Friday, 11 March 2016

ব্ল্যাক হোল (কৃষ্ণ গহ্বর)

ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণ গহ্বর কি?
দৃশ্যমান মহাবিশ্বে (The observable Universe) রয়েছে কমপক্ষে ১০০ বিলিওন গ্যালাক্সি (ছায়াপথ)। প্রতিটা গ্যালাক্সিতে রয়েছে ১০০ বিলিওন থেকে ১০০ ট্রিলিওন তারকা। সৃষ্টির শুরু থেকেই এই তারকা গুলোতে প্রতিনিয়ত ঘটে চলছে ভয়ানক বিস্ফোরণ। নিউক্লিয়ার ফিউশন রিয়াকশনের কারণে এই বিস্ফোরণ হয়ে থাকে। একাধিক হাইড্রোজেন পরমানু একত্রিত হয়ে হিলিয়াম তৈরি করে আর প্রচন্ড বিস্ফোরণের সাথে এনার্জী হিসাবে নির্গত করে আলো, তাপ, তেজস্ক্রিয়তা ইত্যাদি। কিন্তু তারকাদের এই জ্বালানি (হাইড্রোজেন) এক সময় শেষ হয়ে যায়। বিস্ফোরণ, আলো, তাপ কিছুই দেওয়ার ক্ষমতা থাকে না। তখন সুর্যের চেয়ে ১০-১২ গুন বা আরও বেশি ভর বিশিষ্ট তারকা গুলো প্রচন্ড বিস্ফোরণের সাথে নিভে যায়। এই নিভে যাওয়া তারকা গুলোকেই ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণ গহ্বর বলা হয়।

ব্ল্যাক হোলের সৃষ্টি কিভাবে হয়?
ব্ল্যাক হোল হচ্ছে মহাবিশ্বের সবচেয়ে অদ্ভুত সৃষ্টি গুলোর মধ্যে একটা। তারকা গুলোর মধ্যে যখন ভয়ানক বিস্ফোরণ চলতে থাকে তখন এর মধ্যে প্রচন্ড একটা বহির্মুখী চাপ (radiation) সৃষ্টি হয় যা বিস্ফোরণে সৃষ্ট বস্তুগুলোকে (particles) বাহিরের দিকে ঠেলতে থাকে। একই সাথে তারকা গুলোর ভিতরে থাকে প্রচন্ড শক্তিশালী মধ্যাকর্ষণ শক্তি যা ওই বস্তু গুলোকে ভিতরের দিকে টানতে থাকে যার কারণে তৈরী হয় একটা সুষম ব্যালেন্স (সমতা) যা চলতে থাকে বিলিওন বিলিওন বছর ধরে। কিন্তু মূল জ্বালানী হাইড্রোজেন হিলিয়ামে রুপান্তরিত হতে হতে এক সময় একেবারে নিঃশেষ হয়ে যায়। তখন বাকি থাকে শুধুই হিলিয়াম। যেহেতু ফিউশন রিয়াকশন তখনো চলতে থাকে, তাই তখন হিলিয়ামের বিভাজন ঘটিয়ে এই প্রক্রিয়া চালু রাখা হয়। কিন্তু এক সময় হিলিয়ামও শেষ হয়ে যায়। তখন পর্যায়ক্রমে কার্বন আর অক্সিজেনের বিভাজন ঘটিয়ে শক্তি উৎপাদনের প্রক্রিয়া চালু রাখা হয়। 

আমাদের সূর্যের মত ছোট তারকা গুলো মোটামুটি এখানেই থেমে যায়। যথেষ্ট ভর না থাকায় এরা আর কোন বিক্রিয়া চালাতে সক্ষম হয় না। আর তখনই মৃত্যু ঘটে এই তারকার। এই অবস্থায় এদেরকে বলা হয় White Dwarf. ফিউশন প্রক্রিয়া না চললেও অত্যাধিক তাপ মাত্রার কারণে এরা জ্বলজ্বল করে। বিলিওন বিলিওন বছর পরে এগুলো নীরবে ঠান্ডা হয়ে অন্য অবস্থায় রুপান্তরিত হয় যাকে বলা হয় Planetary Nebula বা নীহারিকা। পরবর্তীতে এসব নীহারিকা থেকেই সৃষ্টি হয় নতুন নতুন গ্রহ নক্ষত্রের।

