Friday, 26 February 2016

সবাইকে বিশ্বাস করি - কাউকেই বিশ্বাস করি না !

একটা সময় ছিল, সবাইকেই বিশ্বাস করতাম। সবকিছুই খাঁটি ভাবতাম। তারপর মা বলল, গোয়ালা গরুর দুধে জল মেশায়। মানে সব গোয়ালাই মেশায়। খুব স্বাভাবিক ব্যাপার এটা। ধাক্কা লাগল। তবুও ভাবতাম, আরে ঠিক আছে, যা দেখছি, যা শুনছি তা ঠিক না হয়ে যায়ই না। তারপর একদিন কোন একটা পুজোবার্ষিকীতে পড়লাম আর্মস্ট্রং, অলড্রিন, কলিন্সের নাম মুখস্থ করে সিম্পলি বোকা বনেছি। আমেরিকা গোটাটাই ধোঁকা দিয়েছে। তখন খেয়াল পড়ল, আরে তাই তো! চাঁদে পতাকা ওড়ে কেমনে? এক ষষ্ঠাংশ ওজন নিয়ে রুক্ষু মাটির বুকে জুতোর ছাপ পড়ে কেমনে? অতএব, ইতিহাস বইয়েও ঘাপলা? তাও নিজেকে বললাম, আরে ঠিক আছে, অমন দু'একটা হয়ে থাকবে। বাকি সবাই অন্তত যা বলছে তাইই বলতে চাইছে, করতে চাইছে। একদিন জানতে পারলাম 'রিয়েলিটি শো' এর নাকি স্ক্রিপ্ট থাকে। হাসি- কান্না- ঝগড়া- ওহ শিট- ইয়াহহু সব নাকি মেপে! খেয়েছে! একি রে ভাই! কোথায় যাই তবে! আরেকটু বড় হলাম। দেখি কৈশোরের আদর্শদের মধ্যেও ঘোঁট পেকে একশা। কুড়ির কোঠায় পৌঁছে আদর্শ জিনিসটার ঘনচক্কর বুঝে জন্মের মত 'আদর্শ মানব-টানব' এর টান কাটিয়ে দিলাম।
তারপর এলাম ইন্টারনেটে। লে হালুয়া। চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছি ওবামার পাশে তুমুল ঘ্যাম নিয়ে মোদি হেঁটে আসছেন করিডোর বেয়ে, দেখেই শ্রদ্ধা পেয়ে যায়, বিশ্বাসও করলাম অনেকদিন ধরে, হঠাৎ দেখি ছবি ফেক। ফটোশপ করা! তারপর দেখি নিউটনের ছবি চিপকে তিনি জীবনে যা বলেননি তাই লিখে ফেবুতে পোস্টার। তারপরে আরও দেখি একটা ছবিতে দুইখান টিরেন- দুটো কনভার্জিং ট্র‍্যাকে ছুটে আসছে- ছবিতে লেখা 'লাইক করে লিখুন স্টপ, আর দেখুন কী হয়'। হা আল্লে্হশ্বর, হা বুদ্ধৃষ্ট, সেই ছবিতে সাড়ে তিন লাখ লাইক আর পৌনে চার লাখ 'স্টপ' লেখা কমেন্ট!
ঠিক এই জায়গায় এসে আমি নিজের ওপর প্রবলভাবে বিশ্বাস হারাতে শুরু করলাম। ভীষণ সন্দেহের চোখে দেখা শুরু করলাম নিজেকে। দিন গেল। জানতে পারলাম আমার ঘরের দেওয়ালে দেশের যে মানচিত্র ঝোলে সেটা মোটেও ঠিক মানচিত্র নয়। ফুল ঘাপলা। বুঝতে পারলাম নেতা যখন বলছে 'আমি এই করেছি, এই করি' তখন সেটা পুরোটাই গুল-মার্গ কেস। অথচ, আমি ভাবতে থাকি একটা লোক লক্ষটা লোকের সামনে চোখমুখ স্বাভাবিক রেখে চিৎকার করে একটা মিথ্যে বলছে, কীভাবে? না না, হতেই পারে না। আমি দ্বিগুন অবিশ্বাসী হয়ে যাই নিজের ওপর।
তারপর দেখি ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ইজুক্যালটু বিলিয়ন ডলার ঘাপলা, সাদ্দাম হত্যা ইজুক্যালটু অন্য কেস, এমনকি মিশন জেরোনিমোও নাকি ঘাপলা। আগেই শুনেছিলাম, দিন কয়েক আগে অ্যাসাঞ্জ বললেন, আরে লাদেনবাবু দিব্য বেঁচে রয়েছেন তো! তবে যে! অ্যাওয়ার্ড উইনিং সিনেমা- ফিনেমা হয়ে গেল! হা আল্লে্হশ্বর!
