Thursday, 20 August 2015

সমাজের আসল শত্রু

আমাদের সমাজের সবচেয়ে বড় শত্রু হল আমাদের আত্বীয়। হাসবেননা, এটাই সত্যি। আমরা জীবন যুদ্ধে পরাজিত হলে এরা এসে আপনাদের বাড়িতে চা নাস্তা খাবে, এরপর ইন্ডাইরেক্টলি আপনাকে হেনস্তা করবে। আর আপনি, ভদ্রতা বশত: হ্যা! হু! করা ছাড়া কিছুই করতে পারবেননা।

ব্লগার মানে কি এতই খারাপ



সকাল সকাল ভাল কিছু আর দেখা হলনা।। ব্লগার মানেই নাস্তিক, ব্লগার মানেই এরা জারজ।। এদের মার।। গুগল ট্রান্সলেটরেও এমনই দেখাল।। মানে বুঝায় যায় যে ব্লগারদের উপরে কতটা চাপ। আরে ভাই কেউ নিজের ডাইরি টা অনলাইনে লিখলেও সে কি নাস্তিক হয়ে গেল নাকি।। ব্লগার শব্দের ভুল মানে কেন করেন।। ব্লগার মানেই যে জঘন্য কিছু না তা বোঝার চেষ্টা করেন

আজ রাতে থাকতাম যেথায়

আজ রাতে থাকার কথা ছিল বান্দরবানের পাহাড়ী ঝিরির ধারে আগুনের পাশে অথবা কুয়াকাটায় সাগরের পাড়ে অথবা সিলেটের কোন চা বাগানে। বাস্তবতার সব ভুলে পরিচিত মানুষগুলোর সাথে জঙ্গলের ভেতর তুমুল আড্ডা বা নিশ্চুপ হয়ে সাগরের দিকে চেয়ে থাকা। শালার জীবনটাই যেন কেমন, সারাদিন বাসায় ঝিম মেরে শুয়ে বসে থেকে বৃষ্টি দেখি কিন্তু বাড়ির বাইরে পর্যন্ত যাওয়া সম্ভব না,, থাক আর কিছু দিন চুপ থাক।।।

আজ বন্দি, বৃষ্টি দেখছি

সে বৃষ্টি দেখছে। টুপটুপ করে পরা বৃষ্টি না, ঝুম বৃষ্ট। থামাবে কখন জানেনা। তার চোখে বৃষ্টির মুগ্ধতা নেই,নেই বিস্বয়তা,নেই উচ্ছাস। আছে হতাশা, আছে মনেপরা দুঃবোধ। তাকে আটকে রাখা হয়েছে, কবে ছাড়া পাবে জানেনা।। কারন সে যে একটি অপরাধ করেছে।।। আর সেটা যে তার নিজ ভুল ছিল।।।

পরিচিত দুঃখ

পাঁচ ফুট নয় ইঞ্চি একটি পরিচিত দুঃখকে
যে যুবক সারাক্ষন সাথে নিয়ে ঘোরে
সে আর কিইবা করতে পারে
দেখাযাক কিহয়

বোরিং

বোরিং বলে কিছু নাই।। যদি থাকেও এটাকেও অভ্যাস করতে হবে।। তখন বোরিং হওয়াটাও ইঞ্জয় করা সম্ভব সাথে মজাটাও

মৃতরা যদি বলতে পারত

আমাদেরও মনে রেখ,, আমরাও বেচেছিলাম - আমরাও ভালবেসেছিলাম - আমরাও হেসেছিলাম।।
---
 — feeling মরা মানুষ কি এমন চিন্তা করে?????

