Thursday, 17 September 2015

ব্লাডমুন বা সুপারমুন-Super-moon Lunar Eclipse 2015

নাসার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে August 31, 2015 একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয় ।। তাতে ব্লাডমুন কিংবা সুপারমুন এর বিষয়ে খুব মজার কিছু তথ্য ও এই বছর মানে ২০১৫ তে কবে ব্লাডমুন কিংবা সুপারমুন দেখা যাবে তা বলা হয় ।।  আসুন আগে ভিডিওটা দেখে নেই ।


(ভিডিওর ভাল রেগুলেশান ও মুল পেজ লিংক নিচে দেয়া আছে  )
।।
এখন ব্লাডমুন কিংবা সুপারমুন নিয়ে  সামান্য কিছু বলি । ব্লাডমুন কিংবা সুপারমুন এটি মূলত চাঁদের একটি প্রতিচ্ছায়া। যার ফলে চাঁদকে রক্তিম মনে হয়। ব্লাডমুন তখনই ঘটে যখন চাঁদ পৃথিবীর খুব কাছে চলে আসে। ব্লাডমুন হয় পূর্ণিমার সময়। ঠিক ঐদিনই চন্দ্রগ্রহণও হয়। এবছরের এই মাসে অর্থাৎ সেপ্টেম্বরের  ২৭ তারিখ হবে ব্ল্যাডমুন। এদিন চাঁদ পৃথিবীর অনেকটাই কাছে চলে আসবে। ফলে চাঁদকে বড় মনে হবে। চাঁদের আলো হবে উজ্জ্বল। ঐদিন প্রথমে পূর্ণ চাঁদটি পৃথিবীর উপবৃত্তাকার কক্ষপথে এমন একটি কাছাকাছি অবস্থানে চলে আসবে, যখন চাঁদকে বেশি বড় দেখাবে। মূলত সুপারমুন পৃথিবীর পেছন দিকে অন্ধকার অঞ্চলে প্রবেশ করলে পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণে রূপ নেয়, লাভ ছোপ ছোপ আলোর আভা ছড়ায়। এজন্য একে ব্লাডমুন বলা হয়।
যারা ইউরোপ বা আফ্রিকাতে আছে তারা ২৮ তারিখ ভোরে দেখতে পাবে সুপারমুন । এই ভিডিওতে বিগত শতাব্দির সুপারমুনের তথ্য দেয়া আছে ,  ৩০ বছর পর চাঁদ পৃথিবীর কাছাকাছি চলে আসছে


আর কয়েকদিন দিন পর আকাশে আমরা যাকে দেখব, সেই ‘সুপার মুন’ দেখার সুযোগ আমরা পাই খুব কম।আর একই দিনে ‘সুপার মুন’ আর ‘পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ’ এর ঘটনাকে বিরলই বলা যায়। যা গত ৩০ বছরে ঘটেনি।একশো বছরে আমরা এই সুযোগ পেয়েছিলাম মাত্র পাঁচ বার। ১৯১০, ১৯২৮, ১৯৪৬, ১৯৬৪ আর ১৯৮২ সালে। এই সুযোগ আবার পাব ১৮ বছর পর ২০৩৩ সালে।
চাঁদ আসলে পুর্ন বৃত্তের মত আমাদের চারপাশে মানে পৃথিবীর চারপাশে ঘোরেনা ।। অনেকটা ডিমের মত চেপ্টা আকারে ঘোরে, মানে কেন্দ্রের কখনো দূরে কখনো কাছে  এই স্থানে কেন্দ্র পৃথিবী । ২৭ সেপ্টেম্বর আসবে আমাদের সবচেয়ে কাছে, যাকে বলে ‘পেরিজি’।


তবে এই দিনে পৃথিবী ধ্বংসের অনেক গুঞ্জনের খবর থাকলেও এমনটা হবার সম্ভাবনা নাই বলে নাসা জানিয়েছে

