সুদূর অতীত থেকেই প্রকৃতি মানুষের জীবনকে প্রাণপাচুর্যে পরিপূর্ণ করে রেখেছে। মানুষ আর প্রকৃতি এক অটুট বন্ধনে আবদ্ধ তাই মানুষের উপর প্রকৃতির ঋণাত্মক প্রভাব ও হয় খুব ভয়ংকর। প্লেগ, কলেরা, বসন্তের মতোন দুর্যোগগুলো মানব সম্প্রদায়কে যে বিপর্যয়ের সম্মুখীন করেছিল জিকা ভাইরাস যেন তার স্মৃতি মনে করিয়ে দিতেই নতুন এক আতংকের নাম হিসেবে পদার্পণ করেছে পৃথিবীর বুকে।
জিকা ভাইরাস কী?

জিকা ইনফেকশন রোগটি আমাদের অতি পরিচিত ডেংগু রোগের মতোন আর ছড়ায় ও এডিস মশার মাধ্যমেই। আজকাল এই রোগের কথা সংবাদমাধ্যমে, টিভি মিডিয়ায় প্রচুর পরিমাণে শোনা গেলেও এমন কিন্তু না যে এই রোগের উৎপত্তি হয়েছে কিছুদিনের মধ্যেই। ১৯৪৭ সালের উগাণ্ডার জিকা ফরেস্টে এই রোগ সর্বপ্রথম রেসাস বানরের মধ্যে থেকে মশাদের শরীরে ছড়ায়। সর্বপ্রথম এই রোগে আক্রান্ত মানুষের সন্ধান পাওয়া যায় ১৯৪৮ সালে নাইজেরিয়ায়। আফ্রিকায় এই রোগ কিছু কিছু সময় দেখতে পাওয়া গেলেও পশ্চিমাবিশ্বে এর প্রাদুর্ভাব শুরু হয় গত মে মাস থেকে। এখন পর্যন্ত এই ভাইরাস কোন সুদুরপ্রসারী ক্ষতির চিহ্ন নিয়ে আসেনি আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে, কিন্তু গর্ভবতী মহিলাদের জন্য এই রোগ মহামারীর থেকেও বেশি ভয়ানক। কেন? সেই কথায় আসছি কিছুক্ষণ পরে।
জিকা ভাইরাস কীভাবে ছড়ায়?
কিছুদিন ধরে এই যে বারবার শুনছেন জিকা ভাইরাস! জিকা ভাইরাস! কিন্তু এই রোগ থেকে বাঁচতে হলে আগে আপনাকে জানতে হবে যে এই রোগ ছড়ায় কীভাবে? জিকা ভাইরাস ছড়ায় মশার মাধ্যমে, তবে সব ধরনের মশা না এডিস জেনাসের মশাই এই রোগের জন্য দায়ী। এই মশা যেমন একটি বড়সড় পুলের মধ্যে বিস্তার লাভ করতে পারে ঠিক একইভাবে একটি বোতলের মুখের মধ্যে রাখা পানির মধ্যেও বংশ বিস্তার পারে। এডিস মশা সাধারণত দিনে কামড়ায়। এদের গোত্রের সবথেকে ভয়াবহ সদস্য হলো এডিস এজিপ্টি যারা জিকা রোগের প্রধান বাহক। এদের বিচরণ আমেরিকায় শুধুমাত্র ফ্লোরিডা, গালফ কোস্ট আর হাওয়াই এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ। তবে খুব গরমের সময় এদের ওয়য়াশিংটন এও দেখা যায়।
এশিয়ার টাইগার মশা এডিস এল্বোপিকটাস ও এই রোগ ছড়ায় কিন্তু পরিসরে এজিপ্টির থেকে কম। এদের শিকাগো আর নিউইয়র্কে গ্রীস্মকালে আনাগোনা বাড়ে।
এইসব মশা যখন কোন আক্রান্ত মানুষকে কামড়ায় তখন সে রোগীর কাছ থেকে এই ভাইরাসে সংক্রমিত হয়। পরবর্তীতে সংক্রমিত মশা সুস্থ মানুষকে কামড়ালে সে আবার জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যায়।
জিকা ভাইরাস এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় কিছু প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। চলুন এই প্রশ্নের জটগুলো খোলার চেষ্টা করে দেখি।
১। জিকা ভাইরাস কি মায়ের শরীর থেকে সন্তানের শরীরে ছড়ায়?