Wednesday, 19 August 2015

চুল আমার, চিন্তা আপনার

  অসুস্থতার কারনে গ্রামে প্রায় ৩ মাসের মাঝে প্রতিদিন কেউ না কেউ এসে বলে,  "চুল কাটিসনা কেন"।  কেমন বিশ্রী লাগে, আমার চুল খুব বেশি বড় হয়নি।  ছেলেরা গতানুগতিকতা যেমন চুল রাখে তার চেয়ে বড় হয়েছে মাত্র।  মানে চুল কাটার জন্য এখন নাপিতের কাছে যেতে যতটা চুল দরকার।।।  আমি প্রত্যেক কে বুঝালাম,  আমি সক্ষম হলে নিজে নাপিতের কাছে গিয়ে চুল কাটব,  প্রায় ৩ মাস বাসায় বসে থাকার জন্য চুল যথেষ্ঠ বড় হল(আগে থেকেই একটু বড় ছিল, তাই এই ৩ মাসে একটু বেশিই বড় হল)। আর সবাই একই কথা।।  আমি এখন পর্যন্ত কাওকে বুঝাতে পারলাম না  যে "ছেলেরা চুল বড় রাখলে সমস্যা কি?"।
 কলেজ জীবন থেকে বহুবার চুল বড় রাখার চেষ্টা করেছি,  প্রত্যেক বার বিভিন্ন কারনে চুল শেষ পর্যন্ত কাটতে হত।  কিন্তু অন্য দিকে মেয়েদের চুল রাখতেই হবে।   যদি কোন মেয়ে চুল না রাখে বা চুল কাটে তাহলে যে কি হবে তা বুঝতেই পারছেন।  এই সামান্য ব্যপারটা নিয়ে এত বৈষম্য কেন??  ছেলেরা চুল বড় রাখলে কি সমস্যা,  আর মেয়েরা চুল ছোট রাখলে কি সমস্যা???
আমি সার্ট পরব না, টি সার্ট পরব _ পাঞ্জাবী পরব না ফতুয়া পরব,  সেটা সম্পুর্ন আমার নিজের ব্যাপার।।  আপনি সর্বোচ্চ বলতে পারেন যে।। এটা তোমাকে বেশি মানাচ্ছে বা এটা মানাচ্ছেনা।। কিন্তু আপনি আমাকে অবস্যই এটা পরতে হবে এমন নির্দেশ দিতে পারেন না।।।  ( বিভিন্ন অফিস/শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান/ অনুষ্ঠান _ যেখানে ড্রেস কোড মানা হয় সে সব বাদে)।।
চুলটা এমন কোন কিছু না যে,  এটা বড় রাখলে তাকে কলেজে বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করানো হবেনা বা কোন চাকরি পাবেনা,(আর্মিদের মত কিছু কিছু অবস্থান বাদে) এমন কিছু কোথাও লেখা নেই।।।

আমার মতে এটা একান্তই গোঁড়ামি।। সামাজিক গোঁড়ামি।।।

Tuesday, 18 August 2015

আমাদের সমাজের চোখে "নারী"

আমাদের সমাজে ধর্ষণ কথা শুনলেই আমাদের মনের মদ্ধে একটা চিত্র নাট্য তৈরি হয়।। যে, একটা ছেলে একটা মেয়ের সাথে কাহিনী করেছে (কাহিনী মানে বুঝে নিন)।। কিন্তু এটা কেউ ই চিন্তা করেনা বা মাথায় আসেনা যে মেয়ে ছেলে কাহিনী করেছে।। কারন কি।। কারন এটাই যে ধর্ষন সব সময় ছেলেরাই করে।। এটা ছেলেদের একটা বিশাল বড় মাপের গুণ বা যোগ্যতা।।
আমাদের এলাকায় একটা কথা প্রচলন আছে যে " ধন ওয়ালার বিশ্বাস নাই" (ধন মানে ধনী না, বুঝে নিন)।। মানে সমাজ ধরেই নিছে ছেলেরা যা ইচ্ছা তাই করতে পারে আসলেই সব করতে পারে।। রাতের ১২ টায় রাস্তায় ঘুরতে পারে।। (আমি নিজেই ঘুরি) । একা একা সিলেট, কক্সবাজার,সুন্দরবন,পঞ্চগড় ইত্যাদি ঘুরতে পারে (আমি কিন্তু এমন করি) কিন্তু একটা মেয়ে পারেনা।
রাত ১২ টা ত দুরের কথা মাগরিবের আজানের পরেই বাড়ি থেকে বের হতে পারেনা।।(কিছু করুক আর না করুক সমাজের লোক কলংক দেবে যে)। শহরের তুলনায় গ্রামে এটা বিশাল ভায়াবহ ব্যাপার।। কে জানলে সাথে সাথে নষ্টা মেয়ে বলে গালি দিবে (যে দেখে মানে যে মানুষটা দেখে তার ককিন্তু সম্মান কমেনা বরং বাড়ে)
। ৪৪ বছর পরে যারা বলে বাংলাদেশ স্বাধীন তাদের বলতে চাই,, মেয়েদের ঘরের মদ্ধে রেখে আপনি স্বাধীন বাংলা বলেন কিভাবে।। বাংলাদেশ অর্ধেক স্বাধীন অর্ধেক সেদিন স্বাধীন হবে যে যে দদিনন মেয়েরাও আমাদের মত স্বাধীন ভাবে রাস্তায় চলতে পারবে, কোন বাধা ছাড়া।।। যে দঅন ধর্ষণ কথাটা কানে আসলে চিন্তা করতে হবে।। ধর্ষক ছেলে না মেয়ে ( তাই বলে আমি ধর্ষনের পক্ষে না) আসলে মেয়েদের খুব ছোট করে দেখা হয় তাই এত খেপাটে কথা মাথায় আসল।। 'নষ্ট' শব্দটি ছেলেদের জন্য নয়,মেয়েদের জন্য প্রযোজ্য।ডিম নষ্ট হয়,দুধ নষ্ট হয়,নারকেল নষ্ট হয় এবং মেয়ে নষ্ট নয়।যে কোনো বস্তুর মত আমাদের সমাজ একটি মেয়েকে নষ্ট
বলে চিহ্নিত করে। আআমাদের দদেশের দেশের শিক্ষিত রুচিশীল মেয়েরা এইসব নষ্ট মেয়ে থেকে নিজেদের আলাদা করবার ব্যাপারে বড় সতর্ক।আলাদা হতে চাওয়াটা আসলে বোকামি।।।কোনো না কোনোভাবে সকল নারীই যেখানে নির্যাতিত,সেখানে শ্রেণীভেদের প্রশ্ন আসে না।এই নষ্ট সমাজ ওত পেতে
আছে,ফাঁক পেলেই মেয়েদের নষ্ট উপাধি দেবে।সমাজের নষ্টামি এত দূর বিস্তৃত যে,ইচ্ছে করলেই মেয়েরা তার থাবা থেকে গা বাঁচাতে পারে না।।।
ছেলেদের কিন্তু নষ্ট বলা হয়না।। তাদের বরং ধর্ষক বলে একটু সম্মানই দেয়া হয়।। কারন ধন ওয়ালা যে।।