আমি মাইরি সেই 'সবাইকে বিশ্বাস করি, সবই খাঁটি' থেকে 'কাউকেই বিশ্বাস করি না, সবই সন্দেহজনক'এ ল্যান্ড করেছি। মাঝে তো এই 'সবই সাজানো' থিয়োরি দ্বারাও প্রবলভাবে নাড়া খেয়েছিলাম। দিদি যে আমার এই বিশ্বাসহীনতার জার্নির অনেক আগেই এ পথে হেঁটেছেন ও ধর্নামঞ্চ বেঁধে রীতিমতো অনশন করে এই 'সবই চক্রান্ত' উপলব্ধিতে পৌঁছেছেন তা আমায় গভীরে নাড়া দেয়। ফলে, আমি জানি, আজ যে বেগুন কিনব হাসিমুখে কাল তাতে পোকা বেরোবেই। আজ যার আগুন দেখব বাসিমুখে কাল সে বোকা বেরোবেই। আমি বিশ্বাস করতে শুরু করেছি, রাস্তায় সমস্ত নেড়িরই জলাতঙ্ক আছে এবং সবাই আমার দাবনায় দাঁত বসাবার গুপ্ত ইচ্ছা নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। কিন্তু বেঁচেবর্তে থাকতে হবে তো! ফলে নেড়ি দেখলেই ঢিল নিয়ে তেড়ে যাওয়া যায় না। পাবলিক দায়িত্ব নিয়ে রাঁচি দিয়ে আসবে। ফলে লাভের লাভ, তুমুল সাবধান হয়ে গেছি। পকেটে ঢিল নিয়ে ঘুরি অলটাইম। এই অ্যাকুয়ার্ড সন্দেহটার আরেকটা হেব্বি দিক আছে। ছবি হাফ পেরোতে না পেরোতেই শাটার আইল্যান্ড বুঝে যাই, মেমেন্টোও জলবৎ তরলং।
মুশকিল হয় যখন একটা ঘটনা ঘটে আর তাতে সবাই আলোড়িত হয়ে যায়। আমি আর আলোড়িত হতেই পারিনা। ঘটনার রঙ্গমঞ্চে তাকিয়ে যেই আবেগতাড়িত হতে যাব অমনি নিওকর্টেক্স থেকে আওয়াজ আসে, সামলে বাপু সামলে। একটু থাম। মাঝে মাঝে মনে হয় আমার মাথায় এক বালতি বরফ ঢাললে আমার প্রথমে রিয়্যাকশান হবে, ইহা কি সত্যিই বরফ? কে ঢালিল? সে কি সত্যিই বরফ ঢালিয়াছে? তার পনের মিনিট পর আমি হিহি কাঁপব। খুব জটিল পরিস্থিতি সন্দেহ নেই, কিন্তু নিজের উদাহরণ দিয়ে বোঝালাম বলে হাফ-সিরিয়াস হয়ে ব্যাপারটা নেবেন না প্লিজ। আর তাছাড়া, নিজেকে দিয়ে না বলে আর উপায় কি? সবাই অফেন্ডেড হয়, সব্বার গায়ে লাগে। বুঝিই না বাপু কী নিয়ে কথা বলব? অন্তত সন্দেহের কথাও আর কি।
ফলে, বিশ্বাস করে ফেলেছি, সন্দেহই মূল ব্যাপার। সব্বার নিজস্ব হিডেন অ্যাজেন্ডা ভাই। যে যা বলছে, সে আসলে তা বলছে না। আমি যা দেখছি, আসলে সে জিনিস ঘটছে না। কিন্তু এগেন, এভাবে টানা যাচ্ছে না, যায় না।
ফলে একশ বছর পেরিয়ে যখন গ্র‍্যাভিটেশনাল ওয়েভ এর উপস্থিতি প্রমাণিত হয় তখন আমি প্রবল উত্তেজিত হয়ে পড়ি। যদি চর্চা করতে হয় ভাই বিজ্ঞানচর্চা করব। অ্যাপ্লায়েড না, পিওর।
বা সঙ্গীত, বাদ্যযন্ত্র- এসব। ঘুরতে টুরতে যাব। নদীর জল ছুঁয়ে দেখব, পাহাড়ে চড়ব নিজে। গোদাবরী আর পশ্চিমঘাট যে আদৌ আছে, সে জিনিস বিশ্বাস করাও চাপ হয়ে যাচ্ছে ক্রমশ। 
পৃথিবীকে তো আর নেড়িশূন্য করা যাবে না, ফলে শিশুর বাসযোগ্য করতে হলে শিশুর নিওকর্টেক্সে বাস করা পৃথিবীটাকেই নেড়েচেড়ে দেখতে হবে। নিন্দুক বলিল, আপনার এই সিদ্ধান্তকেও সন্দেহের চোখে দেখার কোনও কারণ নেই বলছেন? সম্পূর্ণ নিজস্ব জিনিস? অ্যাজেন্ডা রহিত?
তবে রে! পকেট থেকে ঢিল বের করি। জোরে জোরে মন্ত্র আওড়াই, Cogito ergo sum, cogito ergo sum... খবরে দেখতে পাই, দেশবিরোধী স্লোগান দিচ্ছে নাকি দেশাত্মবোধক এক ব্যক্তি, সির্ফ অন্যের মুখে কালি লেপার জন্য। হা আল্লে্হশ্বর!
সুত্র ঃ অনিক চক্রবর্তী, গ্লোমি সানডে। 