সুর্যের চেয়ে সামান্য বড় বা কয়েক গুন বড় তারকা গুলো আরও কয়েক ধাপে ফিউশন প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এদের মধ্যাকর্ষণ বল যথেষ্ট শক্তিশালী হয় ইলেক্ট্রন আর প্রোটণকে প্রচন্ড চাপে নিউট্রন আর নিউট্রিনোতে পরিণত করার জন্য। নিউট্রিনো অন্যন্ত গতিশীল হওয়ার কারণে এরা শূণ্যে হারিয়ে যায়, রয়ে যায় শুধু নিউট্রন। নিউট্রনকে ভেঙ্গে এনার্জী উৎপাদন করার মত যথেষ্ট শক্তি না থাকায় এই তারকা গুলো এখানেই থেমে যায়। এই অবস্থায় এদেরকে বলা হয় Neutron Star. এদের ঘনত্ব এত বেশি হয় যে এক চা চামচ নিউট্রন স্টারের ভর পুরো মাউন্ট এভারেস্টের ভরের সমান। নিউট্রন স্টারের ভিতরে কিছু কিছু প্রোটণ আর ইলেক্ট্রন তখনো পর্যন্ত অবশিষ্ট থেকে যায় যা এর মধ্যে একটা শক্তিশালী Magnetic field তৈরী করে। Neutron Star গুলো প্রচন্ড গতিতে ঘুরতে থাকে যা কিনা নিজ অক্ষে মিনিটে ৪০ হাযার বার পর্যন্ত হতে পারে। প্রচন্ড ঘুর্ণন গতি আর শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্রের (Magnetic field) কারণে নিউট্রন স্টার থেকে প্রচন্ড শক্তিশালী আলোক রশ্মি নির্গত হয় যা লাইট হাউজের আলোর মত কিছুক্ষন পর পর দেখা যায়। মনে হয় আলোটা জ্বলছে নিভছে। এই ধরণের নিউট্রন স্টারকে বলা হয় Pulsar.

কিন্তু সুর্যের চেয়ে ১০-১২ গুন বা তারও বেশি ভর বিশিষ্ট তারকা গুলো তখন পর্যন্ত ফিউশন প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এরা নিউট্রনকে ভেঙ্গে এনার্জী উৎপাদন করে বিক্রিয়া চালু রাখে। এভাবে পর্যায়ক্রমে পিরিওডিক টেবিলের সিলিকন, অ্যলুমিনিয়াম, পটাসিয়াম বিভাজন করতে করতে এক সময় লোহায় এসে থামে। যেহেতু লোহা বিভাজন করে কোন এনার্জী উৎপাদন করা সম্ভব হয় না তাই মুহুর্তেই ওই তারকার বহির্মুখী চাপ উৎপাদনকারী রেডিয়েশন বন্ধ হয়ে যায় আর রয়ে যায় শুধু মধ্যাকর্ষণ শক্তি।

যেহেতু অন্তর্মুখী বল (মধ্যাকর্ষণ শক্তি) ছাড়া অন্য কোন শক্তি তখন আর কার্যকর থাকে না তাই তারকার ভিতরকার ব্যালেন্স নষ্ট হয়ে যায় আর এক সেকেন্ডের মিলিওন ভাগের এক ভাগ সময়ের মধ্যে পুরা তারকা তার নিজের ভিতরেই collapse করে বা ভেঙ্গে পরে। ভেঙ্গে পরার মুহুর্তে তার বহির্ভাগে এক ভয়াবহ বিস্ফোরণ হয় যাকে বলা হয় Super Nova. আমাদের সূর্যের চেয়ে অনেক বেশি বড় তারকা (Super massive Stars) গুলোর ক্ষেত্রে এই বিষ্ফোরণকে বলা হয় Hyper Nova. এই বিষ্ফোরণ গুলো বিশ্ব ভ্রক্ষান্ডের সবচেয়ে বড় ও উজ্জ্বলতম বিস্ফোরণ হয় যার প্রথম ১ সেকেন্ডে যে পরিমান এনার্জী নির্গত হয় তা আমাদের সুর্যের সারা জীবনে (নিভে যাওয়ার আগ পর্যন্ত) নির্গত সব এনার্জীর চেয়ে ১০০ গুন বেশি হয়ে থাকে।

অন্য দিকে ভয়াবহ মধ্যাকর্ষণ বলের চাপে তারকাটা ছোট হতে হতে তার নিজের আয়তনের ট্রিলিওন ট্রিলিওন ভাগের এক ভাগের সমান আকৃতি ধারণ করে।
(নোটঃ ভর ঠিক রেখে পৃথিবীকে ছোট করতে করতে যদি একটা চীনা বাদামের সমান করা যায় তাহলে ওই চীনা বাদামটা হবে পৃথিবীর ব্ল্যাক হোল।)
যার ফলে এর ভিতরের ঘনত্ব আর মধ্যাকর্ষণ বল অসীম আকার ধারণ করে আর সৃষ্টি হয় এক নতুন ব্ল্যাক হোল। বিজ্ঞানীরা এই অবস্থাকে বলে Singularity যেখানে সময় আর স্পেস হয়ে পড়ে অর্থহীন আর চিরাচরিত কোয়ান্টাম ফিজিক্সের সব সূত্র অকেজো হয়ে যায়। বিষ্ফোরণের পর মুহুর্তেই নব্য সৃষ্ট এই ব্ল্যাক হোলের দুই পাশ দিয়ে দুটো এনার্জী জেট (Super heated Particles) দুই দিকে ছুটে যেতে থাকে আলোর গতিতে। চলার পথে এদের সংস্পর্শে আসা সব কিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এই জেটকে বলা হয় Gamma ray burst. ব্ল্যাক হোলের ভিতরে মধ্যাকর্ষণ শক্তি এতই বেশি থাকে যে এর সীমানার (Event Horizon) মধ্যে যা কিছু আসে তার সবই এর ভিতরে হারিয়ে যায়। এমনকি আলোও এর আকর্ষণ থেকে বেরিয়ে আসতে পারে না যার কারণে ব্ল্যাক হোল কখনো দেখাও যায় না। এজন্যই এর নাম করণ করা হয়েছে ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণ গহ্বর।