তথ্যসুত্রঃ
বিস্তারিত জানতে নাসার সাইটে ঘুরে আসতে পারেন

Monday, 14 September 2015

কম্পিউটার ভাইরাস

কম্পিউটার ভাইরাস হল এক ধরনের কম্পিউটার প্রোগ্রাম যা ব্যবহারকারীর অনুমতি বা ধারণা ছাড়াই নিজে নিজেই কপি হতে পারে। মেটামর্ফিক ভাইরাসের মত তারা প্রকৃত ভাইরাসটি কপিগুলোকে পরিবর্তিত করতে পারে অথবা কপিগুলো নিজেরাই পরিবর্তিত হতে পারে। একটি ভাইরাস এক কম্পিউটার থেকে অপর কম্পিউটারে যেতে পারে কেবলমাত্র যখন আক্রান্ত কম্পিউটারকে স্বাভাবিক কম্পিউটারটির কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। যেমন: কোন ব্যবহারকারী ভাইরাসটিকে একটি নেট ওয়ার্কের মাধ্যমে পাঠাতে পারে বা কোন বহনযোগ্য মাধ্যম যথা ফ্লপি ডিস্ক, সিডি, ইউএসবি ড্রাইভ বা ইণ্টারনেটের মাধ্যমে ছড়াতে পারে। এছাড়াও ভাইরাসসমূহ কোন নেট ওয়ার্ক ফাইল সিস্টেমকে আক্রান্ত করতে পারে, যার ফলে অন্যান্য কম্পিউটার যা ঐ সিস্টেমটি ব্যবহার করে সেগুলো আক্রান্ত হতে পারে। ভাইরাসকে কখনো কম্পিউটার ওয়ার্ম ও ট্রোজান হর্সেস এর সাথে মিলিয়ে ফেলা হয়। ট্রোজান হর্স হল একটি ফাইল যা এক্সিকিউটেড হবার আগ পর্যন্ত ক্ষতিহীন থাকে।
বর্তমানে অনেক পার্সোনাল কম্পিউটার (পিসি) ইণ্টারনেট ও লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত থাকে যা ক্ষতিকর কোড ছড়াতে সাহায্য করে। ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব, ই-মেইল ও কম্পিউটার ফাইল শেয়ারিং এর মাধ্যমে ভাইরাস সংক্রমন ঘটতে পারে। কিছু ভাইরাসকে তৈরি করা হয় প্রোগ্রাম ধ্বংশ করা, ফাইল মুছে ফেলা বা হার্ড ডিস্ক পূণর্গঠনের মাধ্যমে কম্পিউটারকে ধ্বংশ করার মাধ্যমে। অনেক ভাইরাস কম্পিউটারের সরাসরি কোন ক্ষতি না করলেও নিজেদের অসংখ্য কপি তৈরি করে যা লেখা, ভিডিও বা অডি ও বার্তার মাধ্যমে তাদের উপস্থিতির বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। নিরীহ দর্শন এই ভাইরাসগুলোও ব্যবহারকারীর অনেক সমস্যা তৈরি করতে পারে। এগুলো স্বাভাবিক প্রোগ্রামগুলোর প্রয়োজনীয় মেমোরি দখল করে। বেশ কিছু ভাইরাস বাগ তৈরি করে, যার ফলশ্রুতিতে সিস্টেম ক্র্যাশ বা তথ্য হারানোর সম্ভাবনা থাকে।

প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা

দুটি সাধারণ পদ্ধতিতে এণ্টি-ভাইরাস সফটওয়্যারগুলো ভাইরাস সনাক্ত করে থাকে। প্রথম ও সর্বাধিক প্রচলিত পদ্ধতিটি হল ভাইরাস সিগনেচার  তালিকা থেকে ভাইরাস সনাক্তকরণ। এই সনাক্তকরণ পদ্ধতির প্রধান সমস্যা হল ব্যবহারকারীরা কেবল সেসব ভাইরাস থেকেই রক্ষা পান যেগুলো পুর্বোক্ত ভাইরাস  আপডেটে উল্লিখিত থাকে। দ্বিতীয় পদ্ধতিটি হল হিউরিস্টিকএলগরিদম যা ভাইরাসের সাধারণ  থেকে সনাক্ত করা হয়। এই পদ্ধতিতে এণ্টি-ভাইরাস সিগনেচার ফার্ম কর্তৃক  ভাইরাস না হয়েও তা সনাক্ত করা যায়।

