মৃত্যু একটি চরম বাস্তবতা, এই মৃত্যু বাস্তবতাকে উপেক্ষা করতে না পেরে মানুষ কল্পনা করেছে ঈশ্বর, আত্মা, স্বর্গ, নরক প্রভৃতি। আমি জানি ওগুলো কল্পনা মাত্র, যারা কল্পনা করছে তারাও আমার মতোই মানুষ। আমি বিপরীত কিছু কল্পনা করেও সুখ পাই না। তাহলে কি অন্য কিছু নিয়ে ব্যাস্ত থাকবো? কিন্তু বাড়ি, গাড়ি, নারী, টাকা, সম্পত্তি, দর্শন, বিজ্ঞান, ধর্ম সবকিছুই তো ঐ মৃত্যুতে পরিসমাপ্তি ঘটবে।
.
তাহলে বেঁচে থাকার অর্থ কি? বেঁচে থাকা কি চরম অর্থহীনতা আর নিরন্তর বেঁচে থাকার সংগ্রাম কি অর্থহীনতার মধ্যে অর্থ অন্বেষণের বৃথা প্রচেষ্টা? হয়তো তাই। এই দুনিয়ায় মানুষ একটা ঘোরের মধ্যে থাকে। এখানে কেউ আস্তিকতা, নাস্তিকতা, রাজনীতি, পেটনীতি, নারী, দর্শন, বিজ্ঞান, ঈশ্বর, রবীন্দ্রনাথ, ওস্তাদ আমীর খান, সানি লিওন, অফিসের বস, ভালোবাসার মানুষ, বৈবাহিক জীবন, ফেসবুক, ব্লগসহ অসংখ্য আগ্রহের জিনিষ নিয়ে টাইম পাস করে। কিন্তু মৃত্যুর কথা তারা ভাবে না কিভাবে? ভেবেই বা কি হবে?
.
আচ্ছা মৃত্যুর পরে কি হবে? কেউ বলে কর্মফল অনুযায়ী টিকটিকি, তেলাপোকা বা ব্রাহ্মণ সন্তান হয়ে জন্ম নিবে, এই ভাবে জন্ম নিতে নিতে নিতে নিতে এক সময় ভগবানের সাথে মিলে যাবে। কেউ বলে কবরে বসে শাস্তি হবে এরপর কবর থেকে উঠিয়ে বিচারক বিচার করবে। কেউ বলে সরাসরি আত্মাটা ঈশ্বরের সাথে মিশে যাবে। জানি এগুলো তাদের কল্পনা, যার মাধ্যমে তারা তাদের ধর্মীয় বৃত্তের মধ্যে চিত্তের সুখ অন্বেষণ করে। কিন্তু আমার চিত্ত যে অনশন করে আছে!
.
চিত্তকে বুঝাই আরে ব্যাটা ঘোড়ার ডিম হবে, মাটির সাথে মিশে যাবো। কিন্তু চিত্ত যে মানে না - এতো প্রেমিকার সাথে মিলনের জন্য ছটফট করা চিত্ত নয়, এ তো বড়োলোক হবার স্বপ্নে বিভোর চিত্ত নয় যে মিলন হলে বা লটারি পেলেই সমাধান হয়ে যাবে, এ তো পিথাগোরাসের উপপাদ্য নয় যে কাঞ্চন স্যারের কাছে গেলে বুঝিয়ে দিবে, এ তো মার্কসের দর্শন নয় যে হারুন স্যারের কাছে গেলে জানতে পারবো, এতো প্লেটোর রিপাবলিক নয় যে আমিনুল ইসলাম স্যারের কাছে গেলে বুঝে যাবো, এতো কোরআন হাদিস নয় যে হুজুরের কাছে যেয়ে বুঝবো, এতো বাইবেল গীতা নয় যে ফাদার বা পুরোহিতের কাছে যেয়ে বুঝবো। এ যে মৃত্যুদর্শন যা একমাত্র যারা মরেছে তারাই হয়তো জানে।
.
মৃত্যুদর্শন একবার যার মাথায় ঢুকে সে সম্ভবত আর স্বাভাবিক থাকতে পারে না। কি হবে এতো টাকা পয়সা করে, মৃত্যুই তো সব শেষ হবে। কি হবে এতো বই পড়ে, সাহিত্য রচনা করে, জনপ্রিয় হয়ে, দর্শনচর্চা করে, বিজ্ঞানচর্চা করে, সংগঠন করে, রাজনীতি করে? রবীন্দ্রনাথকে আজ কোটি কোটি মানুষ মনেপ্রাণে শ্রদ্ধা করে তাতে রবীন্দ্রনাথের কি আসা যায়? মৃত্যুদর্শন মানুষকে অহিংস করে, অনেক সময় মানুষকে নিষ্ক্রিয় করে। কি লাভ একজন মানুষকে ঠকিয়ে ২ টা পয়সা বেশী নিয়ে, কি লাভ একজন মানুষকে হত্যা করে, কি লাভ ভালোবেসে, কি লাভ যৌনকর্মে, কি লাভ পার্থিব ক্রিয়াকর্মে?
