Thursday, 3 December 2015

প্রসেসরের গতি আর বাড়ে না কেন?

যারা অনেকদিন ধরে কম্পিউটার ব্যবহার করেন, তাদের হয়তো এই ব্যাপারটা চোখে পড়েছে। এক সময় নতুন মডেলের কম্পিউটার কেনার সময়ে প্রসেসরের গতিটা ছিলো খুব গুরুত্বপূর্ণ। বছর ১৮ আগে প্রসেসর ছিলো পেন্টিয়াম ১- ১৬৬ মেগা হার্জ। প্রসেসরের গতি বাড়তে বাড়তে ২০০৪-৫ নাগাদ পৌছে যায় ৩ গিগা হার্জে।
কিন্তু এখন? গতিবৃদ্ধির হার অনুসারে এই গতিটা এতোদিনে তো ৫-৬ গিগা হার্জে পৌঁছে যেতে পারতো। কিন্তু তা তো যায়নি। কেন?

এর পেছনে কারণ অনেক। বর্তমানের প্রসেসরে আগের প্রসেসরের চাইতে অনেক বেশি ট্রানজিস্টর ও লজিক গেইট দেয়া হচ্ছে। সেটা করতে গিয়ে ট্রানজিস্টরের ঘনত্ব বা ডেনসিটি বাড়াতে হয়েছে, মানে এখন একই জায়গায় অনেক বেশি ট্রানজিস্টর দেয়া হচ্ছে। এইসবের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলো –
(১) বিদ্যুৎ খরচ – ডেস্কটপ কম্পিউটারের বিদ্যুৎ খরচ বাড়তে বাড়তে ১০০ ওয়াটের উপরে চলে গেছে। যত বেশি ট্রানজিস্টর, তত বেশি বিদ্যুৎ খরচ। আর গতি বাড়ালে বিদ্যুৎ খরচটাও বাড়ে। তাই ক্লক স্পিড আর বাড়ছে না।
(২) তাপ – ক্লক স্পিড বাড়া মানে কম্পিউটার আরো অনেক বেশি কাজ করছে, ফলে বিদ্যুৎ খরচ বাড়ার সাথে সাথে তাপ উৎপাদনের পরিমাণও বাড়ছে। হিট সিংক, কুলিং ফ্যান এসব দিয়েও পার পাওয়া কঠিন, তাই গতি বাড়ানোটা বন্ধ আছে।
(৩) RC product – বেশি ট্রানজিস্টর গাদাগাদি করে বসানোতে তাদের সংযোগকারী তার হতে হচ্ছে অনেক বেশি সুক্ষ্ণ। এবং এর ফলে সেই সংযোগের রোধ বা রেসিস্ট্যান্সও বাড়ছে। আবার খুব কাছাকাছি নানা যন্ত্রাংশ ও তার বসানোতে তাদের ক্যাপাসিট্যান্স বাড়ছে। এই দুইটি জিনিষ বাড়ার কারণে বাড়ছে RC প্রডাক্ট, যা প্রসেসরের মধ্য দিয়ে ইলেক্ট্রন প্রবাহ তথা বিদ্যুতের গতিকে ধীর করে দিচ্ছে। ফলতঃ প্রসেসরের গতি একটা নির্দিষ্ট সীমার উপরে বাড়ানো কঠিন।
(৪) RAM এর গতি – কেবল প্রসেসরের গতি লাগামহীনভাবে বাড়িয়ে কোনো লাভ নাই, যদি না প্রসেসরের সাথে মেমরির যোগাযোগটি ধীর গতির হয়ে পড়ে থাকে। RAM এর সাথে প্রসেসরের যোগাযোগ হয় মেমরি বাস দিয়ে। তার গতি প্রসেসরের গতির চাইতে অনেক কম। সেজন্য প্রসেসরের গতি বাড়াতে থাকলেই কম্পিউটার দ্রুত চলবে সেরকম না, বরং অনেকটা সময় প্রসেসরকে অলস ভাবে পড়ে থাকতে হবে করার মতো কাজ না পেয়ে (যেহেতু RAM থেকে ডেটা আসতে সময় লাগবে)।
উপরের এই প্রধান কারণগুলোর জন্যই বহুদিন ধরে প্রসেসরের গতি বা ক্লক স্পিড বাড়ানোর ব্যাপারটা থেমে আছে। অবশ্য কম্পিউটারের দক্ষতা বাড়ছে, তা অবশ্য অন্যভাবে। বর্তমানে সেটা করা হচ্ছে প্রসেসরের ভিতরে একাধিক কোর (Core) ভরে দিয়ে। বর্তমানের অধিকাংশ প্রসেসরই তাই মাল্টিকোর প্রসেসর। 
সুত্রঃরাগিব হাসান

Sunday, 25 October 2015

জয়পুরেহাটের কিছু আঞ্চলিক ভাষা

জয়পুরেহাটের কিছু আঞ্চলিক ভাষা ৷৷
.
I = মুই
My=হামার
Our=হাংগে
Your=তুরি/তুরগে
Where = কোন্টে/কোটে
Here = এটে
There = ওটে
Kitchen = পাকঘর/আন্দন ঘর
Bedroom = শোতার ঘর
Understand!? = বুজা পাচু
Let's go = চ দিনি যাই
Daily = লিত্তি
Everyone = বেকেই
Finger = লগ
Boy = চেংরা/ছোরা
Girl = চেংরি/ছুরি
Body = গাও
Boot = লৌকা
Mud = কাদো
Shower = ডুব দেওয়া
Goat = বরকি
Dog = কুত্তা
Cat = বিলাই
Sleep = নিন পারা
Leg = ঠ্যাং/পাও
Song = গীত
Quarrel = ক্যাচাল
Alley = শুললি
Enter = শিলানো
Mother in law = শাউর
I don't know = মুই জানো না
Don't act like a dumb = ভুংগি করিস না
তো
hey Shuvo how r u = ক্যা বা শুভ ক্যাংকা আচো?
Why r u doing this = তুই ইংকা করোচ কা
Not feeling well = কেচ্চু ভাল্লাগোচেনা
This = এটা
That = ওটা
Why is it like that = এটা উঙ্কা ক্যা?
Did you go there = ওটে গেচুলু?
Did you eat = খাচু ?
Do you know me = মোক চিনিস ?
Like/like that = মনত ধরা
These = এলা
Those = ওলা/সেলা
Little bit = মিচ্চেনা/ অল্প এনা
Down below = লিচে
Wanna go = যাবু ?
Wanna eat = খাবু ?
Pursuance/convincing = পটান
Stick = শিমটা
Beating stick = পান্টি
Will it work if you say it like that = ইঙ্কা করে
কলে হবে ?
Broom = শামটা
Gave = দেনু
Said = কনু
Lost = হারানু
Won = জিতনু
Wanna get beat = কোবান খাবু/ বসান
খাবু ?
Why you doing it-তুই ইঙ্কা করোচো ক্যা!
hey sister= কা বু
hey mister= কা বারে
Life= জিউ
Pond=পকর
River=লদী
Road=আস্তা
Rickshaw=এস্কা
Dark=আন্দার
Eid=রীদ
Moon=চাঁন
Morning=বরভান
Night=আত
Slight=মিচ্চেনা/একনা এনা
Poor= বেন্না
Take it= লেও/লে
hesitation- ভজকট
touch-লারা
Sun light-ওদাই।।
New-লতুন ।।
Plant Patato-আলু ওচো।।
Useing Facebook-ফেসবুক চালাচো?
laughing - হাসোচো?
So now comment something- তে লে একোন আনা কমেন্ট কর দেনি ৷