সারানোর প্রক্রিয়া

কোন কম্পিউটার একবার ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হবার পর অপারেটিং সিস্টেম পুনরায় ইনস্টল করা ছাড়া তা ব্যবহার করা বিপদজনক। তবে ভাইরাস আক্রান্ত কম্পিউটারকে সারিয়ে তোলার জন্য বেশ কয়েকটি পদ্ধতি রয়েছে। এই পদ্ধতিগুলো ভাইরাসের প্রকার ও আক্রান্ত হবার মাত্রার উপর নির্ভর করে।

ভাইরাস মুছে ফেলা

পিসিতে ক্ষতিগ্রস্ত সিস্টেমকে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে আসার পদ্ধতিটি সিস্টেম রিস্টোর নামে পরিচিত, যা রেজিস্ট্রি এবং গুরুত্বপূর্ণ সিস্টেম ফাইলসমূহকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে আসে। অনেক সময় এর প্রয়োগ ভাইরাস সিস্টেমটিকে হ্যাং করে দেয় এবং পরবর্তীতে হার্ড রিবুট এটিকে ক্ষতিগ্রস্ত করার আগের অবস্থায় নিয়ে যাবে। অবশ্য কিছু ভাইরাস রিস্টোর সিস্টেমসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ টুল যথা টাস্ক ম্যানেজার এবং কমাণ্ড প্রম্পট বিকল করে দেয়। এগুলো করে এমন একটি ভাইরাসের নাম সায়াডোর। বিভিন্ন উদ্দেশ্যে এডমিনিস্ট্রেটরের উক্ত টুলগুলো অন্যান্য ব্যবহারকারীদের জন্য অকেজো করে রাখার ক্ষমতা আছে। ভাইরাস রেজিস্ট্রিকে পরিবর্তন করে দেবার মাধ্যমে একই কাজ করে, ফলে যখন একজন প্রশাসক কম্পিউটারটি চালান তখন তিনিসহ অন্যান্য ব্যবহারকারী এই টুলগুলো ব্যবহার করা থেকে বঞ্চিত হন। যখন একটি আক্রান্ত টুল ভাইরাসের মাধ্যমে অকেজো হয়ে যায় তখন তা "Task Manager has been disabled by your administrator." বার্তাটি দেয়।

অপারেটিং সিস্টেমের রিইন্সটলেশন

যদি কোন কম্পিউটারে এমন কোন ভাইরাস থাকে যা এণ্টি ভাইরাস সফটওয়্যারের পক্ষে মুছে ফেলা সম্ভব না হয় তবে অপারেটিং সিস্টেমের পুনরায় ইন্সটলেশন জরুরি হতে পারে। এটি সঠিকভাবে করার জন্য হার্ড ড্রাইভ সম্পুর্ণভাবে ডিলিট করতে হবে (পার্টিশন ডিলিট করে ফরম্যাট করতে হবে)।
সুত্র ঃ উইকিপিডিয়া ও সায়েন্স নিউজ

Saturday, 12 September 2015

এইডস নিয়ে কিছু কথা

এইডস কী?