টুকিটাকি
প্রায় প্রত্যেকটা গ্যালাক্সির কেন্দ্রে থাকে অত্যন্ত বিশাল আকৃতির শক্তিশালী একটা করে ব্ল্যাক হোল যেগুলো সৃষ্টি হয়েছে বিশ্ব ভ্রক্ষান্ড সৃষ্টির (Big Bang) সাথে সাথেই। কেন্দ্রের এই Super Massive ব্ল্যাক হোল গুলো পরবর্তীতে নতুন গ্যালাক্সি তৈরীতে সাহায্য করে। ক্ষেত্র বিশেষে এরা এত বড় হয় যে এ যাবত আবিষ্কৃত সকল ব্ল্যাক হোলের মধ্যে সবচেয়ে বড় ব্ল্যাক হচ্ছে আমাদের সুর্যের চেয়ে ৪০ বিলিওন গুন বড় (by mass, till 2015)। আমাদের নিজস্ব গ্যালাক্সি মিল্কি ওয়ের কেন্দ্রেও রয়েছে একটি Super massive ব্ল্যাক হোল যা আমাদের সৌর জগৎ থেকে প্রায় ২৬ হাযার আলোক বর্ষ (light years) দূরে যার আকৃতি সুর্যের চেয়ে প্রায় ৪০ লক্ষ গুন বড়।
(নোটঃ আলোক বর্ষ বা light year কোন বছরের হিসাব না। এটা একটা দূরত্বের একক, মাইল, কিলোমিটারের মত। আলোর গতি সেকেন্ডে প্রায় ১ লাখ ৮৬ হাযার মাইল বা ৩ লক্ষ কিলোমিটার। আলোর গতিতে ১ বছর চললে যে দূরত্ব অতিক্রম করা যাবে, ওই দূরত্ব কে ১ আলোক বর্ষ বা 1 light year বলা হয়।)
শক্তিশালী চৌম্বকিয় আবেশের কারণে এই ব্ল্যাক হোল গুলোর চার পাশে জমে থাকা ধুলো কণার মেঘ, গ্যাস ইত্যাদি প্রচন্ড উত্তপ্ত হয়ে শক্তিশালী x-ray আর radio wave তৈরী করে যা এর দুই পাশ দিয়ে প্রচন্ড গতিতে রেডিয়েশন জেট বীম আকারে নির্গত হতে থাকে। এই বীম গুলো পার্শবর্তী গ্যালাক্সির ধুলো কণার মেঘ, গ্যাস ইত্যাদিকে প্রচন্ড চাপ ও তাপে উত্তপ্ত করে যার ফলে পরবর্তীতে ওই গ্যালাক্সিতে নতুন নতুন তারকারাজির সৃষ্টি হয়। একে বলা হয় AGN বা Active Galactic Nucleus. সব গ্যালাক্সিতে AGN থাকে না, যেমন আমাদের কেন্দ্রীয় ব্ল্যাক হোলের কোন AGN নেই। আমরা যখন আমাদের অবস্থান থেকে এই জেট গুলোকে উল্লম্ব ভাবে দেখি তখন একে বলা হয় Radio Galaxy. যখন কোন অ্যাঙ্গেল থেকে দেখি তখন একে বলা হয় Quasar বা কোয়াশার। আর যখন আমরা সরাসরি আলোর উৎস বরাবর জেটের কেন্দ্রের দিকে দেখি তখন একে বলা হয় Blazar. মূলত একই অবজেক্টের ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি আর অবস্থানের কারণে ভিন্ন ভিন্ন নাম হয়ে থাকে।

ব্ল্যাক হোলের মৃত্যু
ব্ল্যাক হোল নিজেই একটা মৃত তারকা, তারও আবার মৃত্যু আছে?
আছে। যে জিনিষের শুরু আছে তার অবশ্যই একটা শেষ আছে। ব্ল্যাক হোলেরও মৃত্যু হয়।
আমরা জানি যে ব্ল্যাক হোলের মধ্যাকর্ষণ বল এতই শক্তিশালী যে এর ভেতর থেকে কোন কিছুই (এমনকি আলোও) বেরিয়ে আসতে পারে না। যত বেশি অবজেক্ট ব্ল্যাক হোলের ভেতরে হারিয়ে যাবে, ব্ল্যাক হোলের আকৃতি দিনে দিনে ততই বড় হবে। তবে astrophysicist স্টিফেন হকিং এর মতে, ব্ল্যাক হোলও কিছু জিনিষ নির্গত করে, আর তা হচ্ছে রেডিয়েশন। তার মতে, ব্ল্যাক হোল থেকে প্রতিনিয়ত রেডিয়েশন বিকির্ণ হতে হতে এক সময় (বিলিওন ট্রিলিওন বছর) ব্ল্যাক হোল শূণ্যে মিলিয়ে (Evaporate) যাবে।
মহাশূন্যের প্রতিটা জায়গায় মূহুর্তে মূহুর্তে স্বল্প সময়ের জন্য ধণাত্মক ও ঋণাত্মক ভর যুক্ত sub atomic particles তৈরী ও ধ্বংস হচ্ছে। এই প্রক্রিয়া যখন ব্ল্যাক হোলের Event Horizon এর আসে পাশে হয় তখন ধণাত্মক ভর বিশিষ্ট particles গুলো অত্যাধিক শক্তিশালী হওয়ার কারণে বিকিরিত হয়ে যায়। বিকিরণের এই তত্বকে বলা হয় Hawking Radiation. অন্য দিকে ঋণাত্মক ভর বিশিষ্ট particles গুলো ব্ল্যাক হোলের শক্তিশালী মধ্যাকর্ষণের কারণে এর ভিতরে পড়ে হারিয়ে যায়। ঋণাত্মক ভর বিশিষ্ট হওয়ার কারণে এরা ব্ল্যাক হোলের ভর খানিকটা কমিয়ে দেয়। এভাবে বিলিওন ট্রিলিওন বছর ধরে একই প্রক্রিয়া চলতে চলতে এক সময় ব্ল্যাক হোলের ভরও শুণ্য হয়ে যাবে আর মৃত্যু হবে ব্ল্যাক হোলের।