Thursday, 17 September 2015

ব্লাডমুন বা সুপারমুন-Super-moon Lunar Eclipse 2015

নাসার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে August 31, 2015 একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয় ।। তাতে ব্লাডমুন কিংবা সুপারমুন এর বিষয়ে খুব মজার কিছু তথ্য ও এই বছর মানে ২০১৫ তে কবে ব্লাডমুন কিংবা সুপারমুন দেখা যাবে তা বলা হয় ।।  আসুন আগে ভিডিওটা দেখে নেই ।


(ভিডিওর ভাল রেগুলেশান ও মুল পেজ লিংক নিচে দেয়া আছে  )
।।
এখন ব্লাডমুন কিংবা সুপারমুন নিয়ে  সামান্য কিছু বলি । ব্লাডমুন কিংবা সুপারমুন এটি মূলত চাঁদের একটি প্রতিচ্ছায়া। যার ফলে চাঁদকে রক্তিম মনে হয়। ব্লাডমুন তখনই ঘটে যখন চাঁদ পৃথিবীর খুব কাছে চলে আসে। ব্লাডমুন হয় পূর্ণিমার সময়। ঠিক ঐদিনই চন্দ্রগ্রহণও হয়। এবছরের এই মাসে অর্থাৎ সেপ্টেম্বরের  ২৭ তারিখ হবে ব্ল্যাডমুন। এদিন চাঁদ পৃথিবীর অনেকটাই কাছে চলে আসবে। ফলে চাঁদকে বড় মনে হবে। চাঁদের আলো হবে উজ্জ্বল। ঐদিন প্রথমে পূর্ণ চাঁদটি পৃথিবীর উপবৃত্তাকার কক্ষপথে এমন একটি কাছাকাছি অবস্থানে চলে আসবে, যখন চাঁদকে বেশি বড় দেখাবে। মূলত সুপারমুন পৃথিবীর পেছন দিকে অন্ধকার অঞ্চলে প্রবেশ করলে পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণে রূপ নেয়, লাভ ছোপ ছোপ আলোর আভা ছড়ায়। এজন্য একে ব্লাডমুন বলা হয়।
যারা ইউরোপ বা আফ্রিকাতে আছে তারা ২৮ তারিখ ভোরে দেখতে পাবে সুপারমুন । এই ভিডিওতে বিগত শতাব্দির সুপারমুনের তথ্য দেয়া আছে ,  ৩০ বছর পর চাঁদ পৃথিবীর কাছাকাছি চলে আসছে


আর কয়েকদিন দিন পর আকাশে আমরা যাকে দেখব, সেই ‘সুপার মুন’ দেখার সুযোগ আমরা পাই খুব কম।আর একই দিনে ‘সুপার মুন’ আর ‘পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ’ এর ঘটনাকে বিরলই বলা যায়। যা গত ৩০ বছরে ঘটেনি।একশো বছরে আমরা এই সুযোগ পেয়েছিলাম মাত্র পাঁচ বার। ১৯১০, ১৯২৮, ১৯৪৬, ১৯৬৪ আর ১৯৮২ সালে। এই সুযোগ আবার পাব ১৮ বছর পর ২০৩৩ সালে।
চাঁদ আসলে পুর্ন বৃত্তের মত আমাদের চারপাশে মানে পৃথিবীর চারপাশে ঘোরেনা ।। অনেকটা ডিমের মত চেপ্টা আকারে ঘোরে, মানে কেন্দ্রের কখনো দূরে কখনো কাছে  এই স্থানে কেন্দ্র পৃথিবী । ২৭ সেপ্টেম্বর আসবে আমাদের সবচেয়ে কাছে, যাকে বলে ‘পেরিজি’।


তবে এই দিনে পৃথিবী ধ্বংসের অনেক গুঞ্জনের খবর থাকলেও এমনটা হবার সম্ভাবনা নাই বলে নাসা জানিয়েছে

তথ্যসুত্রঃ
বিস্তারিত জানতে নাসার সাইটে ঘুরে আসতে পারেন

Monday, 14 September 2015

কম্পিউটার ভাইরাস

কম্পিউটার ভাইরাস হল এক ধরনের কম্পিউটার প্রোগ্রাম যা ব্যবহারকারীর অনুমতি বা ধারণা ছাড়াই নিজে নিজেই কপি হতে পারে। মেটামর্ফিক ভাইরাসের মত তারা প্রকৃত ভাইরাসটি কপিগুলোকে পরিবর্তিত করতে পারে অথবা কপিগুলো নিজেরাই পরিবর্তিত হতে পারে। একটি ভাইরাস এক কম্পিউটার থেকে অপর কম্পিউটারে যেতে পারে কেবলমাত্র যখন আক্রান্ত কম্পিউটারকে স্বাভাবিক কম্পিউটারটির কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। যেমন: কোন ব্যবহারকারী ভাইরাসটিকে একটি নেট ওয়ার্কের মাধ্যমে পাঠাতে পারে বা কোন বহনযোগ্য মাধ্যম যথা ফ্লপি ডিস্ক, সিডি, ইউএসবি ড্রাইভ বা ইণ্টারনেটের মাধ্যমে ছড়াতে পারে। এছাড়াও ভাইরাসসমূহ কোন নেট ওয়ার্ক ফাইল সিস্টেমকে আক্রান্ত করতে পারে, যার ফলে অন্যান্য কম্পিউটার যা ঐ সিস্টেমটি ব্যবহার করে সেগুলো আক্রান্ত হতে পারে। ভাইরাসকে কখনো কম্পিউটার ওয়ার্ম ও ট্রোজান হর্সেস এর সাথে মিলিয়ে ফেলা হয়। ট্রোজান হর্স হল একটি ফাইল যা এক্সিকিউটেড হবার আগ পর্যন্ত ক্ষতিহীন থাকে।
বর্তমানে অনেক পার্সোনাল কম্পিউটার (পিসি) ইণ্টারনেট ও লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত থাকে যা ক্ষতিকর কোড ছড়াতে সাহায্য করে। ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব, ই-মেইল ও কম্পিউটার ফাইল শেয়ারিং এর মাধ্যমে ভাইরাস সংক্রমন ঘটতে পারে। কিছু ভাইরাসকে তৈরি করা হয় প্রোগ্রাম ধ্বংশ করা, ফাইল মুছে ফেলা বা হার্ড ডিস্ক পূণর্গঠনের মাধ্যমে কম্পিউটারকে ধ্বংশ করার মাধ্যমে। অনেক ভাইরাস কম্পিউটারের সরাসরি কোন ক্ষতি না করলেও নিজেদের অসংখ্য কপি তৈরি করে যা লেখা, ভিডিও বা অডি ও বার্তার মাধ্যমে তাদের উপস্থিতির বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। নিরীহ দর্শন এই ভাইরাসগুলোও ব্যবহারকারীর অনেক সমস্যা তৈরি করতে পারে। এগুলো স্বাভাবিক প্রোগ্রামগুলোর প্রয়োজনীয় মেমোরি দখল করে। বেশ কিছু ভাইরাস বাগ তৈরি করে, যার ফলশ্রুতিতে সিস্টেম ক্র্যাশ বা তথ্য হারানোর সম্ভাবনা থাকে।