এখন পর্যন্ত এক কথায় উত্তর হলো, হ্যাঁ! সন্তান প্রসবের পূর্ব মুহূর্তে মায়ের শরীর থেকে সন্তানের শরীরে এই রোগ প্রবেশ করতে পারে। মাইক্রোফেলি নামক ভয়ংকর ধরনের এক জন্মগত ত্রুটি নিয়ে অনেক শিশু জন্ম নেয়ার রিপোর্ট পাওয়া গেছে সম্প্রতি। এই রোগাক্রান্ত শিশুদের মাথা অন্যান্য স্বাভাবিক শিশুদের তুলনায় ছোট আর এইসমস্ত শিশুদের মায়েরা গর্ভকালীন সময়ে জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত ছিল। মাইক্রোফেলি রোগে যেসব শিশুরা আক্রান্ত হয় এদের মধ্যে সৌভাগ্যবান ১৫% থাকে যাদের শুধু মাথাটাই ছোট হয়, কিন্তু অভাগা বাকি ৮৫% শিশুর মস্তিষ্কের উপর মাইক্রোফেলি ভয়াবহ প্রভাব ফেলে। অনেক ক্ষেত্রে এদের বৃদ্ধি ঠিকমত হয়না এবং এরা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী হয়। জিকা ভাইরাস আর অদ্ভুত এই সমস্যার একদম ঠিক ঠিক যোগসূত্র টা যে কোথায় তা এখনও আবিষ্কৃত না হলেও বিশেষজ্ঞগণ গর্ভবতী মায়েদের এই ব্যপারে সতর্ক থাকতে বলেছেন। ব্রাজিলে এই রোগে আক্রান্ত প্রায় ৪০০০ শিশুর রিপোর্ট পাওয়া গেছে এবং এর মধ্যে ৩৮ জন মারা গেছে।
এমনকি ব্রাজিল, কলম্বিয়া, ইকুয়েডর, এল স্যল্ভাডোর এ আপাতত সন্তান ধারণ না করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
২। রক্ত বা সিমেন কি জিকা ভাইরাস বহন করে?
এতক্ষণ জিকা ভাইরাস নিয়ে এত কিছু পড়ে নিশ্চয়ই বুঝে গেছেন বাতাসে উড়ে এই রোগ আপনার শরীরে ঢুকে আপনাকে অসুস্থ বানিয়ে দেবে না। জিকা ভাইরাস সংক্রমণের জন্য অবশ্যই একটি বাহক লাগবে। আর এই রোগের মূল বাহক হলো মশা। সম্প্রতি মানুষের রক্ত আর সিমেনেও এর উপস্থিতি পাওয়া গেছে। রক্ত নেয়া বা শারীরিক সম্পর্কের ফলে এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে এমন রোগীর রিপোর্ট পাওয়া গেলেও সংখ্যায় তা অতি নগণ্য। আবার ভেবে দেখুন যদি রক্ত এই রোগ আসলেই ছড়াতো তাহলে রোগীকে কামড়ালে যেকোন ধরনের মশাই এই রোগে আক্রান্ত হয়ে যেতো। কি, ঠিক তো? কিন্তু এমনটি কিন্তু হচ্ছেনা। তাই আপাতত সঠিকভাবে এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া না গেলেও সাবধানতা অবলম্বন করতে তো মানা নেই।
৩। জিকা ভাইরাস কী জিবিএস এর জন্ম দেয়?
জিবিএস বা গ্যলিয়্যান ব্যরে সিন্ড্রোম নামের এক বিশেষ ধরনের রোগ আছে যা মানুষের রোগ প্রতিরোধ সিস্টেমকেই শরীরের বিরুদ্ধে লাগিয়ে দেয়। তখন এরা রোগজীবাণু ধ্বংস করা বাদ দিয়ে আপনার স্নায়ুকোষগুলোকে ধবংস করা শুরু করে। এর ফলে মাংসপেশির দূর্বলতা এমনকি কোন কোন ক্ষেত্রে প্যারালাইসিস ও দেখা যায়। সাধারণত এর প্রভাব কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত থাকে। তবে অল্প কিছু ক্ষেত্রে দেখা গেছ এ মানুষ এর প্রভাব সারাজীবন বয়ে নিয়ে বেড়ায় এমনকি এতে মৃত্যুও হতে পারে। আসলে জিকা নাকি অন্যান্য কোন নির্দিষ্ট ভাইরাস এই রোগের উৎপত্তি ঘটায় কি না তা এখনও বলা সম্ভব হয়নি। তবে জিকা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বাড়ার সাথে সাথে ব্রাজিলে জিবিএস ও তীব্র আকারে বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই গবেষকরা মাথা চুল্কাতে বসে গেছেন আসলেই কি জিকা ভাইরাস টেনে আনছে জিবিএস এর মতোন মারাত্মক রোগকেও।
জিকা ভাইরাসে আক্রান্তের লক্ষ্মণ?

জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত প্রতি পাঁচ জনের একজন মানুষের মধ্যে অসুস্থতার লক্ষ্মণ দেখা যায়। কিছু সাধারণ লক্ষ্মণের মধ্যে আছে জ্বর, শরীরে র্যাশের সৃষ্টি, হাড়ের সংযোগস্থলে ব্যথার অনুভূতি, কংজাংক্টিভাইটিস (চোখ ওঠা)। এছাড়াও এই সময় মাথাব্যথা আর মাংসপেশীতে প্রচণ্ড ব্যথা হয়। জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত হবার সাথে সাথেই কিন্তু এইসব উপসর্গ দেখা যায় না। বেশ কয়েক দিন বা সপ্তাহ পর রোগীর মধ্যে এই লক্ষ্মণগুলো দেখা যেতে থাকে।
জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে অসুস্থতা বড়জোর কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত থাকতে পারে। হাসপাতালে যাবার মতোন অবস্থাও কিন্তু তৈরী হয়না। এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর পরিমাণ খুবই নগণ্য। আপনার অসুস্থতা কমে গেলেও রক্তের মধ্যে এই ভাইরাস কয়েক মাস থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত তার উপস্থিতি জানান দিতে পারে।
র্যাশ ওঠার কারণে অনেকেই এই অসুখটিকে ডেংগু বা হামের সাথে গুলিয়ে ফেলতে পারে। তাই সঠিকভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে রোগ নির্ণয় অত্যন্ত জরুরী।
প্রতিরোধ আর প্রতিকারঃ কীভাবে রক্ষা করবো নিজেদের?