কিন্তু হকিং এর এই সমাধান বিজ্ঞানীদের বড় এক প্রশ্নের সম্মুখীন করে। ব্ল্যাক হোল যদি এভাবে একদিন শূণ্যে মিলিয়ে যায় তাহলে এর ভিতরের সব তথ্যও এর সাথে চিরতরে হারিয়ে যাবে যা চিরাচরিত কোয়ান্টাম মেকানিক্সের মৌলিক বিধানের সম্পূর্ন পরিপন্থী। কোয়ান্টাম মেকানিক্সের বিধান মতে বিশ্বভ্রক্ষান্ডে এনার্জী সব সময় সমান থাকবে। একে কখনো তৈরী বা ধ্বংস করা যাবে না। আর এজন্যই হকিং এর থিওরি নতুন এক প্রশ্নের সৃষ্টি করে যাকে বলা হয় Black Hole Information Paradox. তাহলে এর সমাধান কি?
এই সমস্যা সমাধানের প্রেক্ষিতে সম্প্রতি হকিং নতুন এক তত্ত্ব প্রদান করেন। তার মতে, যেসব তথ্য ব্ল্যাক হোলের ভিতরে হারিয়ে যায় তার কোন কিছুই এর কেন্দ্রে অবস্থান করে না বরং অবস্থান করে তার Event Horizon এর মধ্যে। তার মতে, এই তথ্য গুলো সংরক্ষিত হয় হলোগ্রামের আকারে। একে বলা হয় Holographic Principle. এই তত্ত্ব মতে, ত্রিমাত্রিক কোন বস্তুর ভিতরের প্রত্যেকটা তথ্য, দ্বিমাত্রিক তথ্য হিসেবে সংরক্ষন করা সম্ভব যার মানে হচ্ছে যে তথ্য গুলো হারিয়ে যাছে না বরং অন্য অবস্থায় রুপান্তরিত হয়ে যাচ্ছে। তবে বিজ্ঞানীরা এখনো খুঁজে বের করতে পারেননি যে কিভাবে ওই তত্ত্ব ব্ল্যাক হোলের Event Horizon থেকে বেরিয়ে আসতে পারে। আমরা হকিং এর পরবর্তি গবেষণা গুলোর জন্য অপেক্ষা করি আর দেখি তিনি এই সমস্যার যুক্তিযুক্ত কোন সমাধান বের করতে পারেন কিনা।
সুত্র ঃ রচনা-- MK , MAMUN KHANDAKER ,

Friday, 4 March 2016

ঘুমনোর দায় পরেছে

শহরে এখন নিস্তব্ধতার মেঘ জমেছে,
আকাশ ও তারা নিভিয়ে ঘুমিয়ে পরেছে,
আমার ও ঘুমানোর সময় হয়েছে,
ঘুম না আসলে দোষটা তোমার,
অন্য কারো দোষ দেয়ার দায় সেরেছে, 
ঘুম না আসলে স্বপ্ন দেখো ,
তোমার ঘুমনোর দায় পরেছে ।

Thursday, 3 March 2016

নতুন আতংকঃ জিকা ভাইরাস

সুদূর অতীত থেকেই প্রকৃতি মানুষের জীবনকে প্রাণপাচুর্যে পরিপূর্ণ করে রেখেছে। মানুষ আর প্রকৃতি এক অটুট বন্ধনে আবদ্ধ তাই মানুষের উপর প্রকৃতির ঋণাত্মক প্রভাব ও হয় খুব ভয়ংকর। প্লেগ, কলেরা, বসন্তের মতোন দুর্যোগগুলো মানব সম্প্রদায়কে যে বিপর্যয়ের সম্মুখীন করেছিল জিকা ভাইরাস যেন তার স্মৃতি মনে করিয়ে দিতেই নতুন এক আতংকের নাম হিসেবে পদার্পণ করেছে পৃথিবীর বুকে।

জিকা ভাইরাস কী?