প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা

দুটি সাধারণ পদ্ধতিতে এণ্টি-ভাইরাস সফটওয়্যারগুলো ভাইরাস সনাক্ত করে থাকে। প্রথম ও সর্বাধিক প্রচলিত পদ্ধতিটি হল ভাইরাস সিগনেচার  তালিকা থেকে ভাইরাস সনাক্তকরণ। এই সনাক্তকরণ পদ্ধতির প্রধান সমস্যা হল ব্যবহারকারীরা কেবল সেসব ভাইরাস থেকেই রক্ষা পান যেগুলো পুর্বোক্ত ভাইরাস  আপডেটে উল্লিখিত থাকে। দ্বিতীয় পদ্ধতিটি হল হিউরিস্টিকএলগরিদম যা ভাইরাসের সাধারণ  থেকে সনাক্ত করা হয়। এই পদ্ধতিতে এণ্টি-ভাইরাস সিগনেচার ফার্ম কর্তৃক  ভাইরাস না হয়েও তা সনাক্ত করা যায়।

সারানোর প্রক্রিয়া

কোন কম্পিউটার একবার ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হবার পর অপারেটিং সিস্টেম পুনরায় ইনস্টল করা ছাড়া তা ব্যবহার করা বিপদজনক। তবে ভাইরাস আক্রান্ত কম্পিউটারকে সারিয়ে তোলার জন্য বেশ কয়েকটি পদ্ধতি রয়েছে। এই পদ্ধতিগুলো ভাইরাসের প্রকার ও আক্রান্ত হবার মাত্রার উপর নির্ভর করে।

ভাইরাস মুছে ফেলা

পিসিতে ক্ষতিগ্রস্ত সিস্টেমকে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে আসার পদ্ধতিটি সিস্টেম রিস্টোর নামে পরিচিত, যা রেজিস্ট্রি এবং গুরুত্বপূর্ণ সিস্টেম ফাইলসমূহকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে আসে। অনেক সময় এর প্রয়োগ ভাইরাস সিস্টেমটিকে হ্যাং করে দেয় এবং পরবর্তীতে হার্ড রিবুট এটিকে ক্ষতিগ্রস্ত করার আগের অবস্থায় নিয়ে যাবে। অবশ্য কিছু ভাইরাস রিস্টোর সিস্টেমসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ টুল যথা টাস্ক ম্যানেজার এবং কমাণ্ড প্রম্পট বিকল করে দেয়। এগুলো করে এমন একটি ভাইরাসের নাম সায়াডোর। বিভিন্ন উদ্দেশ্যে এডমিনিস্ট্রেটরের উক্ত টুলগুলো অন্যান্য ব্যবহারকারীদের জন্য অকেজো করে রাখার ক্ষমতা আছে। ভাইরাস রেজিস্ট্রিকে পরিবর্তন করে দেবার মাধ্যমে একই কাজ করে, ফলে যখন একজন প্রশাসক কম্পিউটারটি চালান তখন তিনিসহ অন্যান্য ব্যবহারকারী এই টুলগুলো ব্যবহার করা থেকে বঞ্চিত হন। যখন একটি আক্রান্ত টুল ভাইরাসের মাধ্যমে অকেজো হয়ে যায় তখন তা "Task Manager has been disabled by your administrator." বার্তাটি দেয়।

অপারেটিং সিস্টেমের রিইন্সটলেশন

যদি কোন কম্পিউটারে এমন কোন ভাইরাস থাকে যা এণ্টি ভাইরাস সফটওয়্যারের পক্ষে মুছে ফেলা সম্ভব না হয় তবে অপারেটিং সিস্টেমের পুনরায় ইন্সটলেশন জরুরি হতে পারে। এটি সঠিকভাবে করার জন্য হার্ড ড্রাইভ সম্পুর্ণভাবে ডিলিট করতে হবে (পার্টিশন ডিলিট করে ফরম্যাট করতে হবে)।
সুত্র ঃ উইকিপিডিয়া ও সায়েন্স নিউজ

Saturday, 12 September 2015

এইডস নিয়ে কিছু কথা

এইডস কী?

প্রথমেই এটা জেনে রাখা প্রয়োজন যে এইডস কোন রোগ নয়। AIDS এর পূর্ণরূপ হলো Acquired Immune Deficiency Syndrome, এটার বঙ্গানুবাদ করলে দাঁড়ায়- ‘অর্জিত বা অন্যের কাছ থেকে পাওয়া রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ঘাটতির লক্ষণসমূহ’। আর HIV মানে হচ্ছে Human Immunodeficiency Virus। এইচআইভি এমন একধরনের ভাইরাস, যা মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ধীরে ধীরে ধ্বংস করে দেয়। এইচআইভি সংক্রমণের কারণে মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যখন অতিরিক্ত হ্রাস পায় তখন যে কোন সহজ রোগও (যেমন: নিউমোনিয়া, যক্ষ্মা, ডায়রিয়া ইত্যাদি) যথাযথ চিকিৎসায় নিরাময় হয় না। শরীরের এই অবস্থার নাম হলো এইডস।

কোন কোন তরলে এইচআইভি থাকে?

মানবদেহের প্রায় ৪ টি তরল পদার্থে এইচআইভি থাকে। যথা-
  • রক্ত,
  • বীর্য,
  • সেক্সুয়াল ফ্লুইড/ভ্যাজাইনাল ফ্লুইড,
  • মায়ের বুকের দুধ।
একটা মজার ব্যপার হচ্ছে, এই চারটা তরল ছাড়াও মুখের লালা এবং প্রস্রাবেও এইচআইভি থাকে। তবে সেগুলো এইচআইভি সংক্রমণের জন্য যথেষ্ট নয়। হ্যাঁ, Lip kiss এর মাধ্যমে এইচআইভি হতে পারে, তবে শর্ত হচ্ছে একজনের মুখ থেকে আরেকজনের মুখে কমপক্ষে ৩-৪ লিটার লালা স্থানান্তর করতে হবে।

এইডস কিভাবে ছড়ায়

  • এইচআইভি আক্রান্ত কোন নারী বা পুরুষের সাথে অনিরাপদ দৈহিক সম্পর্ক স্থাপন করলে। বিশ্বব্যাপী শতকরা আশি ভাগ এইচআইভি সংক্রমণের কারণ কিন্তু এই ‘অনিরাপদ দৈহিক সম্পর্ক’।
  • এইচআইভি সংক্রমিত ব্যক্তির ব্যবহৃত সুচ, সিরিঞ্জ অপরিশোধিত অবস্থায় ব্যবহার করলে। এছাড়াও আক্রান্ত ব্যক্তির বিভিন্ন অঙ্গ (যেমন- কর্নিয়া, হৃৎপিণ্ড, কিডনী ইত্যাদি) কোন সুস্থ ব্যক্তির শরীরে প্রতিস্থাপন করলে।
  • এইচআইভি সংক্রমিত মায়ের মাধ্যমে সন্তান এইচআইভিতে আক্রান্ত হতে পারে। এক্ষেত্রে আক্রান্ত হওয়ার তিনটি পর্যায় রয়েছে। এই তিনটির যেকোন সময়েই সন্তান আক্রান্ত হতে পারে। যথা- গর্ভাবস্থায়, প্রসবের সময় ও বুকের দুধ পান করানোর মাধ্যমে।