জিকা ভাইরাস আপাতদৃষ্টিতে খুব ভয়ংকর না হলেও এর ক্ষতিকর দিক কিন্তু অনেক। এখন পর্যন্ত এই রোগের নির্দিষ্ট কোন প্রতিষেধক আবিষ্কৃত হয়নি, কিন্তু তাই বলে আমরা তো আর হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকতে পারি না। এভাবে ভাবতেও পারি না যে মশা তো কামড়াবেই, এই রোগ হয়ে গেলে আর কী করার। যেহেতু এডিস মশা যেকোন জায়গায় জমে থাকা পানিতে জন্ম নেয় তাই আশেপাশের কোথাও যেন পানি জমে না থাকে সেদিকে খেয়াল করতে হবে। এরা দিনের বেলাতেই আপনাকে আক্রমণের শিকার করবে তাই দিনের বেলা ঘুমালেও মশারী টানাতে ভুলবেন না। খেয়াল রাখবেন যে, কোন মশা যেন আপনাকে না কামড়ায়। জানালার চারিদিকে আলাদা করে এমন জালিকা স্থাপন করতে পারেন যাতে মশা ঘরে না ঢুকতে পারে। যেকোন রোগে আক্রান্ত হবার আগেই সবথেকে ভাল উপায় হলো নিজেকে সতর্ক রাখা।
জিকা ভাইরাসের গোপন নথি!

এতক্ষণ যা বললাম তা নিত্যদিনের খবর হয়ে গেছে। কিন্তু আপনার আমার জানার বাইরেও কিছু খবর আছে, যা হয়ত ইচ্ছে করেই রাখা হচ্ছে সবার অগোচরে। আচ্ছা উপরে যা কিছু পড়েছেন তারপর আপনার কি মনে হচ্ছে জিকা ভাইরাস আসলেই এতটা ভয় পাবার মতোন কিছু যতটা একে নিয়ে পশ্চিমা বিশ্ব মেতে উঠেছে?
বিল গেটস-মেলিণ্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের নাম নিশ্চয় সবাই শুনেছেন। এই ফাউণ্ডেশনের ব্রিটিশ বায়োটেক কোম্পানি ডেংগু মশার প্রাদুর্ভাব থেকে মানুষকে বাঁচানোর জন্য বিশেষ ধরনের জেনেটিকালি ইঞ্জিনিয়ার্ড বিশেষ এক ধরনের মশার সৃষ্টি করে। ধারণা করা হচ্ছে মানবসৃষ্ট এই বিশেষ ধরনের মশাই আসলে জিকা ভাইরাস ছড়ানোর জন্য দায়ী। হ্যাঁ ঠিকই শুনছেন যে ভাইরাস মানুষের জীবনে আতংক বয়ে নিয়ে এসেছে, যে রোগ নিয়ে নিত্যদিন মিডিয়া এই পরিমাণে মেতে উঠেছে তা প্রাকৃতিক কোন রোগ নয়!
২০১১ সাল থেকে অক্সিটেক নামের এই কোম্পানি ব্রাজিলের গহীন অরণ্যে এই মশার বংশবিস্তার করে চলেছে ডেংগু মশার প্রাদুর্ভাব থেকে মানুষকে রক্ষার জন্য। এক সপ্তাহে তারা প্রায় দুই মিলিয়ন মশা উৎপাদন করে ব্রাজিলের ক্যম্পিনাস এ অবস্থিত এদের ফ্যাক্টরীতে।
আচ্ছা এবার একটু অন্য হিসেবে আসি। ২০১৫ এর ১ নভেম্বর থেকে প্রায় ৪০০০ শিশু এই ছোট্ট মস্তিষ্ক নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছে। সাধারণত ব্রাজিলে প্রতিবছর এরকম ১৫০ জন শিশু জন্মগ্রহণ করে। এনবিসি নিউজের নতুন রিপোর্ট অনুযায়ী এই ৪০০০ জন শিশুর এই সংখ্যা প্রকাশ সরকারের এক ধরনের বাহুল্য।
কিন্তু কথা হলো কেন-ই বা মানুষের মধ্যে এই আতংক ছড়ানো। যেখানে জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত ৫ জন রোগীর মাত্র একজনের সামান্য জ্বরবোধ হয় আর বাকি চারজন তো জানতেই পারে না যে তারা এই রোগে আক্রান্ত হয়েছিলো। আর এই জিকা ভাইরাসের ঘাড়েই কিনা এতগুলো শিশুর জীবন নষ্টের দায়ভার চাপিয়ে দেয়া হলো উপযুক্ত প্রমাণ ছাড়াই।

আরেকটি রহস্যময় তথ্য জেনে নিন, ২০১৫ সাল থেকে ব্রাজিল সরকার গর্ভবতী মায়েদের একটি নতুন ভ্যক্সিন নেয়া অত্যাবশ্যক করেন। টিডিএপি নামক এই ভ্যাক্সিনের সঠিকভাবে কোন পরীক্ষা ছাড়াই হঠাত এভাবে আবশ্যকীয় করে দেয়া আর ঠিক একই সময়ে এরকম অদ্ভুত শিশু জন্মের হার হুহু করে বেড়ে যাওয়াটা আসলে কাকতালীয় ঘটনা থেকে একটু বেশি কিছুই বলে মনে হয়। এই ভ্যক্সিন এর উৎপত্তিস্থল সম্পর্কে একটু খোজ নিতে শুরু করলেই একটি নাম আবার সামনে পেয়ে যাবেন- বিল গেটস-মেলিণ্ডা গেটস ফাউণ্ডেশন। এমনকি এই ভ্যক্সিন লাইসেন্সড হবার আগে তার কার্যকারিতা সম্পর্কে অর্থাৎ গর্ভবতী মায়ের শরীরে গিয়ে আসলেই কাজ করে কি না সেই ব্যাপারে পরীক্ষা করার কোন নথিপত্র ও পাওয়া যায়নি।