Wednesday, 24 February 2016

আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সের কিছু নিয়ম

দেশের বিভিন্ন স্থানে বিশেষ করে ঢাকায় বেশ কিছু আগ্নেয়াস্ত্রের দোকান দেখা যায়। তবে এসব দোকান থেকে চাইলেই যে কেউ আগ্নেয়াস্ত্র ক্রয় করতে পারে না। আবার যারা ক্রয় করতে পারেন তারা ক্রয়ের পর সরাসরি তা বহন করতে পারেন না। এজন্য আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স সংগ্রহ করতে হয়।

যাদেরকে লাইসেন্স প্রদান করা হয়:
বাংলাদেশে চলমান ১৮৭৮ সালের Arms Act ও ১৯২৪ সালের Arms Rules এর আওতায় সামরিক/বেসামরিক/অন্যান্য ব্যক্তিবর্গকে নিম্নবর্ণিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে অনিষিদ্ধ বোরের আগ্নেয়াস্ত্রসমূহের লাইসেন্স প্রদান করা হয়।

শর্তসমূহ:
  • যে কোন ব্যক্তি একটি লং ব্যারেল (বন্দুক/শর্টগান/.২২ বোর রাইফেল) এবং একটি শর্ট ব্যারেল (এনপিবি রিভলবার/পিস্তল) সর্বোচ্চ দু’টি আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
  • আবেদনকারীর বয়স শর্ত ব্যারেল আগ্নেয়াস্ত্রের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ৩০ (ত্রিশ) বছর এবং লং ব্যারেলের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ২৫ (পঁচিশ) বছর হতে হয়।
  • আবেদনকারীকে অবশ্যই আয়কর দাতা হতে হয়। শিল্পপতি/বিশিষ্ট ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে বছরে ন্যূনতম ২.০ (দুই লক্ষা) টাকা আয়কর প্রদান করতে হয়।
  • আবেদনকারীর অনুকূল পুলিশ প্রতিবেদন থাকতে হয়।
  • অনিষিদ্ধবোরের সকল প্রকার লাইসেন্স সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক কর্তৃক প্রদান করা হয়। তবে পিস্তল ও রিভলবার লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটগণ আবেদনকারীর ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকার গ্রহণ করবেন এবং প্রকৃত প্রয়োজনীয়তা যাচাই করে রিভলবার/পিস্তল লাইসেন্স প্রদানের সুপারিশসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পুর্বানুমতির জন্য প্রেরণ করবে। অন্যান্য লং ব্যারেল অস্ত্রের ক্ষেত্রে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লাইসেন্স প্রদান করেন।
  • সরকারের উপ-সচিব ও তদুর্ধ পরযায়ের কর্মকর্তা, সশস্ত্র বাহিনীর মেজর ও তদুর্দ পরযায়ের কর্মকর্তা ও সমমর‌যাদা সম্পন্ন কর্মকর্তাগণকে প্রয়োজনীয় শর্তাবলী পূরণ সাপেক্ষে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান করা হয়।
  • বার্ধক্যজনিত/মৃত্যুজনিত কারণে উত্তরাধিকারীদের অনুকূলে আগ্নেয়াস্ত্র হস্তান্তর প্রক্রিয়া সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেটগণ সম্পন্ন করেন। এক্ষেত্রে লাইসেন্সধারী মৃত ব্যক্তির Death Certificate, ওয়ারিশান সনদ, লাইসেন্সধারী/ওয়ারিশগণ কর্তৃক ১৫০/- (একশত পঞ্চাশ) টাকার স্ট্যাম্পে নাদাবি হলফনামা, অনুকূল পুলিশ প্রতিবেদন, বয়স প্রমাণের সনদপত্র ইত্যাদি প্রয়োজন।
  • মেরামত অযোগ্য/ত্রুটিপূর্ণ অস্ত্রের পরিবর্তে নতুন অস্ত্র সংগ্রহ/ক্রয়, অস্ত্রের ধরন পরিবর্তন (অনুমতিসাপেক্ষে) করা যাবে। তবে লাইসেন্সে লিপিবদ্ধকরণের ৫ (পাঁচ) বৎসরের মধ্যে আগ্নেয়াস্ত্র বিক্রয় করা যাবে না।
  • কোন লাইসেন্সধারী ব্যক্তিকে অস্ত্র ক্রয়ের ৬ (ছয়) দিনের মধ্যে লাইসেন্স ইস্যুকারী কর্তৃপক্ষের নিকট ক্রয়কৃত অস্ত্র উপস্থাপন করে লাইসেন্সে অস্ত্রের তথ্যাটি লিপিবদ্ধ করতে হয়।
  • আবেদনকারী যদি আর্মি এ্যাক্টের আওতাধীন ব্যক্তি হন (সামরিক কর্মকর্তা) তাহলে নিজ স্থায়ী আবাসস্থলের সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে যথাযথ কর্তৃপক্ষের সুপারিশক্রমে আবেদন করতে পারেন।
  • আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স প্রাপ্তির সকল আবেদন সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট দাখিল করতে হয়। 
লাইসেন্স ও নবায়ন ফি:
ক্র. নং
আগ্নেয়াস্ত্রের ধরন
লাইসেন্স ফি
নবায়ন ফি
১.বীচ লোডিং পিস্তল/রিভলবার/রাইফেল
৪,০০০/-
২,০০০/-
২.ব্রীচ লোডিং শটগান/বন্দুক
২,০০০/-
৮০০/-
৩.ব্রীচ লোডিং ছাড়া অন্যান্য অস্ত্রের ক্ষেত্রে
৮০০/-
৪০০/-

  • আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স ফি একবারের জন্য প্রযোজ্য তবে লাইসেন্স নবায়ন ফি জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের জেএম শাখায় ট্রেজারী চালানের মাধ্যমে জমা দিয়ে প্রতিবছর ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নবায়ন করতে হয়। সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেটগণ ৩১ জানুয়ারী পরযন্ত জরিমানা ছাড়া নবায়ন করতে পারেন। উক্ত সময়ের পরে নবায়ন করতে হলে জরিমানা প্রদানসাপেক্ষে লাইসেন্স নবায়ন করা যাবে। উল্লেখ্য, জরিমানার পরিমাণ মূল লাইসেন্সে প্রদেয় টাকার সমপরিমাণ।
  • সশস্ত্রবাহিনীতে কর্মরত/অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সদস্যগণ নিজ কর্মস্থল/বর্তমান আবাসস্থলের সন্নিকটস্থ জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট থেকে আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স নবায়ন করতে পারবেন। আইনে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে ক্যান্টনমেন্ট একজিকিউটিভ অফিসারগণের মাধ্যমে ও আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স নবায়ন করতে পারেন। তবে উক্ত নবায়নের বিষয়ে লাইসেন্স ইস্যুকারী কর্তৃপক্ষ (সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট) কে অবশ্যই অবহিত করতে হবে।
  • প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে চাকুরীর বদলীজনিত বা অবসরগ্রহণের কারণে বেসামরিক কর্মকর্তা/কর্মচারীগণ তাদের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স নিজ কর্মস্থল/বর্তমান আবাসস্থলের সন্নিকটস্থ জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট থেকে নবায়ন করতে পারবেন। উক্ত নবায়নের তথ্য অবশ্যই লাইসেন্স ইস্যুকারী কর্তৃপক্ষ (সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট) কে অবহিত করতে হবে।
  • Arms Rules 1924 এর Chapter – III এর ৫০ বিধি অনুযায়ী কোন ব্যক্তি আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স ট্রান্সফারের আবেদন করলে তা যথানিয়মে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটগণ নিষ্পত্তি করবেন। তবে এক্ষেত্রে লাইসেন্স ইত্যুকারী কর্তৃপক্ষের অনাপত্তি থাকতে হবে।

ঢাকার কয়েকটি আগ্নেয়াস্ত্রের দোকানের তালিকা:
দোকানের নাম
ঠিকানা ও যোগাযোগ
কে আহমদ এন্ড কোং

দারুস সালাম আর্কেড (২য় তলা), ১৪, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ৯৫৬৭৬৫৯
মোবাইল: ০১৭১১-৫৩৪২৬৩, ০১৯১৯-৫৩৪২৬৩
কে খলিলউল্লাহ এন্ড কোং
এল মল্লিক কমপ্লেক্স (২য় তলা), ১২, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ৯৫৬৫৮৯২, মোবাইল: ০১৭১১-৫৬০৭৩৫।
শফিকুল ইসলাম আর্মস এন্ড কোং
২৩/১১- বি, সি জি রোড, ব্লক# বি, শ্যামলী, মোহাম্মদপুর, ঢাকা- ১২০৭।
ফোন: ৯১৩০৭০৩, ৯১৩৭৩৬৮
ই-মেইল:  info@sislamarmsco.com
ওয়েব সাইট: www.swisstezgroup.com

সুত্রঃ 


Monday, 8 February 2016

এক মিনিট! আগে কী দেখেছি? দেজাভুঃ বিভ্রম নাকি সত্যি?