এইচআইভি কোন কোন উপায়ে ছড়ায় না

  • এটি কোন ছোঁয়াচে রোগ নয়। বায়ু, পানি, খাদ্য, কিংবা সাধারণ স্পর্শে এইচআইভি ছড়ায় না।
  • আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে একই প্লেটে খাবার খেলে এইডস হয় না।
  • আক্রান্ত ব্যক্তির সেবা করলে এইডস ছড়ায় না।
  • একই বিছানা ব্যবহার করলেও এইডসে আক্রান্ত হওয়ার কোন ঝুঁকি থাকে না।
  • আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি, কাশি থেকে, কিংবা একই পুকুরে গোসল করলেও এইডস ছড়ায় না।
  • মশা কিংবা অন্য কোনো পোকা-মাকড়ের মাধ্যমেও এইডস ছড়ায় না।

এইডসের লক্ষণসমূহ

প্রকৃতপক্ষে এইডসের কোন সুনির্দিষ্ট লক্ষণ নেই। দেশ ও স্থানভেদে এইডসের লক্ষণের পার্থক্য দেখা যায়। তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এইডসের কিছু সাধারণ লক্ষণ-
  • অজানা কারণে দু’মাসের অধিক সময় ধরে পুনঃ পুনঃ জ্বর হওয়া বা রাতে শরীরে অধিক ঘাম হওয়া।
  • অতিরিক্ত অবসাদ অনুভব হওয়া।
  • শরীরের ওজন দ্রুত হ্রাস পাওয়া।

এইচআইভি সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণাসমূহ

এইচআইভি নিয়ে অনেকেই ভ্রান্ত ধারণা মনে পোষণ করে থাকেন। অথচ এগুলো আদৌ সঠিক নয়। যেমন-
  • দৈহিক মিলনের পর যৌনাঙ্গ ভালো করে পরিষ্কার করলে এইডস হয় না।
  • দৈহিক মিলনের সময় লুব্রিকেট ব্যবহার করলে এইডস হয় না।
  • এন্টিবায়োটিক সেবন করে এইডস থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।
  • টিকা ব্যবহার করলে এইডসের ঝুঁকি থাকে না।
  • আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি, কাশি থেকে এইডস ছড়ায়।
  • এইডস শুধুমাত্র যৌনকর্মী, বহুগামী কিংবা সমকামীদের মাধ্যমে ছড়ায়।
  • চুমুর মাধ্যমে এইডস ছড়ায়।
প্রকৃতপক্ষে এইগুলো সবগুলোই ভুল ধারণা। এগুলো একটাও সত্যি নয়।

যৌনরোগ ও এইচআইভি সংক্রমণ

যৌনরোগ কী

যে সমস্ত রোগ প্রধানত দৈহিক মিলনের মাধমে বিস্তার লাভ করে সেগুলোকেই যৌনরোগ বলে। যেমন- গনোরিয়া, সিফিলিস, ক্ল্যামিডিয়া ইত্যাদি। তবে দৈহিক মিলন ছাড়াও যৌনরোগ সংক্রমিত হতে পারে। যেমন- অপরিশোধিত রক্ত গ্রহণের মাধ্যমে। ইংরেজীতে Sexually Transmitted Disease (STD) এবং Sexually Transmitted Infection (STI) এর মানেই হলো যৌনরোগ।

যৌনরোগের লক্ষণসমূহ

যৌনরোগের নির্দিষ্ট কিছু লক্ষণ রয়েছে। এগুলোর যেকোন একটি লক্ষণ দেখা দিলেই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব চিকিৎসকের সরণাপন্ন হওয়া উচিত।
  • যৌনাঙ্গ কিংবা এর আশেপাশে ঘা হলে।
  • যৌনাঙ্গ থেকে পুঁজ বের হওয়া।
  • প্রস্রাবের সময় ব্যথা ও জ্বালা করা।
  • দৈহিক মিলনের সময় যৌনাঙ্গে ব্যথা অনুভব হওয়া।
  • যৌনাঙ্গে খুব বেশি চুলকানি হওয়া।
  • মহিলাদের পানির মতো স্রাব হওয়া।
সময়মতো যৌনরোগের সঠিক চিকিৎসা না করালে নানাবিধ স্থায়ী সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন- রোগী বন্ধ্যা হয়ে যেতে পারে, মায়ের পেটে বাচ্চা নষ্ট হয়ে যেতে পারে, শিশু অন্ধ/বিকলাঙ্গ/পঙ্গু হয়ে জন্মাতে পারে, জরায়ুমুখ ক্যান্সার হতে পারে, এইচআইভি এবং হেপাটাইটিস ভাইরাস সহজেই আক্রমণ করতে পারে।

যৌনরোগের সাথে এইচআইভি’র সম্পর্ক

যৌনরোগের সাথে এইচআইভি’র ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। যেমন- যারা যে কোন ধরনের যৌনরোগে ভুগছেন তাঁদের এইচআইভিতে সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি অন্যদের চাইতে ৫-১০ শতাংশ বেশি। যৌনরোগের চিকিৎসা আছে, সঠিক চিকিৎসায় যৌনরোগ ভালো হয়। কিন্তু এইচআইভির কোন চিকিৎসা নেই। একবার এইচআইভিতে আক্রান্ত হলে মৃত্যু অনিবার্য।