একটু যদি অন্যভাবে ব্যাপারটা নিয়ে ভেবে দেখি তাহলে কি এটাই মনে হয় না জন্মগত এই ত্রুটি আর জিকা ভাইরাসকে একই সময়ে সামনে আনা হয়েছে? ব্রাজিল-ই বা কেন আমেরিকা থেকে মন একটি ভ্যক্সিন কিনে তার দেশে অত্যাবশ্যক করে দিলো যার কোন নির্দিষ্ট পরীক্ষার ইতিহাস নেই, নাকি এজন্য তারা উপযুক্ত পরিমাণে পকেট গরম করার সুযোগ পেয়েছে। এখন আবার আমেরিকা জিকা ভাইরাসের প্রতিষেধক এর পিছে ছুটছে। চেষ্টা করে দেখুন তো এমনই কোন ঘটনার কথা স্মৃতিতে আসে কি না? হ্যাঁ একইভাবে মিডিয়া ইবোলা ভাইরাস নিয়েও মানুষের মনে আতংক সৃষ্টি করেছিল।
যেমনটি আগেই বলেছি অনেক দেশে গর্ভধারণ এরই মধ্যে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, সবকিছু মিলিয়ে মনে হচ্ছে আসলেই বিল গেটস এর জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ এজেণ্ডা বাস্তবায়িত হচ্ছে। সম্প্রতি মাত্র একজন মানুষের সিমেনে এই ভাইরাসের উপস্থিতি টের পাওয়ার সাথে সাথেই একে সেক্সুয়ালি ট্রান্সমিটেড অর্থাৎ শারীরিক সম্পর্কের মাধ্যমে ছড়ানো রোগের কাতারে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে মানবমনে শারীরিক সম্পর্ক এবং সন্তান ধারণের প্রতি আতংকের সৃষ্টি হচ্ছে। ২০০৩ সাল থেকেই বিল গেটস জোরপূর্বক ভ্যক্সিনাইজেশন করে জন্মনিয়ন্ত্রণের সপক্ষে কথা বলেছেন।
তবে এই রহস্যের কুলকিনারা এতো সহজে সম্ভব নয়। বিশ্বের বড় বড় ব্যক্তিত্বের বিপক্ষে বা সপক্ষে কথা বলার মানুষের অভাব কখনোই ছিলো না। তাই আমরা শুধু আপনাদের চলতি বিশ্বের পরিস্থিতির কাছাকাছিই নিয়ে যেতে পারি। সত্য-মিথ্যা জানার জন্য আমাদের হয়ত অপেক্ষা করতে হবে আরও বেশ কিছুটা সময়। কিন্তু উন্নত বিশ্বের অনেক ঘটনার সুরাহা যে আমাদের কান পর্যন্ত আসেনা- এ নতুন কিছু নয়। তাই আপাতত এসব কোন্দলে না পড়ে আমরা নিজেদের ও নিজ নিজ সন্তানদের নিরাপত্তা প্রদানের দিকেই বেশি মনোযোগী হই। আশা করি বিশ্বে বিরাজমান এই জিকা ভাইরাস আতংক আমাদের দ্বারপ্রান্তে এসে কখনোই হানা দেবে না।
উৎসঃ
ফারজানা অনন্যা (টপিক)
http://www.cdc.gov/zika/
http://www.trinfinity8.com/
জিকা ভাইরাস কী?

জিকা ইনফেকশন রোগটি আমাদের অতি পরিচিত ডেংগু রোগের মতোন আর ছড়ায় ও এডিস মশার মাধ্যমেই। আজকাল এই রোগের কথা সংবাদমাধ্যমে, টিভি মিডিয়ায় প্রচুর পরিমাণে শোনা গেলেও এমন কিন্তু না যে এই রোগের উৎপত্তি হয়েছে কিছুদিনের মধ্যেই। ১৯৪৭ সালের উগাণ্ডার জিকা ফরেস্টে এই রোগ সর্বপ্রথম রেসাস বানরের মধ্যে থেকে মশাদের শরীরে ছড়ায়। সর্বপ্রথম এই রোগে আক্রান্ত মানুষের সন্ধান পাওয়া যায় ১৯৪৮ সালে নাইজেরিয়ায়। আফ্রিকায় এই রোগ কিছু কিছু সময় দেখতে পাওয়া গেলেও পশ্চিমাবিশ্বে এর প্রাদুর্ভাব শুরু হয় গত মে মাস থেকে। এখন পর্যন্ত এই ভাইরাস কোন সুদুরপ্রসারী ক্ষতির চিহ্ন নিয়ে আসেনি আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে, কিন্তু গর্ভবতী মহিলাদের জন্য এই রোগ মহামারীর থেকেও বেশি ভয়ানক। কেন? সেই কথায় আসছি কিছুক্ষণ পরে।
জিকা ভাইরাস কীভাবে ছড়ায়?