Tuesday, 11 August 2015

মৃত্যু ভাবনা নিলয়

মৃত্যু একটি চরম বাস্তবতা, এই মৃত্যু বাস্তবতাকে উপেক্ষা করতে না পেরে মানুষ কল্পনা করেছে ঈশ্বর, আত্মা, স্বর্গ, নরক প্রভৃতি। আমি জানি ওগুলো কল্পনা মাত্র, যারা কল্পনা করছে তারাও আমার মতোই মানুষ। আমি বিপরীত কিছু কল্পনা করেও সুখ পাই না। তাহলে কি অন্য কিছু নিয়ে ব্যাস্ত থাকবো? কিন্তু বাড়ি, গাড়ি, নারী, টাকা, সম্পত্তি, দর্শন, বিজ্ঞান, ধর্ম সবকিছুই তো ঐ মৃত্যুতে পরিসমাপ্তি ঘটবে। 

তাহলে বেঁচে থাকার অর্থ কি? বেঁচে থাকা কি চরম অর্থহীনতা আর নিরন্তর বেঁচে থাকার সংগ্রাম কি অর্থহীনতার মধ্যে অর্থ অন্বেষণের বৃথা প্রচেষ্টা? হয়তো তাই। এই দুনিয়ায় মানুষ একটা ঘোরের মধ্যে থাকে। এখানে কেউ আস্তিকতা, নাস্তিকতা, রাজনীতি, পেটনীতি, নারী, দর্শন, বিজ্ঞান, ঈশ্বর, রবীন্দ্রনাথ, ওস্তাদ আমীর খান, সানি লিওন, অফিসের বস, ভালোবাসার মানুষ, বৈবাহিক জীবন, ফেসবুক, ব্লগসহ অসংখ্য আগ্রহের জিনিষ নিয়ে টাইম পাস করে। কিন্তু মৃত্যুর কথা তারা ভাবে না কিভাবে? ভেবেই বা কি হবে? 

আচ্ছা মৃত্যুর পরে কি হবে? কেউ বলে কর্মফল অনুযায়ী টিকটিকি, তেলাপোকা বা ব্রাহ্মণ সন্তান হয়ে জন্ম নিবে, এই ভাবে জন্ম নিতে নিতে নিতে নিতে এক সময় ভগবানের সাথে মিলে যাবে। কেউ বলে কবরে বসে শাস্তি হবে এরপর কবর থেকে উঠিয়ে বিচারক বিচার করবে। কেউ বলে সরাসরি আত্মাটা ঈশ্বরের সাথে মিশে যাবে। জানি এগুলো তাদের কল্পনা, যার মাধ্যমে তারা তাদের ধর্মীয় বৃত্তের মধ্যে চিত্তের সুখ অন্বেষণ করে। কিন্তু আমার চিত্ত যে অনশন করে আছে! 