কাদের এইচআইভিতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি

অসচেতনতার কারণে যেকেউই এইচআইভিতে আক্রান্ত হতে পারে। তবে কিছু গোষ্ঠীর এইচআইভিতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অত্যাধিক বেশি। এরা হলো,
  • ইনজেকশানের মাধ্যমে মাদক গ্রহণকারী
  • মহিলা ও পুরুষ যৌনকর্মী এবং তাদের খদ্দের
  • পেশাদার রক্ত বিক্রেতা
  • হিজড়া
  • সমকামী
  • অল্পবয়সী জনগোষ্ঠী
  • পরিবহন শ্রমিক ইত্যাদি
এরা কেন ঝুঁকিপূর্ণ সেটা সবার বোধগম্য হয়েছে আশা করি। তবে শেষের দুটো গোষ্ঠী (অল্পবয়সী জনগোষ্ঠী, পরিবহন শ্রমিক) কেন ঝুঁকিপুর্ণ এটা অনেকের বোধগম্য নাও হতে পারে। তাই ব্যাখ্যা করে দিচ্ছি।
অল্পবয়সী জনগোষ্ঠী: UNAIDS(২০১০) এর তথ্যানুযায়ী বিশ্বব্যাপী প্রতিবছর নতুনভাবে যারা এইচআইভিতে আক্রান্ত হচ্ছে তার মধ্যে অর্ধেকের বেশি ২৫ বছর বয়সের কম বয়সী কিশোর-কিশোরী এবং যুবক-যুবতী। কেননা অল্পবয়সে এরা যৌনরোগের কথা শুনে থাকলেও এ থেকে নিজেদের রক্ষা করার জন্য কোন পদক্ষেপ নেয় না। কিশোর-কিশোরীরা মনে করে না যে তারা এইচআইভিতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। ICDDRB ও SC-USA এর এক গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে বিবাহপূর্ব যৌন অভিজ্ঞতা লাভ করেছে ১৫-১৭ বছর বয়সী ১১% কিশোর এবং ২% কিশোরী। ১৮-২০ বছর বয়সী ২৩% যুবক ও ২% যুবতী। ২১-২৪ বছর বয়সের ৩৫% যুবক ও ২% যুবতী।
আর অল্পবয়সী মেয়েরাও এইচআইভি ঝুঁকিতে বেশি থাকে। কারণ তারা অনিরাপদ দৈহিক সম্পর্ক স্থাপনের সময় বাধা দিতে পারে না। ওরা পুরুষকে প্রতিরোধ করতে পারে না। এছাড়াও মেয়েদের শারীরিক বৈশিষ্ট্য এইচআইভিতে সংক্রমিত হওয়ার জন্য ছেলেদের তুলনায় দুই থেকে চার গুণ বেশি।
পরিবহন শ্রমিক: বিভিন্ন পতিতালয়ের যারা নিয়মিত খদ্দের তাদের অর্ধেকের বেশি হচ্ছে বিভিন্ন শ্রেণীর পরিবহন শ্রমিক। তাই তারা এইচআইভিতে বেশি আক্রান্ত হয়।

এইচআইভি প্রতিরোধে করণীয়

আমাদের দেশে ও আমাদের পাশের দেশ ভারতে প্রায় একই সময়ে এইচআইভি আক্রান্ত রোগীর সন্ধান পাওয়া গিয়েছিলো। অথচ বর্তমান পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে ভারতে এইচআইভি আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাংলাদেশের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি। এই ধারা অব্যাহত রাখতে এবং বাংলাদশকে এইচআইভিমুক্ত করতে কিছু প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে। যেমন-
  • যৌনসঙ্গী নির্বাচনে সতর্ক হওয়া; এবং মিলনের আগে STD এর ব্যাপারে খোলাখুলি কথা বলে নিশ্চিত হয়ে নেয়া।
  • যৌনমিলনের সময় কনডম ব্যবহার করা।
  • কোন কারণে রক্ত গ্রহণের প্রয়োজন হলে রক্তদাতার রক্তে এইচআইভি আছে কি না- তা অবশ্যই পরীক্ষা করে নেওয়া।
  • প্রতিবারই ইনজেকশানের নতুন সূঁচ ও সিরিঞ্জ ব্যবহার করা; এবং অস্ত্রোপচারের যাবতীয় যন্ত্রপাতি ব্যবহারের পূর্বে অবশ্যই জীবাণুমুক্ত করে নেওয়া।
  • কেউ যৌনরোগে আক্রান্ত হলে কালবিলম্ব না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া।

এইচআইভি’র চিকিৎসা

মনে রাখতে হবে, এইডসে আক্রান্ত হলে মৃত্যু অনিবার্য। এর কোনো সঠিক চিকিৎসা নেই। তবে কিছু ঔষধ আছে যা ARV (Anti Retroviral Drug) নামে পরিচিত, এগুলো এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তিকে সাময়িকভাবে ভালো থাকতে সাহায্য করে।

Thursday, 10 September 2015

আফ্রিকায় নতুন মানব প্রজাতির সন্ধান

জোহানেসবার্গে অবস্থিত University of the Witwatersrand এর প্রফেসর Lee Berger তার জীবনে আজ পর্যন্ত অনেক প্রয়োজনীর জিনিষ আবিস্কার করেছেন। কিন্তু তিনি এবার অনুধাবন করেছিলেন, তিনি অনেক বড় কিছু আবিস্কার করতে যাচ্ছেন। তবে তিনি এটা জানতেন না যে তিনি যা আবিস্কার করতে যাচ্ছেন, তা মানুষের বিবর্তনের ইতিহাসকে এক নতুন মোড় দেবে এবং আমাদের পরিচয় সম্পর্কে আরো নতুন কিছু প্রশ্ন উপস্থাপন করবে।
150910112952-restricted-homo-naledi-lee-berger-wits-exlarge-169 (1)তিনি ও তার দল দুই বছর ধরে জোহানেসবার্গের কাছাকাছি অবস্থিত রাইসিং স্টার কেভের লাইমস্টোন টানেলের গভীরে কোনো কিছুর সন্ধানের উদ্দেশ্যে যেতে যেতে কিছু কঙ্কাল এবং হাড়গোড় (ফসিল) আবিষ্কার করে বসেন, যা আমাদের বিবর্তনের তালিকায় নতুন এক সদস্য হিসেবে যোগ হয়। যে প্রজাতির ফসিল তারা খুঁজে পেয়েছেন, তারা এর নাম দিয়েছেন Homo naledi। কঙ্কাল পর্যবেক্ষণের পর তাদের মতে, তার মৃত্যুর পর তার সাথীরা তাকে এখানে কবর দিয়েছিলো, যে প্রথাটি বিজ্ঞানীদের মতে শুধু মানুষের মাঝেই সীমাবদ্ধ ছিলো। টানেলটির আরেকটি আলাদা করা জায়গায় এই প্রজাতির আরো কিছু কঙ্কাল পাওয়া যায়, যেগুলোর মধ্যে শিশু, মহিলা, মধ্য বয়স্করাও রয়েছে। এসবের সন্ধান পাওয়ার পর বারজার এবং তার সহকর্মীরা এই মতে আসেন।
150910094401-restricted-homo-naledi-wits-university-1-exlarge-169 (1)তাদের বিশ্বাস, ৩০ মিটার গভীরে অবস্থিত এই চেম্বারটি Homo naledi প্রজাতির কবরস্থান ছিলো, যেখানে তারা মৃত্যুর পর সবাইকে কবর দিতো এবং পথ প্রদর্শনের জন্য পুরো রাস্তায় তারা আগুন জ্বালিয়ে আসতো। বারজার CNN কে বলেন, সেখানে শিকারীদের হামলা এমনকি প্রাকৃতিক দুর্যোগেরও কোনো চিহ্ন ছিলো না। যার ফলে তারা মত দেন যে, এই প্রজাতিটি তাদের নিজেদের ইচ্ছায় এখানে এসে মৃতদেহের সৎকার করেছিলো। তিনি আরো বলেন, আমরা এমন এক প্রজাতির আবিষ্কার করলাম, যারা হয়তোবা মৃত্যু এবং এর পরবর্তী জীবন সম্পর্কে একটু হলেও ভেবেছিলো এবং এতো গভীরে অন্ধকারে এসে যথেষ্ট ঝুঁকি এবং প্রচেষ্টা সহকারে মৃতদেহের সৎকার করেছিলো। তিনি মনে করেন, মৃতদেহের সৎকারের বিষয়টিই ছিলো আমাদের মানুষের এক অনন্য বৈশিষ্ট্য এবং মানুষ নামের সংজ্ঞা। এই প্রজাতি আবিষ্কারের পর এখন আমাদের মানুষের সংজ্ঞাকে আবার নতুন করে ভাবতে হবে।
কিন্তু বারজার ও তার দল প্রজাতিটির বয়স/উৎপত্তিকাল এখনো নির্ণয় করতে না পারায় তারা এখনো তাদের মতগুলো যথাযথ কিনা, সে ব্যাপারে নিশ্চিত নন। কারণ প্রথম মৃতদেহ কবর দেয়ার প্রচলন ঘটে আজ থেকে প্রায় ১ লাখ বছর আগে।
অনেকটা মানুষ, কিন্তু পুরোপুরি নয় কেনো?
Homo naledi প্রাচীন এবং আধুনিকের মধ্যবর্তী এক অদ্ভুত বৈচিত্রতা বিশিষ্ট প্রজাতি। বিজ্ঞানীরা তাদের ফসিল পর্যবেক্ষণ করে কিছু বৈশিষ্ট্য বের করেছেন।
150910092424-restricted-homo-naledi-nat-geo-3-exlarge-169 (1)
১। তাদের মস্তিষ্ক ছিলো একটা কমলালেবুর সমান।
150910105558-restricted-homo-naledi-foot-wits-exlarge-169 (1)
২। তারা অপেক্ষাকৃতভাবে লম্বা, প্রায় ৫ ফুট লম্বা এবং লম্বা পা বিশিষ্ট। তাদের পা অনেকটা আমাদের মতো এবং বিজ্ঞানীরা বলেন, এই প্রজাতি অনেক দীর্ঘ রাস্তা পাড়ি দিতে সক্ষম ছিলো।
150910110718-restricted-homo-naledi-hands-wits-exlarge-169 (1)
৩। তাদের হাত অনেকটা মানুষের মতো কিন্তু আঙ্গুলের হাড়িগুলো বাঁকান। ধারণা করা হয়, তারা কোনো কিছু বেয়ে উঠা এবং বিভিন্ন জিনিষকে যন্ত্রপাতি হিসেবে ব্যবহার করতে জানতো।
150910112025-restricted-homo-naledi-skull-closeup-wits-exlarge-169 (1)
৪। তাদের মাথার খুলি আমাদের মাথার তুলনায় অর্ধেকেরও কম ছিলো।
University of Wisconsin-Madison এর একজন বিজ্ঞানী John Hawks বলেন, এই প্রজাতিকে বলতে গেলে আমদের বর্গেরই সবচেয়ে আদিম প্রাণী বিবেচনা করা যেতে পারে। কিন্তু এরও কিছু অবিশ্বাস্য রকমের গুণাবলি আছে, যা মানুষের সাথে মিলে যায়। যার ফলে আমরা একে আমাদের Homo বর্গের অন্তর্ভুক্ত করতে পারি।
সুত্রঃ সি এন এন এবং Sci-News.com