কিছুদিন ধরে এই যে বারবার শুনছেন জিকা ভাইরাস! জিকা ভাইরাস! কিন্তু এই রোগ থেকে বাঁচতে হলে আগে আপনাকে জানতে হবে যে এই রোগ ছড়ায় কীভাবে? জিকা ভাইরাস ছড়ায় মশার মাধ্যমে, তবে সব ধরনের মশা না এডিস জেনাসের মশাই এই রোগের জন্য দায়ী। এই মশা যেমন একটি বড়সড় পুলের মধ্যে বিস্তার লাভ করতে পারে ঠিক একইভাবে একটি বোতলের মুখের মধ্যে রাখা পানির মধ্যেও বংশ বিস্তার পারে। এডিস মশা সাধারণত দিনে কামড়ায়। এদের গোত্রের সবথেকে ভয়াবহ সদস্য হলো এডিস এজিপ্টি যারা জিকা রোগের প্রধান বাহক। এদের বিচরণ আমেরিকায় শুধুমাত্র ফ্লোরিডা, গালফ কোস্ট আর হাওয়াই এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ। তবে খুব গরমের সময় এদের ওয়য়াশিংটন এও দেখা যায়।
এশিয়ার টাইগার মশা এডিস এল্বোপিকটাস ও এই রোগ ছড়ায় কিন্তু পরিসরে এজিপ্টির থেকে কম। এদের শিকাগো আর নিউইয়র্কে গ্রীস্মকালে আনাগোনা বাড়ে।
এইসব মশা যখন কোন আক্রান্ত মানুষকে কামড়ায় তখন সে রোগীর কাছ থেকে এই ভাইরাসে সংক্রমিত হয়। পরবর্তীতে সংক্রমিত মশা সুস্থ মানুষকে কামড়ালে সে আবার জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যায়।
জিকা ভাইরাস এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় কিছু প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। চলুন এই প্রশ্নের জটগুলো খোলার চেষ্টা করে দেখি।
১। জিকা ভাইরাস কি মায়ের শরীর থেকে সন্তানের শরীরে ছড়ায়?

এখন পর্যন্ত এক কথায় উত্তর হলো, হ্যাঁ! সন্তান প্রসবের পূর্ব মুহূর্তে মায়ের শরীর থেকে সন্তানের শরীরে এই রোগ প্রবেশ করতে পারে। মাইক্রোফেলি নামক ভয়ংকর ধরনের এক জন্মগত ত্রুটি নিয়ে অনেক শিশু জন্ম নেয়ার রিপোর্ট পাওয়া গেছে সম্প্রতি। এই রোগাক্রান্ত শিশুদের মাথা অন্যান্য স্বাভাবিক শিশুদের তুলনায় ছোট আর এইসমস্ত শিশুদের মায়েরা গর্ভকালীন সময়ে জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত ছিল। মাইক্রোফেলি রোগে যেসব শিশুরা আক্রান্ত হয় এদের মধ্যে সৌভাগ্যবান ১৫% থাকে যাদের শুধু মাথাটাই ছোট হয়, কিন্তু অভাগা বাকি ৮৫% শিশুর মস্তিষ্কের উপর মাইক্রোফেলি ভয়াবহ প্রভাব ফেলে। অনেক ক্ষেত্রে এদের বৃদ্ধি ঠিকমত হয়না এবং এরা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী হয়। জিকা ভাইরাস আর অদ্ভুত এই সমস্যার একদম ঠিক ঠিক যোগসূত্র টা যে কোথায় তা এখনও আবিষ্কৃত না হলেও বিশেষজ্ঞগণ গর্ভবতী মায়েদের এই ব্যপারে সতর্ক থাকতে বলেছেন। ব্রাজিলে এই রোগে আক্রান্ত প্রায় ৪০০০ শিশুর রিপোর্ট পাওয়া গেছে এবং এর মধ্যে ৩৮ জন মারা গেছে।
এমনকি ব্রাজিল, কলম্বিয়া, ইকুয়েডর, এল স্যল্ভাডোর এ আপাতত সন্তান ধারণ না করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
২। রক্ত বা সিমেন কি জিকা ভাইরাস বহন করে?
এতক্ষণ জিকা ভাইরাস নিয়ে এত কিছু পড়ে নিশ্চয়ই বুঝে গেছেন বাতাসে উড়ে এই রোগ আপনার শরীরে ঢুকে আপনাকে অসুস্থ বানিয়ে দেবে না। জিকা ভাইরাস সংক্রমণের জন্য অবশ্যই একটি বাহক লাগবে। আর এই রোগের মূল বাহক হলো মশা। সম্প্রতি মানুষের রক্ত আর সিমেনেও এর উপস্থিতি পাওয়া গেছে। রক্ত নেয়া বা শারীরিক সম্পর্কের ফলে এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে এমন রোগীর রিপোর্ট পাওয়া গেলেও সংখ্যায় তা অতি নগণ্য। আবার ভেবে দেখুন যদি রক্ত এই রোগ আসলেই ছড়াতো তাহলে রোগীকে কামড়ালে যেকোন ধরনের মশাই এই রোগে আক্রান্ত হয়ে যেতো। কি, ঠিক তো? কিন্তু এমনটি কিন্তু হচ্ছেনা। তাই আপাতত সঠিকভাবে এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া না গেলেও সাবধানতা অবলম্বন করতে তো মানা নেই।
৩। জিকা ভাইরাস কী জিবিএস এর জন্ম দেয়?