আমার মনে হয় আমার বয়সী অনেকেই এটা অনুভব করেছেন যে, কখনো কখনো একটি ঘটনা ঘটার পর মনে হয় “আরে এটা তো মনে হয় আগে দেখেছি!” যারা কখনো এটা অনুভব করেননি, তারা হয়তো এই কথাটাকে হাস্যকর ভাবতে পারেন, তবে আমার কাছে ব্যাপারটা হাস্যকর মনে হয় না। এইরকম ঘটনাকে বলা হয় দেজাভু (Deja -vu)। শব্দটা বহুল প্রচলিত একটা ফরাসি শব্দ। Deja vu-কে ইংরেজীতে ব্যাখ্যা করে বলা যায়, “The odd feeling you get when you sense you’ve already experienced something that you know you are doing for the first time” (একটি অদ্ভুত অনুভূতি যেখানে মনে হয় ঘটনাটা আগেও আপনার জীবনে ঘটেছিলো, অথচ আপনি জানেন যে, এটা আপনি প্রথমবারের মত করছেন)।
ব্যাপারটা খুব ইন্টারেস্টিং। তবে ইন্টারনেটে এই ব্যাপারে যথেষ্ট তথ্য পাওয়া যায় না। যদিও এই বিষয়ে অনেক গবেষণা হয়েছে, তবু কেন এটা ঘটে সেটার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। এই অনুভূতি নিয়ে আজ পর্যন্ত ৪০টিরও অধিক সম্ভাব্য ব্যাখ্যা দিয়েছেন স্নায়ু বিশেষজ্ঞরা। মেডিকেল সায়েন্সের জন্য এটি একটি রেকর্ড। অথচ একটিরও প্রমাণ সম্ভব হয়নি।
অধিকাংশ জরিপ অনুযায়ী দেজাভু অনুভূত হয় ব্যক্তির বয়স যখন ১৫ থেকে ২৫ এর মধ্যে থাকে তখন। প্রায় ৭০ শতাংশ লোক এই ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলা করে। প্রতিটি অনুভূতির সময় ভিকটিমকে হঠাৎ অদ্ভুত ধরনের অস্বস্তিকর অবস্থার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। তবে এটা দ্রুতই কেটে যায়। পরে যখন কেউ এটা নিয়ে ভাবে, তার মনোজগতের বড় অংশ সেটা দখল করে রাখে। কিছু সময়ের জন্য হলেও সারাজীবনই সে এটা নিয়ে ভাবতে থাকে।
অধিকাংশ সম্ভাব্য ব্যাখ্যার মতে, দেজাভু বা পূর্বদেখার অনুভূতি আসলে আমাদের জীবনের একটি অংশের স্মৃতির হঠাৎ করে জেগে উঠা। যে স্মৃতি হয়তো কোনো কারণে আপনি ভুলে গেছেন কিন্তু হুবহু একই ঘটনা ঘটার সময় মস্তিষ্কের টেমপোরাল অংশ আপনার পূর্বের ওই স্মৃতিটাকে জাগিয়ে তুলছে। কিন্তু মস্তিষ্ক কবে সেই স্মৃতি ধারণ করেছিলো ঐ তথ্য না থাকায়, কিছুটা বিভ্রান্তিমূলক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
আরেকটি তত্ত্ব অনুযায়ী, এই ধরনের অনুভূতি হল মস্তিষ্কের উর্বরতার ফসল। পরবর্তীতে কী ঘটবে সেটা আমরা কিছুটা আগেই আন্দাজ করে ফেলি। আর যখন তা মস্তিষ্কের এই আন্দাজ/প্যাটার্ন অনুযায়ী মিলে যায়, তখন অদ্ভুত অনুভূতির জন্ম হয়। “আরে এইটা কি আগে ——–?”
কিছু থিওরি বলে হেলুসিনেশন যখন নিয়ন্ত্রণের ভেতরে থাকে, তখনও এই অনুভূতি হতে পারে। কোনো কোনো নিউরোসাইকোলজিস্ট এমনও বলেছেন যে, যাদের দেজাভু অনুভূত হয় তাদের সিজোফ্রেনিয়া, এপিলেপসি বা মৃগী রোগের মত মারাত্মক মানসিক ব্যাধিও হবার সম্ভাবনা থাকে। তবে এই ধারণাটি কখনোই হালে পানি পায়নি। এটিকে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ভুল বিবেচনা করা হয়ে থাকে।
কিছুদিন আগে অবশ্য পদার্থবিদ “মিশিও কাকু” দেজাভু ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে নতুন একটা ধারণা সামনে এনেছেন। তিনি এটাকে ব্যাখ্যা করেছেন প্যারালাল ইউনিভার্সের মত জটিল একটা ব্যাপার দিয়ে। উনি বলেছেন, দেজাভুর ব্যাপারগুলো হয়তো সত্যিই ঘটে, তবে সেটা হয়ত অন্য কোনো এক ভুবনে [যেটাকে উনি প্যারালাল ইউনিভার্সের অন্তর্গত হিসেবে বুঝিয়েছেন]। তার ধারণা বলে, মানুষ তখনই দেজাভু অনুভব করে, যখন অন্য ইউনিভার্স এবং আমাদের ইউনিভার্সের convergence ঘটে. Convergence-কে বলতে পারেন এক ধরনের আপাতন বা উপরিপাতন। তার এই ধারণাটা বেশ জটিল এবং এটা বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
তবে একটি ব্যাপার সুনিশ্চিত, দেজাভু আমাদের মস্তিকেরই কোনো রহস্যময় অধ্যায়। এর মর্মার্থ বুঝতে হয়তো মনুষ্যপ্রজাতির আরো কিছু সময় দরকার। একটা ব্যাপার আশা করাই যায় যে, এর প্রকৃত কারণটা খুব চমকপ্রদই হবে।