Thursday, 20 August 2015

সমাজের আসল শত্রু

আমাদের সমাজের সবচেয়ে বড় শত্রু হল আমাদের আত্বীয়। হাসবেননা, এটাই সত্যি। আমরা জীবন যুদ্ধে পরাজিত হলে এরা এসে আপনাদের বাড়িতে চা নাস্তা খাবে, এরপর ইন্ডাইরেক্টলি আপনাকে হেনস্তা করবে। আর আপনি, ভদ্রতা বশত: হ্যা! হু! করা ছাড়া কিছুই করতে পারবেননা।

ব্লগার মানে কি এতই খারাপ



সকাল সকাল ভাল কিছু আর দেখা হলনা।। ব্লগার মানেই নাস্তিক, ব্লগার মানেই এরা জারজ।। এদের মার।। গুগল ট্রান্সলেটরেও এমনই দেখাল।। মানে বুঝায় যায় যে ব্লগারদের উপরে কতটা চাপ। আরে ভাই কেউ নিজের ডাইরি টা অনলাইনে লিখলেও সে কি নাস্তিক হয়ে গেল নাকি।। ব্লগার শব্দের ভুল মানে কেন করেন।। ব্লগার মানেই যে জঘন্য কিছু না তা বোঝার চেষ্টা করেন

আজ রাতে থাকতাম যেথায়

আজ রাতে থাকার কথা ছিল বান্দরবানের পাহাড়ী ঝিরির ধারে আগুনের পাশে অথবা কুয়াকাটায় সাগরের পাড়ে অথবা সিলেটের কোন চা বাগানে। বাস্তবতার সব ভুলে পরিচিত মানুষগুলোর সাথে জঙ্গলের ভেতর তুমুল আড্ডা বা নিশ্চুপ হয়ে সাগরের দিকে চেয়ে থাকা। শালার জীবনটাই যেন কেমন, সারাদিন বাসায় ঝিম মেরে শুয়ে বসে থেকে বৃষ্টি দেখি কিন্তু বাড়ির বাইরে পর্যন্ত যাওয়া সম্ভব না,, থাক আর কিছু দিন চুপ থাক।।।

আজ বন্দি, বৃষ্টি দেখছি

সে বৃষ্টি দেখছে। টুপটুপ করে পরা বৃষ্টি না, ঝুম বৃষ্ট। থামাবে কখন জানেনা। তার চোখে বৃষ্টির মুগ্ধতা নেই,নেই বিস্বয়তা,নেই উচ্ছাস। আছে হতাশা, আছে মনেপরা দুঃবোধ। তাকে আটকে রাখা হয়েছে, কবে ছাড়া পাবে জানেনা।। কারন সে যে একটি অপরাধ করেছে।।। আর সেটা যে তার নিজ ভুল ছিল।।।

পরিচিত দুঃখ

পাঁচ ফুট নয় ইঞ্চি একটি পরিচিত দুঃখকে
যে যুবক সারাক্ষন সাথে নিয়ে ঘোরে
সে আর কিইবা করতে পারে
দেখাযাক কিহয়

বোরিং

বোরিং বলে কিছু নাই।। যদি থাকেও এটাকেও অভ্যাস করতে হবে।। তখন বোরিং হওয়াটাও ইঞ্জয় করা সম্ভব সাথে মজাটাও

মৃতরা যদি বলতে পারত

আমাদেরও মনে রেখ,, আমরাও বেচেছিলাম - আমরাও ভালবেসেছিলাম - আমরাও হেসেছিলাম।।
---
 — feeling মরা মানুষ কি এমন চিন্তা করে?????