প্রথমেই এটা জেনে রাখা প্রয়োজন যে এইডস কোন রোগ নয়। AIDS এর পূর্ণরূপ হলো Acquired Immune Deficiency Syndrome, এটার বঙ্গানুবাদ করলে দাঁড়ায়- ‘অর্জিত বা অন্যের কাছ থেকে পাওয়া রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ঘাটতির লক্ষণসমূহ’। আর HIV মানে হচ্ছে Human Immunodeficiency Virus। এইচআইভি এমন একধরনের ভাইরাস, যা মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ধীরে ধীরে ধ্বংস করে দেয়। এইচআইভি সংক্রমণের কারণে মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যখন অতিরিক্ত হ্রাস পায় তখন যে কোন সহজ রোগও (যেমন: নিউমোনিয়া, যক্ষ্মা, ডায়রিয়া ইত্যাদি) যথাযথ চিকিৎসায় নিরাময় হয় না। শরীরের এই অবস্থার নাম হলো এইডস।

কোন কোন তরলে এইচআইভি থাকে?

মানবদেহের প্রায় ৪ টি তরল পদার্থে এইচআইভি থাকে। যথা-
  • রক্ত,
  • বীর্য,
  • সেক্সুয়াল ফ্লুইড/ভ্যাজাইনাল ফ্লুইড,
  • মায়ের বুকের দুধ।
একটা মজার ব্যপার হচ্ছে, এই চারটা তরল ছাড়াও মুখের লালা এবং প্রস্রাবেও এইচআইভি থাকে। তবে সেগুলো এইচআইভি সংক্রমণের জন্য যথেষ্ট নয়। হ্যাঁ, Lip kiss এর মাধ্যমে এইচআইভি হতে পারে, তবে শর্ত হচ্ছে একজনের মুখ থেকে আরেকজনের মুখে কমপক্ষে ৩-৪ লিটার লালা স্থানান্তর করতে হবে।

এইডস কিভাবে ছড়ায়

  • এইচআইভি আক্রান্ত কোন নারী বা পুরুষের সাথে অনিরাপদ দৈহিক সম্পর্ক স্থাপন করলে। বিশ্বব্যাপী শতকরা আশি ভাগ এইচআইভি সংক্রমণের কারণ কিন্তু এই ‘অনিরাপদ দৈহিক সম্পর্ক’।
  • এইচআইভি সংক্রমিত ব্যক্তির ব্যবহৃত সুচ, সিরিঞ্জ অপরিশোধিত অবস্থায় ব্যবহার করলে। এছাড়াও আক্রান্ত ব্যক্তির বিভিন্ন অঙ্গ (যেমন- কর্নিয়া, হৃৎপিণ্ড, কিডনী ইত্যাদি) কোন সুস্থ ব্যক্তির শরীরে প্রতিস্থাপন করলে।
  • এইচআইভি সংক্রমিত মায়ের মাধ্যমে সন্তান এইচআইভিতে আক্রান্ত হতে পারে। এক্ষেত্রে আক্রান্ত হওয়ার তিনটি পর্যায় রয়েছে। এই তিনটির যেকোন সময়েই সন্তান আক্রান্ত হতে পারে। যথা- গর্ভাবস্থায়, প্রসবের সময় ও বুকের দুধ পান করানোর মাধ্যমে।

এইচআইভি কোন কোন উপায়ে ছড়ায় না

  • এটি কোন ছোঁয়াচে রোগ নয়। বায়ু, পানি, খাদ্য, কিংবা সাধারণ স্পর্শে এইচআইভি ছড়ায় না।
  • আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে একই প্লেটে খাবার খেলে এইডস হয় না।
  • আক্রান্ত ব্যক্তির সেবা করলে এইডস ছড়ায় না।
  • একই বিছানা ব্যবহার করলেও এইডসে আক্রান্ত হওয়ার কোন ঝুঁকি থাকে না।
  • আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি, কাশি থেকে, কিংবা একই পুকুরে গোসল করলেও এইডস ছড়ায় না।
  • মশা কিংবা অন্য কোনো পোকা-মাকড়ের মাধ্যমেও এইডস ছড়ায় না।