.
কোন লাভ নাই বেটা আছিস কেন? মর। মাঝের মধ্যে সত্যিই আত্মহত্যা করতে ইচ্ছা করে। না প্রেমে স্যাকা খেয়ে, টাকা পয়সার ঝামেলায়, কোন অনুশোচনায় আত্মহত্যা করা নয়। এক্সপেরিমেন্ট করার জন্য আত্মহত্যা করতে ইচ্ছা করে, মরার পরে কি হয় তা জানতে বড়ই ইচ্ছা করে। কিন্তু এক্সপেরিমেন্ট করতে যেয়ে আমিই যে এক্সপায়ার হয়ে যাবো? আমি তো আর এতো সুন্দর পৃথিবীতে আসতে পারবো না, আমি তো মায়ের হাতের রান্না খেতে পারবো না, আমি তো প্রেমিকার চোখের কান্না থামাতে পারবো না, আমি তো উত্থাল যৌবনে আর টালমাতাল হতে পারবো না, আমি তো আমার অনুভুতি ও চিন্তাগুলো কারো সাথে শেয়ার করতে পারবো না, আমি তো জীবনানন্দের কবিতা পড়তে পারবো না, আমি তো নিটসের দর্শন পড়তে পারবো না, আমি তো Sagar Hossain , তাহসিব হাসান, Khan Asad,Shipra এর মতো প্রিয় মানুষদের সান্নিধ্য পাবো না।
.
এই মৃত্যুদর্শন বড়বেশী আমিত্ববাদী, সে নিজেকে ভালবাসতে শিখায়। কিন্তু কোন সমাধান দিতে পারে না। সবার মধ্যে এ মৃত্যুদর্শন ভর করে না, মৃত্যুর কথা চিন্তা করলে বেশীরভাগ মানুষ বড়োজোর তাদের গণ্ডীর মধ্যে নামাজ, রোজা, পুজা করে কাল্পনিক কোন খুঁটিকে আঁকড়ে ধরে সান্ত্বনা লাভ করে। কিন্তু আমি যে ঐ সান্ত্বনার বাইরে! কোন পীর, মুর্শিদ, আল্লাহ্, হরি কারো মাধ্যমে তো আমার মুক্তি, মোক্ষ, নির্বাণ, স্যালভেশন, নাজাত, ফানাহ, বাকাহ হবে না, তাহলে আমি কি করবো? এতো সুন্দর জীবনের পরে কি আর কিছু আছে? না থাকলে এভাবেই অনন্তকালের জন্য নিঃশেষ হয়ে যাবো? এ এক সেকুলার মানুষের চরম আধ্যাত্মিকতা, যে আধ্যাত্মিকতায় যৌবনে বসেই আমি আক্রান্ত হয়ে পাগল প্রায়, জানি না বৃদ্ধ হলে কি হবে।
পোষ্টঃনিলয় নীল
.
তাহলে বেঁচে থাকার অর্থ কি? বেঁচে থাকা কি চরম অর্থহীনতা আর নিরন্তর বেঁচে থাকার সংগ্রাম কি অর্থহীনতার মধ্যে অর্থ অন্বেষণের বৃথা প্রচেষ্টা? হয়তো তাই। এই দুনিয়ায় মানুষ একটা ঘোরের মধ্যে থাকে। এখানে কেউ আস্তিকতা, নাস্তিকতা, রাজনীতি, পেটনীতি, নারী, দর্শন, বিজ্ঞান, ঈশ্বর, রবীন্দ্রনাথ, ওস্তাদ আমীর খান, সানি লিওন, অফিসের বস, ভালোবাসার মানুষ, বৈবাহিক জীবন, ফেসবুক, ব্লগসহ অসংখ্য আগ্রহের জিনিষ নিয়ে টাইম পাস করে। কিন্তু মৃত্যুর কথা তারা ভাবে না কিভাবে? ভেবেই বা কি হবে?
.
আচ্ছা মৃত্যুর পরে কি হবে? কেউ বলে কর্মফল অনুযায়ী টিকটিকি, তেলাপোকা বা ব্রাহ্মণ সন্তান হয়ে জন্ম নিবে, এই ভাবে জন্ম নিতে নিতে নিতে নিতে এক সময় ভগবানের সাথে মিলে যাবে। কেউ বলে কবরে বসে শাস্তি হবে এরপর কবর থেকে উঠিয়ে বিচারক বিচার করবে। কেউ বলে সরাসরি আত্মাটা ঈশ্বরের সাথে মিশে যাবে। জানি এগুলো তাদের কল্পনা, যার মাধ্যমে তারা তাদের ধর্মীয় বৃত্তের মধ্যে চিত্তের সুখ অন্বেষণ করে। কিন্তু আমার চিত্ত যে অনশন করে আছে!
.