Wednesday, 19 August 2015

চুল আমার, চিন্তা আপনার

  অসুস্থতার কারনে গ্রামে প্রায় ৩ মাসের মাঝে প্রতিদিন কেউ না কেউ এসে বলে,  "চুল কাটিসনা কেন"।  কেমন বিশ্রী লাগে, আমার চুল খুব বেশি বড় হয়নি।  ছেলেরা গতানুগতিকতা যেমন চুল রাখে তার চেয়ে বড় হয়েছে মাত্র।  মানে চুল কাটার জন্য এখন নাপিতের কাছে যেতে যতটা চুল দরকার।।।  আমি প্রত্যেক কে বুঝালাম,  আমি সক্ষম হলে নিজে নাপিতের কাছে গিয়ে চুল কাটব,  প্রায় ৩ মাস বাসায় বসে থাকার জন্য চুল যথেষ্ঠ বড় হল(আগে থেকেই একটু বড় ছিল, তাই এই ৩ মাসে একটু বেশিই বড় হল)। আর সবাই একই কথা।।  আমি এখন পর্যন্ত কাওকে বুঝাতে পারলাম না  যে "ছেলেরা চুল বড় রাখলে সমস্যা কি?"।
 কলেজ জীবন থেকে বহুবার চুল বড় রাখার চেষ্টা করেছি,  প্রত্যেক বার বিভিন্ন কারনে চুল শেষ পর্যন্ত কাটতে হত।  কিন্তু অন্য দিকে মেয়েদের চুল রাখতেই হবে।   যদি কোন মেয়ে চুল না রাখে বা চুল কাটে তাহলে যে কি হবে তা বুঝতেই পারছেন।  এই সামান্য ব্যপারটা নিয়ে এত বৈষম্য কেন??  ছেলেরা চুল বড় রাখলে কি সমস্যা,  আর মেয়েরা চুল ছোট রাখলে কি সমস্যা???
আমি সার্ট পরব না, টি সার্ট পরব _ পাঞ্জাবী পরব না ফতুয়া পরব,  সেটা সম্পুর্ন আমার নিজের ব্যাপার।।  আপনি সর্বোচ্চ বলতে পারেন যে।। এটা তোমাকে বেশি মানাচ্ছে বা এটা মানাচ্ছেনা।। কিন্তু আপনি আমাকে অবস্যই এটা পরতে হবে এমন নির্দেশ দিতে পারেন না।।।  ( বিভিন্ন অফিস/শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান/ অনুষ্ঠান _ যেখানে ড্রেস কোড মানা হয় সে সব বাদে)।।
চুলটা এমন কোন কিছু না যে,  এটা বড় রাখলে তাকে কলেজে বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করানো হবেনা বা কোন চাকরি পাবেনা,(আর্মিদের মত কিছু কিছু অবস্থান বাদে) এমন কিছু কোথাও লেখা নেই।।।

আমার মতে এটা একান্তই গোঁড়ামি।। সামাজিক গোঁড়ামি।।।

Tuesday, 18 August 2015

আমাদের সমাজের চোখে "নারী"

আমাদের সমাজে ধর্ষণ কথা শুনলেই আমাদের মনের মদ্ধে একটা চিত্র নাট্য তৈরি হয়।। যে, একটা ছেলে একটা মেয়ের সাথে কাহিনী করেছে (কাহিনী মানে বুঝে নিন)।। কিন্তু এটা কেউ ই চিন্তা করেনা বা মাথায় আসেনা যে মেয়ে ছেলে কাহিনী করেছে।। কারন কি।। কারন এটাই যে ধর্ষন সব সময় ছেলেরাই করে।। এটা ছেলেদের একটা বিশাল বড় মাপের গুণ বা যোগ্যতা।।
আমাদের এলাকায় একটা কথা প্রচলন আছে যে " ধন ওয়ালার বিশ্বাস নাই" (ধন মানে ধনী না, বুঝে নিন)।। মানে সমাজ ধরেই নিছে ছেলেরা যা ইচ্ছা তাই করতে পারে আসলেই সব করতে পারে।। রাতের ১২ টায় রাস্তায় ঘুরতে পারে।। (আমি নিজেই ঘুরি) । একা একা সিলেট, কক্সবাজার,সুন্দরবন,পঞ্চগড় ইত্যাদি ঘুরতে পারে (আমি কিন্তু এমন করি) কিন্তু একটা মেয়ে পারেনা।
রাত ১২ টা ত দুরের কথা মাগরিবের আজানের পরেই বাড়ি থেকে বের হতে পারেনা।।(কিছু করুক আর না করুক সমাজের লোক কলংক দেবে যে)। শহরের তুলনায় গ্রামে এটা বিশাল ভায়াবহ ব্যাপার।। কে জানলে সাথে সাথে নষ্টা মেয়ে বলে গালি দিবে (যে দেখে মানে যে মানুষটা দেখে তার ককিন্তু সম্মান কমেনা বরং বাড়ে)
। ৪৪ বছর পরে যারা বলে বাংলাদেশ স্বাধীন তাদের বলতে চাই,, মেয়েদের ঘরের মদ্ধে রেখে আপনি স্বাধীন বাংলা বলেন কিভাবে।। বাংলাদেশ অর্ধেক স্বাধীন অর্ধেক সেদিন স্বাধীন হবে যে যে দদিনন মেয়েরাও আমাদের মত স্বাধীন ভাবে রাস্তায় চলতে পারবে, কোন বাধা ছাড়া।।। যে দঅন ধর্ষণ কথাটা কানে আসলে চিন্তা করতে হবে।। ধর্ষক ছেলে না মেয়ে ( তাই বলে আমি ধর্ষনের পক্ষে না) আসলে মেয়েদের খুব ছোট করে দেখা হয় তাই এত খেপাটে কথা মাথায় আসল।। 'নষ্ট' শব্দটি ছেলেদের জন্য নয়,মেয়েদের জন্য প্রযোজ্য।ডিম নষ্ট হয়,দুধ নষ্ট হয়,নারকেল নষ্ট হয় এবং মেয়ে নষ্ট নয়।যে কোনো বস্তুর মত আমাদের সমাজ একটি মেয়েকে নষ্ট
বলে চিহ্নিত করে। আআমাদের দদেশের দেশের শিক্ষিত রুচিশীল মেয়েরা এইসব নষ্ট মেয়ে থেকে নিজেদের আলাদা করবার ব্যাপারে বড় সতর্ক।আলাদা হতে চাওয়াটা আসলে বোকামি।।।কোনো না কোনোভাবে সকল নারীই যেখানে নির্যাতিত,সেখানে শ্রেণীভেদের প্রশ্ন আসে না।এই নষ্ট সমাজ ওত পেতে
আছে,ফাঁক পেলেই মেয়েদের নষ্ট উপাধি দেবে।সমাজের নষ্টামি এত দূর বিস্তৃত যে,ইচ্ছে করলেই মেয়েরা তার থাবা থেকে গা বাঁচাতে পারে না।।।
ছেলেদের কিন্তু নষ্ট বলা হয়না।। তাদের বরং ধর্ষক বলে একটু সম্মানই দেয়া হয়।। কারন ধন ওয়ালা যে।।

Tuesday, 11 August 2015

মৃত্যু ভাবনা নিলয়

মৃত্যু একটি চরম বাস্তবতা, এই মৃত্যু বাস্তবতাকে উপেক্ষা করতে না পেরে মানুষ কল্পনা করেছে ঈশ্বর, আত্মা, স্বর্গ, নরক প্রভৃতি। আমি জানি ওগুলো কল্পনা মাত্র, যারা কল্পনা করছে তারাও আমার মতোই মানুষ। আমি বিপরীত কিছু কল্পনা করেও সুখ পাই না। তাহলে কি অন্য কিছু নিয়ে ব্যাস্ত থাকবো? কিন্তু বাড়ি, গাড়ি, নারী, টাকা, সম্পত্তি, দর্শন, বিজ্ঞান, ধর্ম সবকিছুই তো ঐ মৃত্যুতে পরিসমাপ্তি ঘটবে। 