জিকা ইনফেকশন রোগটি আমাদের অতি পরিচিত ডেংগু রোগের মতোন আর ছড়ায় ও এডিস মশার মাধ্যমেই। আজকাল এই রোগের কথা সংবাদমাধ্যমে, টিভি মিডিয়ায় প্রচুর পরিমাণে শোনা গেলেও এমন কিন্তু না যে এই রোগের উৎপত্তি হয়েছে কিছুদিনের মধ্যেই। ১৯৪৭ সালের উগাণ্ডার জিকা ফরেস্টে এই রোগ সর্বপ্রথম রেসাস বানরের মধ্যে থেকে মশাদের শরীরে ছড়ায়। সর্বপ্রথম এই রোগে আক্রান্ত মানুষের সন্ধান পাওয়া যায় ১৯৪৮ সালে নাইজেরিয়ায়। আফ্রিকায় এই রোগ কিছু কিছু সময় দেখতে পাওয়া গেলেও পশ্চিমাবিশ্বে এর প্রাদুর্ভাব শুরু হয় গত মে মাস থেকে। এখন পর্যন্ত এই ভাইরাস কোন সুদুরপ্রসারী ক্ষতির চিহ্ন নিয়ে আসেনি আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে, কিন্তু গর্ভবতী মহিলাদের জন্য এই রোগ মহামারীর থেকেও বেশি ভয়ানক। কেন? সেই কথায় আসছি কিছুক্ষণ পরে।

জিকা ভাইরাস কীভাবে ছড়ায়?

কিছুদিন ধরে এই যে বারবার শুনছেন জিকা ভাইরাস! জিকা ভাইরাস! কিন্তু এই রোগ থেকে বাঁচতে হলে আগে আপনাকে জানতে হবে যে এই রোগ ছড়ায় কীভাবে? জিকা ভাইরাস ছড়ায় মশার মাধ্যমে, তবে সব ধরনের মশা না এডিস জেনাসের মশাই এই রোগের জন্য দায়ী। এই মশা যেমন একটি বড়সড় পুলের মধ্যে বিস্তার লাভ করতে পারে ঠিক একইভাবে একটি বোতলের মুখের মধ্যে রাখা পানির মধ্যেও বংশ বিস্তার পারে। এডিস মশা সাধারণত দিনে কামড়ায়। এদের গোত্রের সবথেকে ভয়াবহ সদস্য হলো এডিস এজিপ্টি যারা জিকা রোগের প্রধান বাহক। এদের বিচরণ আমেরিকায় শুধুমাত্র ফ্লোরিডা, গালফ কোস্ট আর হাওয়াই এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ। তবে খুব গরমের সময় এদের ওয়য়াশিংটন এও দেখা যায়।

এশিয়ার টাইগার মশা এডিস এল্বোপিকটাস ও এই রোগ ছড়ায় কিন্তু পরিসরে এজিপ্টির থেকে কম। এদের শিকাগো আর নিউইয়র্কে গ্রীস্মকালে আনাগোনা বাড়ে।

এইসব মশা যখন কোন আক্রান্ত মানুষকে কামড়ায় তখন সে রোগীর কাছ থেকে এই ভাইরাসে সংক্রমিত হয়। পরবর্তীতে সংক্রমিত মশা সুস্থ মানুষকে কামড়ালে সে আবার জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যায়।

জিকা ভাইরাস এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় কিছু প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। চলুন এই প্রশ্নের জটগুলো খোলার চেষ্টা করে দেখি।

১। জিকা ভাইরাস কি মায়ের শরীর থেকে সন্তানের শরীরে ছড়ায়?




এখন পর্যন্ত এক কথায় উত্তর হলো, হ্যাঁ! সন্তান প্রসবের পূর্ব মুহূর্তে মায়ের শরীর থেকে সন্তানের শরীরে এই রোগ প্রবেশ করতে পারে। মাইক্রোফেলি নামক ভয়ংকর ধরনের এক জন্মগত ত্রুটি নিয়ে অনেক শিশু জন্ম নেয়ার রিপোর্ট পাওয়া গেছে সম্প্রতি। এই রোগাক্রান্ত শিশুদের মাথা অন্যান্য স্বাভাবিক শিশুদের তুলনায় ছোট আর এইসমস্ত শিশুদের মায়েরা গর্ভকালীন সময়ে জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত ছিল। মাইক্রোফেলি রোগে যেসব শিশুরা আক্রান্ত হয় এদের মধ্যে সৌভাগ্যবান ১৫% থাকে যাদের শুধু মাথাটাই ছোট হয়, কিন্তু অভাগা বাকি ৮৫% শিশুর মস্তিষ্কের উপর মাইক্রোফেলি ভয়াবহ প্রভাব ফেলে। অনেক ক্ষেত্রে এদের বৃদ্ধি ঠিকমত হয়না এবং এরা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী হয়। জিকা ভাইরাস আর অদ্ভুত এই সমস্যার একদম ঠিক ঠিক যোগসূত্র টা যে কোথায় তা এখনও আবিষ্কৃত না হলেও বিশেষজ্ঞগণ গর্ভবতী মায়েদের এই ব্যপারে সতর্ক থাকতে বলেছেন। ব্রাজিলে এই রোগে আক্রান্ত প্রায় ৪০০০ শিশুর রিপোর্ট পাওয়া গেছে এবং এর মধ্যে ৩৮ জন মারা গেছে। 

এমনকি ব্রাজিল, কলম্বিয়া, ইকুয়েডর, এল স্যল্ভাডোর এ আপাতত সন্তান ধারণ না করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

২। রক্ত বা সিমেন কি জিকা ভাইরাস বহন করে?