চিত্তকে বুঝাই আরে ব্যাটা ঘোড়ার ডিম হবে, মাটির সাথে মিশে যাবো। কিন্তু চিত্ত যে মানে না - এতো প্রেমিকার সাথে মিলনের জন্য ছটফট করা চিত্ত নয়, এ তো বড়োলোক হবার স্বপ্নে বিভোর চিত্ত নয় যে মিলন হলে বা লটারি পেলেই সমাধান হয়ে যাবে, এ তো পিথাগোরাসের উপপাদ্য নয় যে কাঞ্চন স্যারের কাছে গেলে বুঝিয়ে দিবে, এ তো মার্কসের দর্শন নয় যে হারুন স্যারের কাছে গেলে জানতে পারবো, এতো প্লেটোর রিপাবলিক নয় যে আমিনুল ইসলাম স্যারের কাছে গেলে বুঝে যাবো, এতো কোরআন হাদিস নয় যে হুজুরের কাছে যেয়ে বুঝবো, এতো বাইবেল গীতা নয় যে ফাদার বা পুরোহিতের কাছে যেয়ে বুঝবো। এ যে মৃত্যুদর্শন যা একমাত্র যারা মরেছে তারাই হয়তো জানে।
.
মৃত্যুদর্শন একবার যার মাথায় ঢুকে সে সম্ভবত আর স্বাভাবিক থাকতে পারে না। কি হবে এতো টাকা পয়সা করে, মৃত্যুই তো সব শেষ হবে। কি হবে এতো বই পড়ে, সাহিত্য রচনা করে, জনপ্রিয় হয়ে, দর্শনচর্চা করে, বিজ্ঞানচর্চা করে, সংগঠন করে, রাজনীতি করে? রবীন্দ্রনাথকে আজ কোটি কোটি মানুষ মনেপ্রাণে শ্রদ্ধা করে তাতে রবীন্দ্রনাথের কি আসা যায়? মৃত্যুদর্শন মানুষকে অহিংস করে, অনেক সময় মানুষকে নিষ্ক্রিয় করে। কি লাভ একজন মানুষকে ঠকিয়ে ২ টা পয়সা বেশী নিয়ে, কি লাভ একজন মানুষকে হত্যা করে, কি লাভ ভালোবেসে, কি লাভ যৌনকর্মে, কি লাভ পার্থিব ক্রিয়াকর্মে?
.
কোন লাভ নাই বেটা আছিস কেন? মর। মাঝের মধ্যে সত্যিই আত্মহত্যা করতে ইচ্ছা করে। না প্রেমে স্যাকা খেয়ে, টাকা পয়সার ঝামেলায়, কোন অনুশোচনায় আত্মহত্যা করা নয়। এক্সপেরিমেন্ট করার জন্য আত্মহত্যা করতে ইচ্ছা করে, মরার পরে কি হয় তা জানতে বড়ই ইচ্ছা করে। কিন্তু এক্সপেরিমেন্ট করতে যেয়ে আমিই যে এক্সপায়ার হয়ে যাবো? আমি তো আর এতো সুন্দর পৃথিবীতে আসতে পারবো না, আমি তো মায়ের হাতের রান্না খেতে পারবো না, আমি তো প্রেমিকার চোখের কান্না থামাতে পারবো না, আমি তো উত্থাল যৌবনে আর টালমাতাল হতে পারবো না, আমি তো আমার অনুভুতি ও চিন্তাগুলো কারো সাথে শেয়ার করতে পারবো না, আমি তো জীবনানন্দের কবিতা পড়তে পারবো না, আমি তো নিটসের দর্শন পড়তে পারবো না, আমি তো Sagar Hossain , তাহসিব হাসান, Khan Asad,Shipra এর মতো প্রিয় মানুষদের সান্নিধ্য পাবো না।
.
এই মৃত্যুদর্শন বড়বেশী আমিত্ববাদী, সে নিজেকে ভালবাসতে শিখায়। কিন্তু কোন সমাধান দিতে পারে না। সবার মধ্যে এ মৃত্যুদর্শন ভর করে না, মৃত্যুর কথা চিন্তা করলে বেশীরভাগ মানুষ বড়োজোর তাদের গণ্ডীর মধ্যে নামাজ, রোজা, পুজা করে কাল্পনিক কোন খুঁটিকে আঁকড়ে ধরে সান্ত্বনা লাভ করে। কিন্তু আমি যে ঐ সান্ত্বনার বাইরে! কোন পীর, মুর্শিদ, আল্লাহ্, হরি কারো মাধ্যমে তো আমার মুক্তি, মোক্ষ, নির্বাণ, স্যালভেশন, নাজাত, ফানাহ, বাকাহ হবে না, তাহলে আমি কি করবো? এতো সুন্দর জীবনের পরে কি আর কিছু আছে? না থাকলে এভাবেই অনন্তকালের জন্য নিঃশেষ হয়ে যাবো? এ এক সেকুলার মানুষের চরম আধ্যাত্মিকতা, যে আধ্যাত্মিকতায় যৌবনে বসেই আমি আক্রান্ত হয়ে পাগল প্রায়, জানি না বৃদ্ধ হলে কি হবে।
পোষ্টঃনিলয় নীল
No comments:
Post a Comment