চিত্তকে বুঝাই আরে ব্যাটা ঘোড়ার ডিম হবে, মাটির সাথে মিশে যাবো। কিন্তু চিত্ত যে মানে না - এতো প্রেমিকার সাথে মিলনের জন্য ছটফট করা চিত্ত নয়, এ তো বড়োলোক হবার স্বপ্নে বিভোর চিত্ত নয় যে মিলন হলে বা লটারি পেলেই সমাধান হয়ে যাবে, এ তো পিথাগোরাসের উপপাদ্য নয় যে কাঞ্চন স্যারের কাছে গেলে বুঝিয়ে দিবে, এ তো মার্কসের দর্শন নয় যে হারুন স্যারের কাছে গেলে জানতে পারবো, এতো প্লেটোর রিপাবলিক নয় যে আমিনুল ইসলাম স্যারের কাছে গেলে বুঝে যাবো, এতো কোরআন হাদিস নয় যে হুজুরের কাছে যেয়ে বুঝবো, এতো বাইবেল গীতা নয় যে ফাদার বা পুরোহিতের কাছে যেয়ে বুঝবো। এ যে মৃত্যুদর্শন যা একমাত্র যারা মরেছে তারাই হয়তো জানে। 

মৃত্যুদর্শন একবার যার মাথায় ঢুকে সে সম্ভবত আর স্বাভাবিক থাকতে পারে না। কি হবে এতো টাকা পয়সা করে, মৃত্যুই তো সব শেষ হবে। কি হবে এতো বই পড়ে, সাহিত্য রচনা করে, জনপ্রিয় হয়ে, দর্শনচর্চা করে, বিজ্ঞানচর্চা করে, সংগঠন করে, রাজনীতি করে? রবীন্দ্রনাথকে আজ কোটি কোটি মানুষ মনেপ্রাণে শ্রদ্ধা করে তাতে রবীন্দ্রনাথের কি আসা যায়? মৃত্যুদর্শন মানুষকে অহিংস করে, অনেক সময় মানুষকে নিষ্ক্রিয় করে। কি লাভ একজন মানুষকে ঠকিয়ে ২ টা পয়সা বেশী নিয়ে, কি লাভ একজন মানুষকে হত্যা করে, কি লাভ ভালোবেসে, কি লাভ যৌনকর্মে, কি লাভ পার্থিব ক্রিয়াকর্মে? 

কোন লাভ নাই বেটা আছিস কেন? মর। মাঝের মধ্যে সত্যিই আত্মহত্যা করতে ইচ্ছা করে। না প্রেমে স্যাকা খেয়ে, টাকা পয়সার ঝামেলায়, কোন অনুশোচনায় আত্মহত্যা করা নয়। এক্সপেরিমেন্ট করার জন্য আত্মহত্যা করতে ইচ্ছা করে, মরার পরে কি হয় তা জানতে বড়ই ইচ্ছা করে। কিন্তু এক্সপেরিমেন্ট করতে যেয়ে আমিই যে এক্সপায়ার হয়ে যাবো? আমি তো আর এতো সুন্দর পৃথিবীতে আসতে পারবো না, আমি তো মায়ের হাতের রান্না খেতে পারবো না, আমি তো প্রেমিকার চোখের কান্না থামাতে পারবো না, আমি তো উত্থাল যৌবনে আর টালমাতাল হতে পারবো না, আমি তো আমার অনুভুতি ও চিন্তাগুলো কারো সাথে শেয়ার করতে পারবো না, আমি তো জীবনানন্দের কবিতা পড়তে পারবো না, আমি তো নিটসের দর্শন পড়তে পারবো না, আমি তো Sagar Hossain , তাহসিব হাসানKhan Asad,Shipra এর মতো প্রিয় মানুষদের সান্নিধ্য পাবো না। 

এই মৃত্যুদর্শন বড়বেশী আমিত্ববাদী, সে নিজেকে ভালবাসতে শিখায়। কিন্তু কোন সমাধান দিতে পারে না। সবার মধ্যে এ মৃত্যুদর্শন ভর করে না, মৃত্যুর কথা চিন্তা করলে বেশীরভাগ মানুষ বড়োজোর তাদের গণ্ডীর মধ্যে নামাজ, রোজা, পুজা করে কাল্পনিক কোন খুঁটিকে আঁকড়ে ধরে সান্ত্বনা লাভ করে। কিন্তু আমি যে ঐ সান্ত্বনার বাইরে! কোন পীর, মুর্শিদ, আল্লাহ্‌, হরি কারো মাধ্যমে তো আমার মুক্তি, মোক্ষ, নির্বাণ, স্যালভেশন, নাজাত, ফানাহ, বাকাহ হবে না, তাহলে আমি কি করবো? এতো সুন্দর জীবনের পরে কি আর কিছু আছে? না থাকলে এভাবেই অনন্তকালের জন্য নিঃশেষ হয়ে যাবো? এ এক সেকুলার মানুষের চরম আধ্যাত্মিকতা, যে আধ্যাত্মিকতায় যৌবনে বসেই আমি আক্রান্ত হয়ে পাগল প্রায়, জানি না বৃদ্ধ হলে কি হবে।
পোষ্টঃনিলয় নীল