Wednesday, 3 February 2016

মাস্টারবেশন নিয়ে কিছু কথা

মাস্টারবেশন কি ক্ষতিকর? এর ফ্রিকুয়েন্সি কেমন হওয়া উচিৎ?
-সেক্সুয়ালিটি/ মাস্টারবেশন নিয়ে কিছু ভুল ধারণা আমরা ভাঙতে যাচ্ছি। মাস্টারবেশন ছোটবেলা থেকে বয়স্ক মানুষ পর্যন্ত একটি স্বাভাবিক ঘটনা। শিশুরাও মাস্টারবেট করে, বয়স্করাও মাস্টারবেট করে। আমরা ভাবি যে, পুরুষরা মেয়েদের তুলনায় বেশী মাস্টারবেট করে, কিন্তু সঠিক তথ্য হচ্ছে নারী পুরুষ সমান হারে মাস্টারবেট করে। কিশোররা সপ্তাহে ৩/৪ বার, প্রাপ্ত বয়স্করা সপ্তাহে ১/২ বার, এমনকি বিবাহিতরা মাসে ১/২ বার মাস্টারবেট করে। এরচেয়ে বেশী করলেও সেটি অস্বাভাবিক নয়। এটি তখনই অস্বাভাবিক যখন মানুষের সেক্সুয়াল এবং সামাজিক সম্পর্কে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়। যদি একটি কারো সম্পর্কের জন্য পীড়াদায়ক হয়, বা তার কর্মজীবনের জন্য বাধা দেয়, যদি মাস্টারবেশনের কারণে কেউ শিক্ষা, পড়াশোনা, চাকরী, এসব ক্ষেত্রে ঠিকমতো কাজ করতে না পারে তাহলেই শুধুমাত্র মাস্টারবেশন ক্ষতিকর।
উদাহরণ স্বরূপ , একজন চল্লিশ বছর বয়স্ক লোক আসলো একজন ডাক্তারের কাছে দেখা করতে, বললেন, “ডাক্তার সাহেব আমি কি করব আমি জানিনা, আমার একটা সমস্যা আছে, আমি প্রতিদিন মাস্টারবেট করি, কখনও কখনও দিনে দুবার ও করি, সপ্তাহে চারবার আমার স্ত্রীর সাথে মিলিত হই, এমনকি আমার রক্ষিতাও আছে, যার সাথে আমি সপ্তাহে দুবার মিলিত হই, আমি কী করব?’’ খোঁজ নিয়ে জানা গেল, লোকটার কর্মজীবন চমৎকার, সে খুব সফল একজন মানুষ, ফ্যামেলী রিলেশন, পারিবারিক জীবন ও খুব সুন্দর।
তাহলে সেক্ষেত্রে উনার সেক্সুয়াল লাইফে কোন সমস্যা নেই। তার শুধুমাত্র যৌনচাহিদা বেশী। যতক্ষণ পর্যন্ত এটি কোন সম্পর্কের জন্য বাধাদায়ক হয়ে দাঁড়াচ্ছে না, ততক্ষণ পর্যন্ত মাস্টারবেশন স্বাভাবিক।
অনেক রোগী মাস্টারবেশন নিয়ে খারাপ বোধ করে। তাঁদেরকে যা বোঝানো উচিৎ সেটি হচ্ছে মাস্টারবেশন স্বাভাবিক।
তথ্যসূত্র-  কেপলান লেকচার সিরিজ
কেপলানের সোর্স কতটূকু অথেনটিক?
এটি পুরোপুরি অথেনটিক। কারণ কেপলান সবসময় তথ্য আপডেটেট রাখে। আধুনিক মেডিসিন যে পর্যায়ে আছে কেপলান সবসময় সেখানে পৌঁছোয়, সে পর্যায় থেকে তথ্য নিয়ে তারা শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করে। কেপলানের তথ্য যদি ভুল হত তাহলে আমেরিকায় ডাক্তার হতে যাচ্ছে যারা তারা সবাই ভুল তথ্য জেনে ভর্তি পরীক্ষা দিতে যেতেন, তারা ভুল উত্তর দিয়ে আসতেন, এবং ফেল খেয়ে আমেরিকার ডাক্তার হতে পারতেন না। কিন্তু ব্যাপারটা তা না। কেপলান থেকে পড়ে প্রতি বছর বিশাল একটা অংশ ডাক্তার হয়ে বের হচ্ছে। যাঁদের জ্ঞানের উৎস হচ্ছে কেপলান। তারা কেপ্লান জেনে, কেপলান পড়ে ডাক্তার হয়ে বের হচ্ছে। কাজেই আমেরিকান ডাক্তারদের নলেজ বেজ অনেকাংশেই কেপলান থেকে আসা। কাজেই এটি ভুল হওয়ার কোন সুযোগ নেই। তাছাড়া কেপলান প্রতি দুবছর পর পর আপডেট করে।