এইডসের লক্ষণসমূহ

প্রকৃতপক্ষে এইডসের কোন সুনির্দিষ্ট লক্ষণ নেই। দেশ ও স্থানভেদে এইডসের লক্ষণের পার্থক্য দেখা যায়। তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এইডসের কিছু সাধারণ লক্ষণ-
  • অজানা কারণে দু’মাসের অধিক সময় ধরে পুনঃ পুনঃ জ্বর হওয়া বা রাতে শরীরে অধিক ঘাম হওয়া।
  • অতিরিক্ত অবসাদ অনুভব হওয়া।
  • শরীরের ওজন দ্রুত হ্রাস পাওয়া।

এইচআইভি সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণাসমূহ

এইচআইভি নিয়ে অনেকেই ভ্রান্ত ধারণা মনে পোষণ করে থাকেন। অথচ এগুলো আদৌ সঠিক নয়। যেমন-
  • দৈহিক মিলনের পর যৌনাঙ্গ ভালো করে পরিষ্কার করলে এইডস হয় না।
  • দৈহিক মিলনের সময় লুব্রিকেট ব্যবহার করলে এইডস হয় না।
  • এন্টিবায়োটিক সেবন করে এইডস থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।
  • টিকা ব্যবহার করলে এইডসের ঝুঁকি থাকে না।
  • আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি, কাশি থেকে এইডস ছড়ায়।
  • এইডস শুধুমাত্র যৌনকর্মী, বহুগামী কিংবা সমকামীদের মাধ্যমে ছড়ায়।
  • চুমুর মাধ্যমে এইডস ছড়ায়।
প্রকৃতপক্ষে এইগুলো সবগুলোই ভুল ধারণা। এগুলো একটাও সত্যি নয়।

যৌনরোগ ও এইচআইভি সংক্রমণ

যৌনরোগ কী

যে সমস্ত রোগ প্রধানত দৈহিক মিলনের মাধমে বিস্তার লাভ করে সেগুলোকেই যৌনরোগ বলে। যেমন- গনোরিয়া, সিফিলিস, ক্ল্যামিডিয়া ইত্যাদি। তবে দৈহিক মিলন ছাড়াও যৌনরোগ সংক্রমিত হতে পারে। যেমন- অপরিশোধিত রক্ত গ্রহণের মাধ্যমে। ইংরেজীতে Sexually Transmitted Disease (STD) এবং Sexually Transmitted Infection (STI) এর মানেই হলো যৌনরোগ।

যৌনরোগের লক্ষণসমূহ

যৌনরোগের নির্দিষ্ট কিছু লক্ষণ রয়েছে। এগুলোর যেকোন একটি লক্ষণ দেখা দিলেই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব চিকিৎসকের সরণাপন্ন হওয়া উচিত।
  • যৌনাঙ্গ কিংবা এর আশেপাশে ঘা হলে।
  • যৌনাঙ্গ থেকে পুঁজ বের হওয়া।
  • প্রস্রাবের সময় ব্যথা ও জ্বালা করা।
  • দৈহিক মিলনের সময় যৌনাঙ্গে ব্যথা অনুভব হওয়া।
  • যৌনাঙ্গে খুব বেশি চুলকানি হওয়া।
  • মহিলাদের পানির মতো স্রাব হওয়া।
সময়মতো যৌনরোগের সঠিক চিকিৎসা না করালে নানাবিধ স্থায়ী সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন- রোগী বন্ধ্যা হয়ে যেতে পারে, মায়ের পেটে বাচ্চা নষ্ট হয়ে যেতে পারে, শিশু অন্ধ/বিকলাঙ্গ/পঙ্গু হয়ে জন্মাতে পারে, জরায়ুমুখ ক্যান্সার হতে পারে, এইচআইভি এবং হেপাটাইটিস ভাইরাস সহজেই আক্রমণ করতে পারে।

যৌনরোগের সাথে এইচআইভি’র সম্পর্ক

যৌনরোগের সাথে এইচআইভি’র ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। যেমন- যারা যে কোন ধরনের যৌনরোগে ভুগছেন তাঁদের এইচআইভিতে সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি অন্যদের চাইতে ৫-১০ শতাংশ বেশি। যৌনরোগের চিকিৎসা আছে, সঠিক চিকিৎসায় যৌনরোগ ভালো হয়। কিন্তু এইচআইভির কোন চিকিৎসা নেই। একবার এইচআইভিতে আক্রান্ত হলে মৃত্যু অনিবার্য।