জিবিএস বা গ্যলিয়্যান ব্যরে সিন্ড্রোম নামের এক বিশেষ ধরনের রোগ আছে যা মানুষের রোগ প্রতিরোধ সিস্টেমকেই শরীরের বিরুদ্ধে লাগিয়ে দেয়। তখন এরা রোগজীবাণু ধ্বংস করা বাদ দিয়ে আপনার স্নায়ুকোষগুলোকে ধবংস করা শুরু করে। এর ফলে মাংসপেশির দূর্বলতা এমনকি কোন কোন ক্ষেত্রে প্যারালাইসিস ও দেখা যায়। সাধারণত এর প্রভাব কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত থাকে। তবে অল্প কিছু ক্ষেত্রে দেখা গেছ এ মানুষ এর প্রভাব সারাজীবন বয়ে নিয়ে বেড়ায় এমনকি এতে মৃত্যুও হতে পারে। আসলে জিকা নাকি অন্যান্য কোন নির্দিষ্ট ভাইরাস এই রোগের উৎপত্তি ঘটায় কি না তা এখনও বলা সম্ভব হয়নি। তবে জিকা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বাড়ার সাথে সাথে ব্রাজিলে জিবিএস ও তীব্র আকারে বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই গবেষকরা মাথা চুল্কাতে বসে গেছেন আসলেই কি জিকা ভাইরাস টেনে আনছে জিবিএস এর মতোন মারাত্মক রোগকেও।
জিকা ভাইরাসে আক্রান্তের লক্ষ্মণ?

জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত প্রতি পাঁচ জনের একজন মানুষের মধ্যে অসুস্থতার লক্ষ্মণ দেখা যায়। কিছু সাধারণ লক্ষ্মণের মধ্যে আছে জ্বর, শরীরে র্যাশের সৃষ্টি, হাড়ের সংযোগস্থলে ব্যথার অনুভূতি, কংজাংক্টিভাইটিস (চোখ ওঠা)। এছাড়াও এই সময় মাথাব্যথা আর মাংসপেশীতে প্রচণ্ড ব্যথা হয়। জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত হবার সাথে সাথেই কিন্তু এইসব উপসর্গ দেখা যায় না। বেশ কয়েক দিন বা সপ্তাহ পর রোগীর মধ্যে এই লক্ষ্মণগুলো দেখা যেতে থাকে।
জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে অসুস্থতা বড়জোর কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত থাকতে পারে। হাসপাতালে যাবার মতোন অবস্থাও কিন্তু তৈরী হয়না। এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর পরিমাণ খুবই নগণ্য। আপনার অসুস্থতা কমে গেলেও রক্তের মধ্যে এই ভাইরাস কয়েক মাস থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত তার উপস্থিতি জানান দিতে পারে।
র্যাশ ওঠার কারণে অনেকেই এই অসুখটিকে ডেংগু বা হামের সাথে গুলিয়ে ফেলতে পারে। তাই সঠিকভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে রোগ নির্ণয় অত্যন্ত জরুরী।
প্রতিরোধ আর প্রতিকারঃ কীভাবে রক্ষা করবো নিজেদের?

জিকা ভাইরাস আপাতদৃষ্টিতে খুব ভয়ংকর না হলেও এর ক্ষতিকর দিক কিন্তু অনেক। এখন পর্যন্ত এই রোগের নির্দিষ্ট কোন প্রতিষেধক আবিষ্কৃত হয়নি, কিন্তু তাই বলে আমরা তো আর হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকতে পারি না। এভাবে ভাবতেও পারি না যে মশা তো কামড়াবেই, এই রোগ হয়ে গেলে আর কী করার। যেহেতু এডিস মশা যেকোন জায়গায় জমে থাকা পানিতে জন্ম নেয় তাই আশেপাশের কোথাও যেন পানি জমে না থাকে সেদিকে খেয়াল করতে হবে। এরা দিনের বেলাতেই আপনাকে আক্রমণের শিকার করবে তাই দিনের বেলা ঘুমালেও মশারী টানাতে ভুলবেন না। খেয়াল রাখবেন যে, কোন মশা যেন আপনাকে না কামড়ায়। জানালার চারিদিকে আলাদা করে এমন জালিকা স্থাপন করতে পারেন যাতে মশা ঘরে না ঢুকতে পারে। যেকোন রোগে আক্রান্ত হবার আগেই সবথেকে ভাল উপায় হলো নিজেকে সতর্ক রাখা।
এলাকার মানুষজন মিলে কিছুদিন পরপর বিভিন্ন কীটনাশক দূরীকরণের স্প্রে প্রয়োগ একটি ভাল উদ্যোগ। তবে ঝুকি আছে এমন এলাকায় যদি আপনি ভ্রমণ করতে চান তাহলে অবশ্যই বাড়তি সতর্কতা অত্যন্ত জরুরী।
জিকা ভাইরাসের প্রতিষেধকঃ
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, জিকা ভাইরাসের প্রতিষেধক আমাদের হাতে নাগালে আসতে আসতে পার হয়ে যাবে আরও দেড় বছর। প্রায় ১৫টি প্রতিষ্ঠান এই দৌড়ে সামিল হয়ে থাকলেও তাদের কাজ একদমই প্রাথমিক পর্যায়ে। জেনেভার এক কনফারেন্সে এই সংস্থার মুখপাত্র জানান এখনই তারা প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম প্রকাশে রাজি নয়। ইউএসএ তে খুব শীঘ্রই এর পরীক্ষামূলক কাজ শুরু হলেও তা পুরোপুরি স্বীকৃত হয়ে মানুষের নাগালে পৌঁছাতে অপেক্ষা করতে হবে আরও অনেকটা সময়।
বাংলাদেশ এবং জিকা ভাইরাসঃ আমরা কি হুমকির মুখে?