কেউ একজন গুগল করে কি সঠিক তথ্য পেতে পারে? রিসার্চ কতটা অথেনটিক হতে পারে?
গুগল করে সবকিছু জানা সম্ভব। সার্চ করে আপনি অনেক তথ্য পেতে পারেন, তবে এর সবকিছু যে সঠিক হবে এমন কোন কথা নেই। যেমন আপনি কলা খাওয়ার উপকারীতা নিয়ে জানতে চাইছেন, আপনি এমন অনেক লিংক পাবেন যেগুলো আপনাকে দেখাবে কলা খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে। আবার কলা খাওয়ার অপকারিতা সম্পর্কে জানতে চাইলে আপনি সেটিও পাবেন। এরমানে আপনি গুগলে কিছু নিয়ে সার্চ করলে আপনি সেটিই পাবেন, তবে সেটি যে সঠিক হবে এমন কোন কথা নেই। এটি একধরনের অবজারভার বায়াস। মানে আপনি যা খুঁজতে চাইছেন সেটি খুঁজে নেয়া। আপনি যখন গুগল থেকে কিছু তথ্য খুঁজতে যাচ্ছেন আপনি নিজেই Observer Bias (পর্যবেক্ষকের পক্ষপাতিত্ব) নিয়ে আসছেন। এখন তাহলে আপনি অথেনটিক তথ্য কীভাবে পাবেন- এখানে হচ্ছে পড়াশুনার প্রয়োজনীয়তা। সঠিক তথ্য জানতে হলে আপনাকে আরো পড়তে হবে, আরো জানতে হবে, যে বইয়ের রেফারেন্স পাচ্ছেন সেই বইগুলো পড়তে হবে। এবং তখন আপনার উপলব্ধি হবে- না, এই লিখাটি ভুল হতে পারে! তখন আপনাকে অন্য বই দেখতে হবে। এভাবে আপনি সঠিক একটি তথ্যে পৌঁছোতে পারেন।
হয়তো আপনি গুগল করে অনেক পরিসংখ্যান পেলেন কোনো একটি বিষয় নিয়ে। তাহলে বিভিন্ন পরিসংখ্যান কীভাবে আসে?
পরিসংখ্যান আসে বিভিন্ন রিসার্চের ভিত্তিতে। রিসার্চগুলো হয় কিছু জনসংখ্যা বাছাইয়ের মাধ্যমে, যাদেরকে বলা হয় স্টাডি পপুলেশন । সেই বাছাই করা জনসংখ্যায় গবেষণা চালানো হয়। চালিয়ে একটা ফলাফলে পৌঁছানো হয়। এখন পপুলেশন বাছায়ের উপর নির্ভর করে এর ফলাফল কেমন আসবে। যেমন- বিবাহিত দম্পতির যৌনজিবন নিয়ে যদি একটি গবেষণা চালানো হয় এবং এর জন্য আমরা বেছে নিতে পারি ১৩ হাজার দম্পতিকে তাহলে এর ফলাফল কী আসবে? এটা নির্ভর করে আমরা ১৩ হাজার দম্পতি যে নিচ্ছি, তাঁদের ওপর। সেটি কি বাংলাদেশের ১৩ হাজার দম্পতি (যাঁদের সেক্স লাইফ বেশ ভাল)? নাকি এটি জাপানের ১৩ হাজারের দম্পতি যারা সেক্স করার সময় ই পায় না? নাকি সেটি কেনটাকির ১৩ হাজার দম্পতি, এই ১৩ হাজার দম্পতির মধ্য ‘জিহোভা’স উইটনেস’ কয়জন, যারা মাস্টারবেশন করা পুরোপুরি নিষিদ্ধ মনে করে? এ সবকিছুর উপর নির্ভর করবে এই ফলাফল কেমন আসবে। রিসার্চের রেজাল্ট আসলে পুরোপুরি নিখুঁত হবেনা, কারণ যখনই আমরা একটা নির্দিষ্ট একটা পপুলেশন বাছাই করব, তখনই সেখানে সিলেকশন বায়াস চলে আসবে (একে আমরা এভাবে বলতে পারি যে – এই রিসার্চে খাদ আছে, যেই খাদ কে বলা হয় বায়াস) । আমি কাদেরকে নিয়ে গবেষণা করছি ,সেটির উপর নির্ভর করে আমার ফলাফল কী আসবে।
আমি যদি ১৩ হাজার ছেলের উপর গবেষণা করি, তাঁদের সেক্স লাইফ কেমন, কিন্তু সে ছেলেমেয়ে হচ্ছে বাংলাদেশের ১২/১৩ বছরের ছেলেমেয়ে শহরের ছেলেমেয়ে যাঁদের জীবন কড়া শাসনে আবদ্ধ, তাহলে আমরা দেখব তাঁদের সেক্স শূন্য, মাস্টারবেশন করার সুযোগ ও তেমন পায় না, কিন্তু সেটি যদি গ্রামের ১২/১৩ বছরের ছেলেমেয়ে হয়, দেখবো তাদের অলরেডি যৌন অভিজ্ঞতা হয়ে গেছে। এগুলো হচ্ছে সিলেকশন বায়াস।