কাদের এইচআইভিতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি

অসচেতনতার কারণে যেকেউই এইচআইভিতে আক্রান্ত হতে পারে। তবে কিছু গোষ্ঠীর এইচআইভিতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অত্যাধিক বেশি। এরা হলো,
  • ইনজেকশানের মাধ্যমে মাদক গ্রহণকারী
  • মহিলা ও পুরুষ যৌনকর্মী এবং তাদের খদ্দের
  • পেশাদার রক্ত বিক্রেতা
  • হিজড়া
  • সমকামী
  • অল্পবয়সী জনগোষ্ঠী
  • পরিবহন শ্রমিক ইত্যাদি
এরা কেন ঝুঁকিপূর্ণ সেটা সবার বোধগম্য হয়েছে আশা করি। তবে শেষের দুটো গোষ্ঠী (অল্পবয়সী জনগোষ্ঠী, পরিবহন শ্রমিক) কেন ঝুঁকিপুর্ণ এটা অনেকের বোধগম্য নাও হতে পারে। তাই ব্যাখ্যা করে দিচ্ছি।
অল্পবয়সী জনগোষ্ঠী: UNAIDS(২০১০) এর তথ্যানুযায়ী বিশ্বব্যাপী প্রতিবছর নতুনভাবে যারা এইচআইভিতে আক্রান্ত হচ্ছে তার মধ্যে অর্ধেকের বেশি ২৫ বছর বয়সের কম বয়সী কিশোর-কিশোরী এবং যুবক-যুবতী। কেননা অল্পবয়সে এরা যৌনরোগের কথা শুনে থাকলেও এ থেকে নিজেদের রক্ষা করার জন্য কোন পদক্ষেপ নেয় না। কিশোর-কিশোরীরা মনে করে না যে তারা এইচআইভিতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। ICDDRB ও SC-USA এর এক গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে বিবাহপূর্ব যৌন অভিজ্ঞতা লাভ করেছে ১৫-১৭ বছর বয়সী ১১% কিশোর এবং ২% কিশোরী। ১৮-২০ বছর বয়সী ২৩% যুবক ও ২% যুবতী। ২১-২৪ বছর বয়সের ৩৫% যুবক ও ২% যুবতী।
আর অল্পবয়সী মেয়েরাও এইচআইভি ঝুঁকিতে বেশি থাকে। কারণ তারা অনিরাপদ দৈহিক সম্পর্ক স্থাপনের সময় বাধা দিতে পারে না। ওরা পুরুষকে প্রতিরোধ করতে পারে না। এছাড়াও মেয়েদের শারীরিক বৈশিষ্ট্য এইচআইভিতে সংক্রমিত হওয়ার জন্য ছেলেদের তুলনায় দুই থেকে চার গুণ বেশি।
পরিবহন শ্রমিক: বিভিন্ন পতিতালয়ের যারা নিয়মিত খদ্দের তাদের অর্ধেকের বেশি হচ্ছে বিভিন্ন শ্রেণীর পরিবহন শ্রমিক। তাই তারা এইচআইভিতে বেশি আক্রান্ত হয়।

