো! তবে যে! অ্যাওয়ার্ড উইনিং সিনেমা- ফিনেমা হয়ে গেল! হা আল্লে্হশ্বর!
আমি মাইরি সেই 'সবাইকে বিশ্বাস করি, সবই খাঁটি' থেকে 'কাউকেই বিশ্বাস করি না, সবই সন্দেহজনক'এ ল্যান্ড করেছি। মাঝে তো এই 'সবই সাজানো' থিয়োরি দ্বারাও প্রবলভাবে নাড়া খেয়েছিলাম। দিদি যে আমার এই বিশ্বাসহীনতার জার্নির অনেক আগেই এ পথে হেঁটেছেন ও ধর্নামঞ্চ বেঁধে রীতিমতো অনশন করে এই 'সবই চক্রান্ত' উপলব্ধিতে পৌঁছেছেন তা আমায় গভীরে নাড়া দেয়। ফলে, আমি জানি, আজ যে বেগুন কিনব হাসিমুখে কাল তাতে পোকা বেরোবেই। আজ যার আগুন দেখব বাসিমুখে কাল সে বোকা বেরোবেই। আমি বিশ্বাস করতে শুরু করেছি, রাস্তায় সমস্ত নেড়িরই জলাতঙ্ক আছে এবং সবাই আমার দাবনায় দাঁত বসাবার গুপ্ত ইচ্ছা নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। কিন্তু বেঁচেবর্তে থাকতে হবে তো! ফলে নেড়ি দেখলেই ঢিল নিয়ে তেড়ে যাওয়া যায় না। পাবলিক দায়িত্ব নিয়ে রাঁচি দিয়ে আসবে। ফলে লাভের লাভ, তুমুল সাবধান হয়ে গেছি। পকেটে ঢিল নিয়ে ঘুরি অলটাইম। এই অ্যাকুয়ার্ড সন্দেহটার আরেকটা হেব্বি দিক আছে। ছবি হাফ পেরোতে না পেরোতেই শাটার আইল্যান্ড বুঝে যাই, মেমেন্টোও জলবৎ তরলং।
মুশকিল হয় যখন একটা ঘটনা ঘটে আর তাতে সবাই আলোড়িত হয়ে যায়। আমি আর আলোড়িত হতেই পারিনা। ঘটনার রঙ্গমঞ্চে তাকিয়ে যেই আবেগতাড়িত হতে যাব অমনি নিওকর্টেক্স থেকে আওয়াজ আসে, সামলে বাপু সামলে। একটু থাম। মাঝে মাঝে মনে হয় আমার মাথায় এক বালতি বরফ ঢাললে আমার প্রথমে রিয়্যাকশান হবে, ইহা কি সত্যিই বরফ? কে ঢালিল? সে কি সত্যিই বরফ ঢালিয়াছে? তার পনের মিনিট পর আমি হিহি কাঁপব। খুব জটিল পরিস্থিতি সন্দেহ নেই, কিন্তু নিজের উদাহরণ দিয়ে বোঝালাম বলে হাফ-সিরিয়াস হয়ে ব্যাপারটা নেবেন না প্লিজ। আর তাছাড়া, নিজেকে দিয়ে না বলে আর উপায় কি? সবাই অফেন্ডেড হয়, সব্বার গায়ে লাগে। বুঝিই না বাপু কী নিয়ে কথা বলব? অন্তত সন্দেহের কথাও আর কি।
ফলে, বিশ্বাস করে ফেলেছি, সন্দেহই মূল ব্যাপার। সব্বার নিজস্ব হিডেন অ্যাজেন্ডা ভাই। যে যা বলছে, সে আসলে তা বলছে না। আমি যা দেখছি, আসলে সে জিনিস ঘটছে না। কিন্তু এগেন, এভাবে টানা যাচ্ছে না, যায় না।
ফলে একশ বছর পেরিয়ে যখন গ্র‍্যাভিটেশনাল ওয়েভ এর উপস্থিতি প্রমাণিত হয় তখন আমি প্রবল উত্তেজিত হয়ে পড়ি। যদি চর্চা করতে হয় ভাই বিজ্ঞানচর্চা করব। অ্যাপ্লায়েড না, পিওর।
বা সঙ্গীত, বাদ্যযন্ত্র- এসব। ঘুরতে টুরতে যাব। নদীর জল ছুঁয়ে দেখব, পাহাড়ে চড়ব নিজে। গোদাবরী আর পশ্চিমঘাট যে আদৌ আছে, সে জিনিস বিশ্বাস করাও চাপ হয়ে যাচ্ছে ক্রমশ। 
পৃথিবীকে তো আর নেড়িশূন্য করা যাবে না, ফলে শিশুর বাসযোগ্য করতে হলে শিশুর নিওকর্টেক্সে বাস করা পৃথিবীটাকেই নেড়েচেড়ে দেখতে হবে। নিন্দুক বলিল, আপনার এই সিদ্ধান্তকেও সন্দেহের চোখে দেখার কোনও কারণ নেই বলছেন? সম্পূর্ণ নিজস্ব জিনিস? অ্যাজেন্ডা রহিত?
তবে রে! পকেট থেকে ঢিল বের করি। জোরে জোরে মন্ত্র আওড়াই, Cogito ergo sum, cogito ergo sum... খবরে দেখতে পাই, দেশবিরোধী স্লোগান দিচ্ছে নাকি দেশাত্মবোধক এক ব্যক্তি, সির্ফ অন্যের মুখে কালি লেপার জন্য। হা আল্লে্হশ্বর!
সুত্র ঃ অনিক চক্রবর্তী, গ্লোমি সানডে। 