এতক্ষণ জিকা ভাইরাস নিয়ে এত কিছু পড়ে নিশ্চয়ই বুঝে গেছেন বাতাসে উড়ে এই রোগ আপনার শরীরে ঢুকে আপনাকে অসুস্থ বানিয়ে দেবে না। জিকা ভাইরাস সংক্রমণের জন্য অবশ্যই একটি বাহক লাগবে। আর এই রোগের মূল বাহক হলো মশা। সম্প্রতি মানুষের রক্ত আর সিমেনেও এর উপস্থিতি পাওয়া গেছে। রক্ত নেয়া বা শারীরিক সম্পর্কের ফলে এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে এমন রোগীর রিপোর্ট পাওয়া গেলেও সংখ্যায় তা অতি নগণ্য। আবার ভেবে দেখুন যদি রক্ত এই রোগ আসলেই ছড়াতো তাহলে রোগীকে কামড়ালে যেকোন ধরনের মশাই এই রোগে আক্রান্ত হয়ে যেতো। কি, ঠিক তো? কিন্তু এমনটি কিন্তু হচ্ছেনা। তাই আপাতত সঠিকভাবে এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া না গেলেও সাবধানতা অবলম্বন করতে তো মানা নেই। 

৩। জিকা ভাইরাস কী জিবিএস এর জন্ম দেয়?
জিবিএস বা গ্যলিয়্যান ব্যরে সিন্ড্রোম নামের এক বিশেষ ধরনের রোগ আছে যা মানুষের রোগ প্রতিরোধ সিস্টেমকেই শরীরের বিরুদ্ধে লাগিয়ে দেয়। তখন এরা রোগজীবাণু ধ্বংস করা বাদ দিয়ে আপনার স্নায়ুকোষগুলোকে ধবংস করা শুরু করে। এর ফলে মাংসপেশির দূর্বলতা এমনকি কোন কোন ক্ষেত্রে প্যারালাইসিস ও দেখা যায়। সাধারণত এর প্রভাব কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত থাকে। তবে অল্প কিছু ক্ষেত্রে দেখা গেছ এ মানুষ এর প্রভাব সারাজীবন বয়ে নিয়ে বেড়ায় এমনকি এতে মৃত্যুও হতে পারে। আসলে জিকা নাকি অন্যান্য কোন নির্দিষ্ট ভাইরাস এই রোগের উৎপত্তি ঘটায় কি না তা এখনও বলা সম্ভব হয়নি। তবে জিকা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বাড়ার সাথে সাথে ব্রাজিলে জিবিএস ও তীব্র আকারে বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই গবেষকরা মাথা চুল্কাতে বসে গেছেন আসলেই কি জিকা ভাইরাস টেনে আনছে জিবিএস এর মতোন মারাত্মক রোগকেও।

জিকা ভাইরাসে আক্রান্তের লক্ষ্মণ?



জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত প্রতি পাঁচ জনের একজন মানুষের মধ্যে অসুস্থতার লক্ষ্মণ দেখা যায়। কিছু সাধারণ লক্ষ্মণের মধ্যে আছে জ্বর, শরীরে র‍্যাশের সৃষ্টি, হাড়ের সংযোগস্থলে ব্যথার অনুভূতি, কংজাংক্টিভাইটিস (চোখ ওঠা)। এছাড়াও এই সময় মাথাব্যথা আর মাংসপেশীতে প্রচণ্ড ব্যথা হয়। জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত হবার সাথে সাথেই কিন্তু এইসব উপসর্গ দেখা যায় না। বেশ কয়েক দিন বা সপ্তাহ পর রোগীর মধ্যে এই লক্ষ্মণগুলো দেখা যেতে থাকে। 

জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে অসুস্থতা বড়জোর কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত থাকতে পারে। হাসপাতালে যাবার মতোন অবস্থাও কিন্তু তৈরী হয়না। এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর পরিমাণ খুবই নগণ্য। আপনার অসুস্থতা কমে গেলেও রক্তের মধ্যে এই ভাইরাস কয়েক মাস থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত তার উপস্থিতি জানান দিতে পারে।

র‍্যাশ ওঠার কারণে অনেকেই এই অসুখটিকে ডেংগু বা হামের সাথে গুলিয়ে ফেলতে পারে। তাই সঠিকভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে রোগ নির্ণয় অত্যন্ত জরুরী।

প্রতিরোধ আর প্রতিকারঃ কীভাবে রক্ষা করবো নিজেদের?



জিকা ভাইরাস আপাতদৃষ্টিতে খুব ভয়ংকর না হলেও এর ক্ষতিকর দিক কিন্তু অনেক। এখন পর্যন্ত এই রোগের নির্দিষ্ট কোন প্রতিষেধক আবিষ্কৃত হয়নি, কিন্তু তাই বলে আমরা তো আর হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকতে পারি না। এভাবে ভাবতেও পারি না যে মশা তো কামড়াবেই, এই রোগ হয়ে গেলে আর কী করার। যেহেতু এডিস মশা যেকোন জায়গায় জমে থাকা পানিতে জন্ম নেয় তাই আশেপাশের কোথাও যেন পানি জমে না থাকে সেদিকে খেয়াল করতে হবে। এরা দিনের বেলাতেই আপনাকে আক্রমণের শিকার করবে তাই দিনের বেলা ঘুমালেও মশারী টানাতে ভুলবেন না। খেয়াল রাখবেন যে, কোন মশা যেন আপনাকে না কামড়ায়। জানালার চারিদিকে আলাদা করে এমন জালিকা স্থাপন করতে পারেন যাতে মশা ঘরে না ঢুকতে পারে। যেকোন রোগে আক্রান্ত হবার আগেই সবথেকে ভাল উপায় হলো নিজেকে সতর্ক রাখা। 