এইচআইভি প্রতিরোধে করণীয়

আমাদের দেশে ও আমাদের পাশের দেশ ভারতে প্রায় একই সময়ে এইচআইভি আক্রান্ত রোগীর সন্ধান পাওয়া গিয়েছিলো। অথচ বর্তমান পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে ভারতে এইচআইভি আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাংলাদেশের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি। এই ধারা অব্যাহত রাখতে এবং বাংলাদশকে এইচআইভিমুক্ত করতে কিছু প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে। যেমন-
  • যৌনসঙ্গী নির্বাচনে সতর্ক হওয়া; এবং মিলনের আগে STD এর ব্যাপারে খোলাখুলি কথা বলে নিশ্চিত হয়ে নেয়া।
  • যৌনমিলনের সময় কনডম ব্যবহার করা।
  • কোন কারণে রক্ত গ্রহণের প্রয়োজন হলে রক্তদাতার রক্তে এইচআইভি আছে কি না- তা অবশ্যই পরীক্ষা করে নেওয়া।
  • প্রতিবারই ইনজেকশানের নতুন সূঁচ ও সিরিঞ্জ ব্যবহার করা; এবং অস্ত্রোপচারের যাবতীয় যন্ত্রপাতি ব্যবহারের পূর্বে অবশ্যই জীবাণুমুক্ত করে নেওয়া।
  • কেউ যৌনরোগে আক্রান্ত হলে কালবিলম্ব না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া।

এইচআইভি’র চিকিৎসা

মনে রাখতে হবে, এইডসে আক্রান্ত হলে মৃত্যু অনিবার্য। এর কোনো সঠিক চিকিৎসা নেই। তবে কিছু ঔষধ আছে যা ARV (Anti Retroviral Drug) নামে পরিচিত, এগুলো এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তিকে সাময়িকভাবে ভালো থাকতে সাহায্য করে।