পক্ষপাতিত্ব ছাড়া কোন গবেষণা হওয়া সম্ভব নয়। আমরা চাইলে পক্ষপাতিত্ব কমাতে পারি। কিন্তু একেবারে কমানো বাস্তবে সম্ভব নয়। কাজেই রিসার্চের যে রেজাল্টগুলো আসে, সেগুলো আমরা থিউরিটিক্যাল রেজাল্ট ধরে নেই। এগুলো আসলে পুরোপুরি প্র্যাক্টিকাল না। এবং স্ট্যাসিস্টীকস ও পুরোপুরি গড় বিষয়টিকে নির্দেশ করে।
এসব রিসার্চ কারা করে? স্পষ্ট করে বলতে গেলে, এসব ক্লিনিকাল রিসার্চ কারা করে?
কোনো না কোনো প্রতিষ্ঠান বা এজেন্সি এসব গবেষণা পরিচালনা করেন। রিসার্চের আরেকটা বড় ত্রুটি হচ্ছে, এসব প্রতিষ্ঠান সচরাচর গবেষণায় তাই প্রচার করে ছাড়ে যা তারা প্রমাণ করতে চায়। এ পরিস্থিতিকে বলা হয় পর্যবেক্ষকের পক্ষপাতিত্ব বা অবজার্ভার বায়াস।
অবজারভার বায়াস হচ্ছে যে গবেষণা টি পরিচালনা করছে সে তার মনমানসিকতা, ইচ্ছা গবেষণার উপর প্রভাব ফেলা (পিগ্মালিয়ন ইফেক্ট) । যেমন ধরি কোন কন্টাক্ট লেন্স কোম্পানি গবেষণা করে দেখতে চাইল তাঁদের লেন্স ভাল তখন তারা লেন্সের ভাল দিক গুলো নেবে, খারাপ দিক গুলো এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবে। অবজারভার বায়াস একেবারে সাধারণ জিনিস। এটি এড়াবার জন্য আমরা যেটা করতে পারি সেটি হচ্ছে Double Blind Study Method। এই পদ্ধতি হচ্ছে যার উপর গবেষণা হচ্ছে তিনিও জানেন না তার উপর কীভাবে গবেষণা (বা পর্যবেক্ষণ) চলছে, যিনি গবেষণা করছেন তিনিও জানেন না ঠিক কাদের নিয়ে গবেষণা করছেন, শুধুমাত্র থার্ড পার্টি জানেন, কী গবেষণা হচ্ছে, কার উপর গবেষণা হচ্ছে।
কিন্তু এভাবে করে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আমরা গবেষণা চালাতে পারি না। এটি শুধুমাত্র সম্ভব ল্যাবে, বা একটা রিসার্চ ফ্যাসিলিটিতে অল্প কিছু মানুষ নিয়ে গবেষণা করলে । অন্যথায় বায়াস চলে আসছেই! এর মানে হচ্ছে রিসার্চ স্ট্যাটিস্টিক্স একটা গড়পড়তা ধারণা দেবে , কিন্তু নিখুঁত ধারণা দিতে পারে না।
বাংলাদেশে মাস্টারবেশন বিষয়ে সঠিক তথ্য পাওয়া কঠিন নাকি সহজ? কেন?
  • খুব কঠিন!
মূলত বাংলাদেশে এবিষয়ে আমরা শিক্ষা পাই ছেলেবেলায় বন্ধুর কাছ থেকে শুনে! অথবা ক্যানভাসারের মজমার আসর থেকে যারা উল্টা পাল্টা বলে বিভিন্ন যৌন রোগের ঔষধ বিক্রি করে। বাংলাদেশে সেক্স এডুকেশন ট্যাবু হিসেবে গণ্য করা হয়। এটি নিয়ে স্কুল কিংবা পরিবারে কোথাও আলোচনা করা হয় না। যারা ভাল জানেন তাঁদের অনেকেই সময় পান না সেসব বিষয় শেয়ার করার। ডাক্তারের কাছ থেকে যাওবা জানার একটু সুযোগ থাকে কিন্তু বেশির ভাগ ডাক্তার সেক্স বিষয়ে ব্যাকডেটেড নলেজ নিয়ে পড়ে থাকেন। সুযোগ অথবা সময়ের অভাবে নিজেদের আপডেট করেন না। ফলাফল হচ্ছে এসব বিষয় নিয়ে সঠিক তথ্য কোথাও জানার উপায় নেই কিংবা যা জানা হচ্ছে তা বেশির ভাগ ভুল তথ্য। ধন্যবাদ!