এলাকার মানুষজন মিলে কিছুদিন পরপর বিভিন্ন কীটনাশক দূরীকরণের স্প্রে প্রয়োগ একটি ভাল উদ্যোগ। তবে ঝুকি আছে এমন এলাকায় যদি আপনি ভ্রমণ করতে চান তাহলে অবশ্যই বাড়তি সতর্কতা অত্যন্ত জরুরী।

জিকা ভাইরাসের প্রতিষেধকঃ
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, জিকা ভাইরাসের প্রতিষেধক আমাদের হাতে নাগালে আসতে আসতে পার হয়ে যাবে আরও দেড় বছর। প্রায় ১৫টি প্রতিষ্ঠান এই দৌড়ে সামিল হয়ে থাকলেও তাদের কাজ একদমই প্রাথমিক পর্যায়ে। জেনেভার এক কনফারেন্সে এই সংস্থার মুখপাত্র জানান এখনই তারা প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম প্রকাশে রাজি নয়। ইউএসএ তে খুব শীঘ্রই এর পরীক্ষামূলক কাজ শুরু হলেও তা পুরোপুরি স্বীকৃত হয়ে মানুষের নাগালে পৌঁছাতে অপেক্ষা করতে হবে আরও অনেকটা সময়।

বাংলাদেশ এবং জিকা ভাইরাসঃ আমরা কি হুমকির মুখে?


জিকা ভাইরাসের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে আমরা সবাই-ই অবগত। বাংলাদেশে কি এই রোগে আক্রান্ত হবার কোন সম্ভাবনা আছে- চিন্তার বিষয় এই একটাই। প্রতিষেধকবিহীন এই রোগ খুব দ্রুত বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ছে, তাই আমরা যে একেবারে হুমকির সম্মুখে না, তা বলা যায় না। তবে আশার বিষয় এই যে দক্ষিণ এশিয়াতে এখন পর্যন্ত জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত খুব বেশী রোগীর খবর পাওয়া যায়নি। তাই আশা করা যায় যে আমাদের সেই খারাপ দিন দেখার সম্ভাবনা আপাতত নেই বললেই চলে যখন ফুটফুটে একটি শিশুকে অপরিণত মস্তিষ্ক আর ছোট্ট একট মাথা নিয়ে চলাচল করতে দেখতে হবে।

জিকা ভাইরাসের গোপন নথি!



এতক্ষণ যা বললাম তা নিত্যদিনের খবর হয়ে গেছে। কিন্তু আপনার আমার জানার বাইরেও কিছু খবর আছে, যা হয়ত ইচ্ছে করেই রাখা হচ্ছে সবার অগোচরে। আচ্ছা উপরে যা কিছু পড়েছেন তারপর আপনার কি মনে হচ্ছে জিকা ভাইরাস আসলেই এতটা ভয় পাবার মতোন কিছু যতটা একে নিয়ে পশ্চিমা বিশ্ব মেতে উঠেছে?

বিল গেটস-মেলিণ্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের নাম নিশ্চয় সবাই শুনেছেন। এই ফাউণ্ডেশনের ব্রিটিশ বায়োটেক কোম্পানি ডেংগু মশার প্রাদুর্ভাব থেকে মানুষকে বাঁচানোর জন্য বিশেষ ধরনের জেনেটিকালি ইঞ্জিনিয়ার্ড বিশেষ এক ধরনের মশার সৃষ্টি করে। ধারণা করা হচ্ছে মানবসৃষ্ট এই বিশেষ ধরনের মশাই আসলে জিকা ভাইরাস ছড়ানোর জন্য দায়ী। হ্যাঁ ঠিকই শুনছেন যে ভাইরাস মানুষের জীবনে আতংক বয়ে নিয়ে এসেছে, যে রোগ নিয়ে নিত্যদিন মিডিয়া এই পরিমাণে মেতে উঠেছে তা প্রাকৃতিক কোন রোগ নয়!

২০১১ সাল থেকে অক্সিটেক নামের এই কোম্পানি ব্রাজিলের গহীন অরণ্যে এই মশার বংশবিস্তার করে চলেছে ডেংগু মশার প্রাদুর্ভাব থেকে মানুষকে রক্ষার জন্য। এক সপ্তাহে তারা প্রায় দুই মিলিয়ন মশা উৎপাদন করে ব্রাজিলের ক্যম্পিনাস এ অবস্থিত এদের ফ্যাক্টরীতে।

আচ্ছা এবার একটু অন্য হিসেবে আসি। ২০১৫ এর ১ নভেম্বর থেকে প্রায় ৪০০০ শিশু এই ছোট্ট মস্তিষ্ক নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছে। সাধারণত ব্রাজিলে প্রতিবছর এরকম ১৫০ জন শিশু জন্মগ্রহণ করে। এনবিসি নিউজের নতুন রিপোর্ট অনুযায়ী এই ৪০০০ জন শিশুর এই সংখ্যা প্রকাশ সরকারের এক ধরনের বাহুল্য।