তাহলে বেঁচে থাকার অর্থ কি? বেঁচে থাকা কি চরম অর্থহীনতা আর নিরন্তর বেঁচে থাকার সংগ্রাম কি অর্থহীনতার মধ্যে অর্থ অন্বেষণের বৃথা প্রচেষ্টা? হয়তো তাই। এই দুনিয়ায় মানুষ একটা ঘোরের মধ্যে থাকে। এখানে কেউ আস্তিকতা, নাস্তিকতা, রাজনীতি, পেটনীতি, নারী, দর্শন, বিজ্ঞান, ঈশ্বর, রবীন্দ্রনাথ, ওস্তাদ আমীর খান, সানি লিওন, অফিসের বস, ভালোবাসার মানুষ, বৈবাহিক জীবন, ফেসবুক, ব্লগসহ অসংখ্য আগ্রহের জিনিষ নিয়ে টাইম পাস করে। কিন্তু মৃত্যুর কথা তারা ভাবে না কিভাবে? ভেবেই বা কি হবে? 

আচ্ছা মৃত্যুর পরে কি হবে? কেউ বলে কর্মফল অনুযায়ী টিকটিকি, তেলাপোকা বা ব্রাহ্মণ সন্তান হয়ে জন্ম নিবে, এই ভাবে জন্ম নিতে নিতে নিতে নিতে এক সময় ভগবানের সাথে মিলে যাবে। কেউ বলে কবরে বসে শাস্তি হবে এরপর কবর থেকে উঠিয়ে বিচারক বিচার করবে। কেউ বলে সরাসরি আত্মাটা ঈশ্বরের সাথে মিশে যাবে। জানি এগুলো তাদের কল্পনা, যার মাধ্যমে তারা তাদের ধর্মীয় বৃত্তের মধ্যে চিত্তের সুখ অন্বেষণ করে। কিন্তু আমার চিত্ত যে অনশন করে আছে! 

চিত্তকে বুঝাই আরে ব্যাটা ঘোড়ার ডিম হবে, মাটির সাথে মিশে যাবো। কিন্তু চিত্ত যে মানে না - এতো প্রেমিকার সাথে মিলনের জন্য ছটফট করা চিত্ত নয়, এ তো বড়োলোক হবার স্বপ্নে বিভোর চিত্ত নয় যে মিলন হলে বা লটারি পেলেই সমাধান হয়ে যাবে, এ তো পিথাগোরাসের উপপাদ্য নয় যে কাঞ্চন স্যারের কাছে গেলে বুঝিয়ে দিবে, এ তো মার্কসের দর্শন নয় যে হারুন স্যারের কাছে গেলে জানতে পারবো, এতো প্লেটোর রিপাবলিক নয় যে আমিনুল ইসলাম স্যারের কাছে গেলে বুঝে যাবো, এতো কোরআন হাদিস নয় যে হুজুরের কাছে যেয়ে বুঝবো, এতো বাইবেল গীতা নয় যে ফাদার বা পুরোহিতের কাছে যেয়ে বুঝবো। এ যে মৃত্যুদর্শন যা একমাত্র যারা মরেছে তারাই হয়তো জানে। 

মৃত্যুদর্শন একবার যার মাথায় ঢুকে সে সম্ভবত আর স্বাভাবিক থাকতে পারে না। কি হবে এতো টাকা পয়সা করে, মৃত্যুই তো সব শেষ হবে। কি হবে এতো বই পড়ে, সাহিত্য রচনা করে, জনপ্রিয় হয়ে, দর্শনচর্চা করে, বিজ্ঞানচর্চা করে, সংগঠন করে, রাজনীতি করে? রবীন্দ্রনাথকে আজ কোটি কোটি মানুষ মনেপ্রাণে শ্রদ্ধা করে তাতে রবীন্দ্রনাথের কি আসা যায়? মৃত্যুদর্শন মানুষকে অহিংস করে, অনেক সময় মানুষকে নিষ্ক্রিয় করে। কি লাভ একজন মানুষকে ঠকিয়ে ২ টা পয়সা বেশী নিয়ে, কি লাভ একজন মানুষকে হত্যা করে, কি লাভ ভালোবেসে, কি লাভ যৌনকর্মে, কি লাভ পার্থিব ক্রিয়াকর্মে? 

কোন লাভ নাই বেটা আছিস কেন? মর। মাঝের মধ্যে সত্যিই আত্মহত্যা করতে ইচ্ছা করে। না প্রেমে স্যাকা খেয়ে, টাকা পয়সার ঝামেলায়, কোন অনুশোচনায় আত্মহত্যা করা নয়। এক্সপেরিমেন্ট করার জন্য আত্মহত্যা করতে ইচ্ছা করে, মরার পরে কি হয় তা জানতে বড়ই ইচ্ছা করে। কিন্তু এক্সপেরিমেন্ট করতে যেয়ে আমিই যে এক্সপায়ার হয়ে যাবো? আমি তো আর এতো সুন্দর পৃথিবীতে আসতে পারবো না, আমি তো মায়ের হাতের রান্না খেতে পারবো না, আমি তো প্রেমিকার চোখের কান্না থামাতে পারবো না, আমি তো উত্থাল যৌবনে আর টালমাতাল হতে পারবো না, আমি তো আমার অনুভুতি ও চিন্তাগুলো কারো সাথে শেয়ার করতে পারবো না, আমি তো জীবনানন্দের কবিতা পড়তে পারবো না, আমি তো নিটসের দর্শন পড়তে পারবো না, আমি তো Sagar Hossain , তাহসিব হাসানKhan Asad,Shipra এর মতো প্রিয় মানুষদের সান্নিধ্য পাবো না। 

এই মৃত্যুদর্শন বড়বেশী আমিত্ববাদী, সে নিজেকে ভালবাসতে শিখায়। কিন্তু কোন সমাধান দিতে পারে না। সবার মধ্যে এ মৃত্যুদর্শন ভর করে না, মৃত্যুর কথা চিন্তা করলে বেশীরভাগ মানুষ বড়োজোর তাদের গণ্ডীর মধ্যে নামাজ, রোজা, পুজা করে কাল্পনিক কোন খুঁটিকে আঁকড়ে ধরে সান্ত্বনা লাভ করে। কিন্তু আমি যে ঐ সান্ত্বনার বাইরে! কোন পীর, মুর্শিদ, আল্লাহ্‌, হরি কারো মাধ্যমে তো আমার মুক্তি, মোক্ষ, নির্বাণ, স্যালভেশন, নাজাত, ফানাহ, বাকাহ হবে না, তাহলে আমি কি করবো? এতো সুন্দর জীবনের পরে কি আর কিছু আছে? না থাকলে এভাবেই অনন্তকালের জন্য নিঃশেষ হয়ে যাবো? এ এক সেকুলার মানুষের চরম আধ্যাত্মিকতা, যে আধ্যাত্মিকতায় যৌবনে বসেই আমি আক্রান্ত হয়ে পাগল প্রায়, জানি না বৃদ্ধ হলে কি হবে।
পোষ্টঃনিলয় নীল