Thursday, 10 September 2015

আফ্রিকায় নতুন মানব প্রজাতির সন্ধান

জোহানেসবার্গে অবস্থিত University of the Witwatersrand এর প্রফেসর Lee Berger তার জীবনে আজ পর্যন্ত অনেক প্রয়োজনীর জিনিষ আবিস্কার করেছেন। কিন্তু তিনি এবার অনুধাবন করেছিলেন, তিনি অনেক বড় কিছু আবিস্কার করতে যাচ্ছেন। তবে তিনি এটা জানতেন না যে তিনি যা আবিস্কার করতে যাচ্ছেন, তা মানুষের বিবর্তনের ইতিহাসকে এক নতুন মোড় দেবে এবং আমাদের পরিচয় সম্পর্কে আরো নতুন কিছু প্রশ্ন উপস্থাপন করবে।
150910112952-restricted-homo-naledi-lee-berger-wits-exlarge-169 (1)তিনি ও তার দল দুই বছর ধরে জোহানেসবার্গের কাছাকাছি অবস্থিত রাইসিং স্টার কেভের লাইমস্টোন টানেলের গভীরে কোনো কিছুর সন্ধানের উদ্দেশ্যে যেতে যেতে কিছু কঙ্কাল এবং হাড়গোড় (ফসিল) আবিষ্কার করে বসেন, যা আমাদের বিবর্তনের তালিকায় নতুন এক সদস্য হিসেবে যোগ হয়। যে প্রজাতির ফসিল তারা খুঁজে পেয়েছেন, তারা এর নাম দিয়েছেন Homo naledi। কঙ্কাল পর্যবেক্ষণের পর তাদের মতে, তার মৃত্যুর পর তার সাথীরা তাকে এখানে কবর দিয়েছিলো, যে প্রথাটি বিজ্ঞানীদের মতে শুধু মানুষের মাঝেই সীমাবদ্ধ ছিলো। টানেলটির আরেকটি আলাদা করা জায়গায় এই প্রজাতির আরো কিছু কঙ্কাল পাওয়া যায়, যেগুলোর মধ্যে শিশু, মহিলা, মধ্য বয়স্করাও রয়েছে। এসবের সন্ধান পাওয়ার পর বারজার এবং তার সহকর্মীরা এই মতে আসেন।
150910094401-restricted-homo-naledi-wits-university-1-exlarge-169 (1)তাদের বিশ্বাস, ৩০ মিটার গভীরে অবস্থিত এই চেম্বারটি Homo naledi প্রজাতির কবরস্থান ছিলো, যেখানে তারা মৃত্যুর পর সবাইকে কবর দিতো এবং পথ প্রদর্শনের জন্য পুরো রাস্তায় তারা আগুন জ্বালিয়ে আসতো। বারজার CNN কে বলেন, সেখানে শিকারীদের হামলা এমনকি প্রাকৃতিক দুর্যোগেরও কোনো চিহ্ন ছিলো না। যার ফলে তারা মত দেন যে, এই প্রজাতিটি তাদের নিজেদের ইচ্ছায় এখানে এসে মৃতদেহের সৎকার করেছিলো। তিনি আরো বলেন, আমরা এমন এক প্রজাতির আবিষ্কার করলাম, যারা হয়তোবা মৃত্যু এবং এর পরবর্তী জীবন সম্পর্কে একটু হলেও ভেবেছিলো এবং এতো গভীরে অন্ধকারে এসে যথেষ্ট ঝুঁকি এবং প্রচেষ্টা সহকারে মৃতদেহের সৎকার করেছিলো। তিনি মনে করেন, মৃতদেহের সৎকারের বিষয়টিই ছিলো আমাদের মানুষের এক অনন্য বৈশিষ্ট্য এবং মানুষ নামের সংজ্ঞা। এই প্রজাতি আবিষ্কারের পর এখন আমাদের মানুষের সংজ্ঞাকে আবার নতুন করে ভাবতে হবে।
কিন্তু বারজার ও তার দল প্রজাতিটির বয়স/উৎপত্তিকাল এখনো নির্ণয় করতে না পারায় তারা এখনো তাদের মতগুলো যথাযথ কিনা, সে ব্যাপারে নিশ্চিত নন। কারণ প্রথম মৃতদেহ কবর দেয়ার প্রচলন ঘটে আজ থেকে প্রায় ১ লাখ বছর আগে।
অনেকটা মানুষ, কিন্তু পুরোপুরি নয় কেনো?
Homo naledi প্রাচীন এবং আধুনিকের মধ্যবর্তী এক অদ্ভুত বৈচিত্রতা বিশিষ্ট প্রজাতি। বিজ্ঞানীরা তাদের ফসিল পর্যবেক্ষণ করে কিছু বৈশিষ্ট্য বের করেছেন।
150910092424-restricted-homo-naledi-nat-geo-3-exlarge-169 (1)
১। তাদের মস্তিষ্ক ছিলো একটা কমলালেবুর সমান।
150910105558-restricted-homo-naledi-foot-wits-exlarge-169 (1)
২। তারা অপেক্ষাকৃতভাবে লম্বা, প্রায় ৫ ফুট লম্বা এবং লম্বা পা বিশিষ্ট। তাদের পা অনেকটা আমাদের মতো এবং বিজ্ঞানীরা বলেন, এই প্রজাতি অনেক দীর্ঘ রাস্তা পাড়ি দিতে সক্ষম ছিলো।
150910110718-restricted-homo-naledi-hands-wits-exlarge-169 (1)
৩। তাদের হাত অনেকটা মানুষের মতো কিন্তু আঙ্গুলের হাড়িগুলো বাঁকান। ধারণা করা হয়, তারা কোনো কিছু বেয়ে উঠা এবং বিভিন্ন জিনিষকে যন্ত্রপাতি হিসেবে ব্যবহার করতে জানতো।
150910112025-restricted-homo-naledi-skull-closeup-wits-exlarge-169 (1)
৪। তাদের মাথার খুলি আমাদের মাথার তুলনায় অর্ধেকেরও কম ছিলো।
University of Wisconsin-Madison এর একজন বিজ্ঞানী John Hawks বলেন, এই প্রজাতিকে বলতে গেলে আমদের বর্গেরই সবচেয়ে আদিম প্রাণী বিবেচনা করা যেতে পারে। কিন্তু এরও কিছু অবিশ্বাস্য রকমের গুণাবলি আছে, যা মানুষের সাথে মিলে যায়। যার ফলে আমরা একে আমাদের Homo বর্গের অন্তর্ভুক্ত করতে পারি।
সুত্রঃ সি এন এন এবং Sci-News.com