Wednesday, 24 February 2016

আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সের কিছু নিয়ম

দেশের বিভিন্ন স্থানে বিশেষ করে ঢাকায় বেশ কিছু আগ্নেয়াস্ত্রের দোকান দেখা যায়। তবে এসব দোকান থেকে চাইলেই যে কেউ আগ্নেয়াস্ত্র ক্রয় করতে পারে না। আবার যারা ক্রয় করতে পারেন তারা ক্রয়ের পর সরাসরি তা বহন করতে পারেন না। এজন্য আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স সংগ্রহ করতে হয়।

যাদেরকে লাইসেন্স প্রদান করা হয়:
বাংলাদেশে চলমান ১৮৭৮ সালের Arms Act ও ১৯২৪ সালের Arms Rules এর আওতায় সামরিক/বেসামরিক/অন্যান্য ব্যক্তিবর্গকে নিম্নবর্ণিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে অনিষিদ্ধ বোরের আগ্নেয়াস্ত্রসমূহের লাইসেন্স প্রদান করা হয়।

শর্তসমূহ:
  • যে কোন ব্যক্তি একটি লং ব্যারেল (বন্দুক/শর্টগান/.২২ বোর রাইফেল) এবং একটি শর্ট ব্যারেল (এনপিবি রিভলবার/পিস্তল) সর্বোচ্চ দু’টি আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
  • আবেদনকারীর বয়স শর্ত ব্যারেল আগ্নেয়াস্ত্রের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ৩০ (ত্রিশ) বছর এবং লং ব্যারেলের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ২৫ (পঁচিশ) বছর হতে হয়।
  • আবেদনকারীকে অবশ্যই আয়কর দাতা হতে হয়। শিল্পপতি/বিশিষ্ট ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে বছরে ন্যূনতম ২.০ (দুই লক্ষা) টাকা আয়কর প্রদান করতে হয়।
  • আবেদনকারীর অনুকূল পুলিশ প্রতিবেদন থাকতে হয়।
  • অনিষিদ্ধবোরের সকল প্রকার লাইসেন্স সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক কর্তৃক প্রদান করা হয়। তবে পিস্তল ও রিভলবার লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটগণ আবেদনকারীর ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকার গ্রহণ করবেন এবং প্রকৃত প্রয়োজনীয়তা যাচাই করে রিভলবার/পিস্তল লাইসেন্স প্রদানের সুপারিশসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পুর্বানুমতির জন্য প্রেরণ করবে। অন্যান্য লং ব্যারেল অস্ত্রের ক্ষেত্রে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লাইসেন্স প্রদান করেন।
  • সরকারের উপ-সচিব ও তদুর্ধ পরযায়ের কর্মকর্তা, সশস্ত্র বাহিনীর মেজর ও তদুর্দ পরযায়ের কর্মকর্তা ও সমমর‌যাদা সম্পন্ন কর্মকর্তাগণকে প্রয়োজনীয় শর্তাবলী পূরণ সাপেক্ষে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান করা হয়।
  • বার্ধক্যজনিত/মৃত্যুজনিত কারণে উত্তরাধিকারীদের অনুকূলে আগ্নেয়াস্ত্র হস্তান্তর প্রক্রিয়া সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেটগণ সম্পন্ন করেন। এক্ষেত্রে লাইসেন্সধারী মৃত ব্যক্তির Death Certificate, ওয়ারিশান সনদ, লাইসেন্সধারী/ওয়ারিশগণ কর্তৃক ১৫০/- (একশত পঞ্চাশ) টাকার স্ট্যাম্পে নাদাবি হলফনামা, অনুকূল পুলিশ প্রতিবেদন, বয়স প্রমাণের সনদপত্র ইত্যাদি প্রয়োজন।
  • মেরামত অযোগ্য/ত্রুটিপূর্ণ অস্ত্রের পরিবর্তে নতুন অস্ত্র সংগ্রহ/ক্রয়, অস্ত্রের ধরন পরিবর্তন (অনুমতিসাপেক্ষে) করা যাবে। তবে লাইসেন্সে লিপিবদ্ধকরণের ৫ (পাঁচ) বৎসরের মধ্যে আগ্নেয়াস্ত্র বিক্রয় করা যাবে না।
  • কোন লাইসেন্সধারী ব্যক্তিকে অস্ত্র ক্রয়ের ৬ (ছয়) দিনের মধ্যে লাইসেন্স ইস্যুকারী কর্তৃপক্ষের নিকট ক্রয়কৃত অস্ত্র উপস্থাপন করে লাইসেন্সে অস্ত্রের তথ্যাটি লিপিবদ্ধ করতে হয়।
  • আবেদনকারী যদি আর্মি এ্যাক্টের আওতাধীন ব্যক্তি হন (সামরিক কর্মকর্তা) তাহলে নিজ স্থায়ী আবাসস্থলের সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে যথাযথ কর্তৃপক্ষের সুপারিশক্রমে আবেদন করতে পারেন।
  • আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স প্রাপ্তির সকল আবেদন সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট দাখিল করতে হয়। 
লাইসেন্স ও নবায়ন ফি:
ক্র. নং
আগ্নেয়াস্ত্রের ধরন
লাইসেন্স ফি
নবায়ন ফি
১.বীচ লোডিং পিস্তল/রিভলবার/রাইফেল
৪,০০০/-
২,০০০/-
২.ব্রীচ লোডিং শটগান/বন্দুক
২,০০০/-
৮০০/-
৩.ব্রীচ লোডিং ছাড়া অন্যান্য অস্ত্রের ক্ষেত্রে
৮০০/-
৪০০/-

  • আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স ফি একবারের জন্য প্রযোজ্য তবে লাইসেন্স নবায়ন ফি জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের জেএম শাখায় ট্রেজারী চালানের মাধ্যমে জমা দিয়ে প্রতিবছর ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নবায়ন করতে হয়। সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেটগণ ৩১ জানুয়ারী পরযন্ত জরিমানা ছাড়া নবায়ন করতে পারেন। উক্ত সময়ের পরে নবায়ন করতে হলে জরিমানা প্রদানসাপেক্ষে লাইসেন্স নবায়ন করা যাবে। উল্লেখ্য, জরিমানার পরিমাণ মূল লাইসেন্সে প্রদেয় টাকার সমপরিমাণ।
  • সশস্ত্রবাহিনীতে কর্মরত/অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সদস্যগণ নিজ কর্মস্থল/বর্তমান আবাসস্থলের সন্নিকটস্থ জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট থেকে আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স নবায়ন করতে পারবেন। আইনে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে ক্যান্টনমেন্ট একজিকিউটিভ অফিসারগণের মাধ্যমে ও আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স নবায়ন করতে পারেন। তবে উক্ত নবায়নের বিষয়ে লাইসেন্স ইস্যুকারী কর্তৃপক্ষ (সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট) কে অবশ্যই অবহিত করতে হবে।
  • প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে চাকুরীর বদলীজনিত বা অবসরগ্রহণের কারণে বেসামরিক কর্মকর্তা/কর্মচারীগণ তাদের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স নিজ কর্মস্থল/বর্তমান আবাসস্থলের সন্নিকটস্থ জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট থেকে নবায়ন করতে পারবেন। উক্ত নবায়নের তথ্য অবশ্যই লাইসেন্স ইস্যুকারী কর্তৃপক্ষ (সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট) কে অবহিত করতে হবে।
  • Arms Rules 1924 এর Chapter – III এর ৫০ বিধি অনুযায়ী কোন ব্যক্তি আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স ট্রান্সফারের আবেদন করলে তা যথানিয়মে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটগণ নিষ্পত্তি করবেন। তবে এক্ষেত্রে লাইসেন্স ইত্যুকারী কর্তৃপক্ষের অনাপত্তি থাকতে হবে।

ঢাকার কয়েকটি আগ্নেয়াস্ত্রের দোকানের তালিকা:
দোকানের নাম
ঠিকানা ও যোগাযোগ
কে আহমদ এন্ড কোং

দারুস সালাম আর্কেড (২য় তলা), ১৪, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ৯৫৬৭৬৫৯
মোবাইল: ০১৭১১-৫৩৪২৬৩, ০১৯১৯-৫৩৪২৬৩
কে খলিলউল্লাহ এন্ড কোং
এল মল্লিক কমপ্লেক্স (২য় তলা), ১২, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ৯৫৬৫৮৯২, মোবাইল: ০১৭১১-৫৬০৭৩৫।
শফিকুল ইসলাম আর্মস এন্ড কোং
২৩/১১- বি, সি জি রোড, ব্লক# বি, শ্যামলী, মোহাম্মদপুর, ঢাকা- ১২০৭।
ফোন: ৯১৩০৭০৩, ৯১৩৭৩৬৮
ই-মেইল:  info@sislamarmsco.com
ওয়েব সাইট: www.swisstezgroup.com

সুত্রঃ