জিকা ভাইরাসের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে আমরা সবাই-ই অবগত। বাংলাদেশে কি এই রোগে আক্রান্ত হবার কোন সম্ভাবনা আছে- চিন্তার বিষয় এই একটাই। প্রতিষেধকবিহীন এই রোগ খুব দ্রুত বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ছে, তাই আমরা যে একেবারে হুমকির সম্মুখে না, তা বলা যায় না। তবে আশার বিষয় এই যে দক্ষিণ এশিয়াতে এখন পর্যন্ত জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত খুব বেশী রোগীর খবর পাওয়া যায়নি। তাই আশা করা যায় যে আমাদের সেই খারাপ দিন দেখার সম্ভাবনা আপাতত নেই বললেই চলে যখন ফুটফুটে একটি শিশুকে অপরিণত মস্তিষ্ক আর ছোট্ট একট মাথা নিয়ে চলাচল করতে দেখতে হবে।
জিকা ভাইরাসের প্রতিষেধকঃ
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, জিকা ভাইরাসের প্রতিষেধক আমাদের হাতে নাগালে আসতে আসতে পার হয়ে যাবে আরও দেড় বছর। প্রায় ১৫টি প্রতিষ্ঠান এই দৌড়ে সামিল হয়ে থাকলেও তাদের কাজ একদমই প্রাথমিক পর্যায়ে। জেনেভার এক কনফারেন্সে এই সংস্থার মুখপাত্র জানান এখনই তারা প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম প্রকাশে রাজি নয়। ইউএসএ তে খুব শীঘ্রই এর পরীক্ষামূলক কাজ শুরু হলেও তা পুরোপুরি স্বীকৃত হয়ে মানুষের নাগালে পৌঁছাতে অপেক্ষা করতে হবে আরও অনেকটা সময়।
বাংলাদেশ এবং জিকা ভাইরাসঃ আমরা কি হুমকির মুখে?

জিকা ভাইরাসের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে আমরা সবাই-ই অবগত। বাংলাদেশে কি এই রোগে আক্রান্ত হবার কোন সম্ভাবনা আছে- চিন্তার বিষয় এই একটাই। প্রতিষেধকবিহীন এই রোগ খুব দ্রুত বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ছে, তাই আমরা যে একেবারে হুমকির সম্মুখে না, তা বলা যায় না। তবে আশার বিষয় এই যে দক্ষিণ এশিয়াতে এখন পর্যন্ত জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত খুব বেশী রোগীর খবর পাওয়া যায়নি। তাই আশা করা যায় যে আমাদের সেই খারাপ দিন দেখার সম্ভাবনা আপাতত নেই বললেই চলে যখন ফুটফুটে একটি শিশুকে অপরিণত মস্তিষ্ক আর ছোট্ট একট মাথা নিয়ে চলাচল করতে দেখতে হবে।
জিকা ভাইরাসের গোপন নথি!

এতক্ষণ যা বললাম তা নিত্যদিনের খবর হয়ে গেছে। কিন্তু আপনার আমার জানার বাইরেও কিছু খবর আছে, যা হয়ত ইচ্ছে করেই রাখা হচ্ছে সবার অগোচরে। আচ্ছা উপরে যা কিছু পড়েছেন তারপর আপনার কি মনে হচ্ছে জিকা ভাইরাস আসলেই এতটা ভয় পাবার মতোন কিছু যতটা একে নিয়ে পশ্চিমা বিশ্ব মেতে উঠেছে?
বিল গেটস-মেলিণ্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের নাম নিশ্চয় সবাই শুনেছেন। এই ফাউণ্ডেশনের ব্রিটিশ বায়োটেক কোম্পানি ডেংগু মশার প্রাদুর্ভাব থেকে মানুষকে বাঁচানোর জন্য বিশেষ ধরনের জেনেটিকালি ইঞ্জিনিয়ার্ড বিশেষ এক ধরনের মশার সৃষ্টি করে। ধারণা করা হচ্ছে মানবসৃষ্ট এই বিশেষ ধরনের মশাই আসলে জিকা ভাইরাস ছড়ানোর জন্য দায়ী। হ্যাঁ ঠিকই শুনছেন যে ভাইরাস মানুষের জীবনে আতংক বয়ে নিয়ে এসেছে, যে রোগ নিয়ে নিত্যদিন মিডিয়া এই পরিমাণে মেতে উঠেছে তা প্রাকৃতিক কোন রোগ নয়!