কিন্তু কথা হলো কেন-ই বা মানুষের মধ্যে এই আতংক ছড়ানো। যেখানে জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত ৫ জন রোগীর মাত্র একজনের সামান্য জ্বরবোধ হয় আর বাকি চারজন তো জানতেই পারে না যে তারা এই রোগে আক্রান্ত হয়েছিলো। আর এই জিকা ভাইরাসের ঘাড়েই কিনা এতগুলো শিশুর জীবন নষ্টের দায়ভার চাপিয়ে দেয়া হলো উপযুক্ত প্রমাণ ছাড়াই।



আরেকটি রহস্যময় তথ্য জেনে নিন, ২০১৫ সাল থেকে ব্রাজিল সরকার গর্ভবতী মায়েদের একটি নতুন ভ্যক্সিন নেয়া অত্যাবশ্যক করেন। টিডিএপি নামক এই ভ্যাক্সিনের সঠিকভাবে কোন পরীক্ষা ছাড়াই হঠাত এভাবে আবশ্যকীয় করে দেয়া আর ঠিক একই সময়ে এরকম অদ্ভুত শিশু জন্মের হার হুহু করে বেড়ে যাওয়াটা আসলে কাকতালীয় ঘটনা থেকে একটু বেশি কিছুই বলে মনে হয়। এই ভ্যক্সিন এর উৎপত্তিস্থল সম্পর্কে একটু খোজ নিতে শুরু করলেই একটি নাম আবার সামনে পেয়ে যাবেন- বিল গেটস-মেলিণ্ডা গেটস ফাউণ্ডেশন। এমনকি এই ভ্যক্সিন লাইসেন্সড হবার আগে তার কার্যকারিতা সম্পর্কে অর্থাৎ গর্ভবতী মায়ের শরীরে গিয়ে আসলেই কাজ করে কি না সেই ব্যাপারে পরীক্ষা করার কোন নথিপত্র ও পাওয়া যায়নি।

একটু যদি অন্যভাবে ব্যাপারটা নিয়ে ভেবে দেখি তাহলে কি এটাই মনে হয় না জন্মগত এই ত্রুটি আর জিকা ভাইরাসকে একই সময়ে সামনে আনা হয়েছে? ব্রাজিল-ই বা কেন আমেরিকা থেকে মন একটি ভ্যক্সিন কিনে তার দেশে অত্যাবশ্যক করে দিলো যার কোন নির্দিষ্ট পরীক্ষার ইতিহাস নেই, নাকি এজন্য তারা উপযুক্ত পরিমাণে পকেট গরম করার সুযোগ পেয়েছে। এখন আবার আমেরিকা জিকা ভাইরাসের প্রতিষেধক এর পিছে ছুটছে। চেষ্টা করে দেখুন তো এমনই কোন ঘটনার কথা স্মৃতিতে আসে কি না? হ্যাঁ একইভাবে মিডিয়া ইবোলা ভাইরাস নিয়েও মানুষের মনে আতংক সৃষ্টি করেছিল।

যেমনটি আগেই বলেছি অনেক দেশে গর্ভধারণ এরই মধ্যে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, সবকিছু মিলিয়ে মনে হচ্ছে আসলেই বিল গেটস এর জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ এজেণ্ডা বাস্তবায়িত হচ্ছে। সম্প্রতি মাত্র একজন মানুষের সিমেনে এই ভাইরাসের উপস্থিতি টের পাওয়ার সাথে সাথেই একে সেক্সুয়ালি ট্রান্সমিটেড অর্থাৎ শারীরিক সম্পর্কের মাধ্যমে ছড়ানো রোগের কাতারে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে মানবমনে শারীরিক সম্পর্ক এবং সন্তান ধারণের প্রতি আতংকের সৃষ্টি হচ্ছে। ২০০৩ সাল থেকেই বিল গেটস জোরপূর্বক ভ্যক্সিনাইজেশন করে জন্মনিয়ন্ত্রণের সপক্ষে কথা বলেছেন।

তবে এই রহস্যের কুলকিনারা এতো সহজে সম্ভব নয়। বিশ্বের বড় বড় ব্যক্তিত্বের বিপক্ষে বা সপক্ষে কথা বলার মানুষের অভাব কখনোই ছিলো না। তাই আমরা শুধু আপনাদের চলতি বিশ্বের পরিস্থিতির কাছাকাছিই নিয়ে যেতে পারি। সত্য-মিথ্যা জানার জন্য আমাদের হয়ত অপেক্ষা করতে হবে আরও বেশ কিছুটা সময়। কিন্তু উন্নত বিশ্বের অনেক ঘটনার সুরাহা যে আমাদের কান পর্যন্ত আসেনা- এ নতুন কিছু নয়। তাই আপাতত এসব কোন্দলে না পড়ে আমরা নিজেদের ও নিজ নিজ সন্তানদের নিরাপত্তা প্রদানের দিকেই বেশি মনোযোগী হই। আশা করি বিশ্বে বিরাজমান এই জিকা ভাইরাস আতংক আমাদের দ্বারপ্রান্তে এসে কখনোই হানা দেবে না।
উৎসঃ
ফারজানা অনন্যা (টপিক)
http://www.cdc.gov/zika/
http://www.trinfinity8.com/