২০১১ সাল থেকে অক্সিটেক নামের এই কোম্পানি ব্রাজিলের গহীন অরণ্যে এই মশার বংশবিস্তার করে চলেছে ডেংগু মশার প্রাদুর্ভাব থেকে মানুষকে রক্ষার জন্য। এক সপ্তাহে তারা প্রায় দুই মিলিয়ন মশা উৎপাদন করে ব্রাজিলের ক্যম্পিনাস এ অবস্থিত এদের ফ্যাক্টরীতে।
আচ্ছা এবার একটু অন্য হিসেবে আসি। ২০১৫ এর ১ নভেম্বর থেকে প্রায় ৪০০০ শিশু এই ছোট্ট মস্তিষ্ক নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছে। সাধারণত ব্রাজিলে প্রতিবছর এরকম ১৫০ জন শিশু জন্মগ্রহণ করে। এনবিসি নিউজের নতুন রিপোর্ট অনুযায়ী এই ৪০০০ জন শিশুর এই সংখ্যা প্রকাশ সরকারের এক ধরনের বাহুল্য।
কিন্তু কথা হলো কেন-ই বা মানুষের মধ্যে এই আতংক ছড়ানো। যেখানে জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত ৫ জন রোগীর মাত্র একজনের সামান্য জ্বরবোধ হয় আর বাকি চারজন তো জানতেই পারে না যে তারা এই রোগে আক্রান্ত হয়েছিলো। আর এই জিকা ভাইরাসের ঘাড়েই কিনা এতগুলো শিশুর জীবন নষ্টের দায়ভার চাপিয়ে দেয়া হলো উপযুক্ত প্রমাণ ছাড়াই।

আরেকটি রহস্যময় তথ্য জেনে নিন, ২০১৫ সাল থেকে ব্রাজিল সরকার গর্ভবতী মায়েদের একটি নতুন ভ্যক্সিন নেয়া অত্যাবশ্যক করেন। টিডিএপি নামক এই ভ্যাক্সিনের সঠিকভাবে কোন পরীক্ষা ছাড়াই হঠাত এভাবে আবশ্যকীয় করে দেয়া আর ঠিক একই সময়ে এরকম অদ্ভুত শিশু জন্মের হার হুহু করে বেড়ে যাওয়াটা আসলে কাকতালীয় ঘটনা থেকে একটু বেশি কিছুই বলে মনে হয়। এই ভ্যক্সিন এর উৎপত্তিস্থল সম্পর্কে একটু খোজ নিতে শুরু করলেই একটি নাম আবার সামনে পেয়ে যাবেন- বিল গেটস-মেলিণ্ডা গেটস ফাউণ্ডেশন। এমনকি এই ভ্যক্সিন লাইসেন্সড হবার আগে তার কার্যকারিতা সম্পর্কে অর্থাৎ গর্ভবতী মায়ের শরীরে গিয়ে আসলেই কাজ করে কি না সেই ব্যাপারে পরীক্ষা করার কোন নথিপত্র ও পাওয়া যায়নি।
একটু যদি অন্যভাবে ব্যাপারটা নিয়ে ভেবে দেখি তাহলে কি এটাই মনে হয় না জন্মগত এই ত্রুটি আর জিকা ভাইরাসকে একই সময়ে সামনে আনা হয়েছে? ব্রাজিল-ই বা কেন আমেরিকা থেকে মন একটি ভ্যক্সিন কিনে তার দেশে অত্যাবশ্যক করে দিলো যার কোন নির্দিষ্ট পরীক্ষার ইতিহাস নেই, নাকি এজন্য তারা উপযুক্ত পরিমাণে পকেট গরম করার সুযোগ পেয়েছে। এখন আবার আমেরিকা জিকা ভাইরাসের প্রতিষেধক এর পিছে ছুটছে। চেষ্টা করে দেখুন তো এমনই কোন ঘটনার কথা স্মৃতিতে আসে কি না? হ্যাঁ একইভাবে মিডিয়া ইবোলা ভাইরাস নিয়েও মানুষের মনে আতংক সৃষ্টি করেছিল।
যেমনটি আগেই বলেছি অনেক দেশে গর্ভধারণ এরই মধ্যে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, সবকিছু মিলিয়ে মনে হচ্ছে আসলেই বিল গেটস এর জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ এজেণ্ডা বাস্তবায়িত হচ্ছে। সম্প্রতি মাত্র একজন মানুষের সিমেনে এই ভাইরাসের উপস্থিতি টের পাওয়ার সাথে সাথেই একে সেক্সুয়ালি ট্রান্সমিটেড অর্থাৎ শারীরিক সম্পর্কের মাধ্যমে ছড়ানো রোগের কাতারে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে মানবমনে শারীরিক সম্পর্ক এবং সন্তান ধারণের প্রতি আতংকের সৃষ্টি হচ্ছে। ২০০৩ সাল থেকেই বিল গেটস জোরপূর্বক ভ্যক্সিনাইজেশন করে জন্মনিয়ন্ত্রণের সপক্ষে কথা বলেছেন।
তবে এই রহস্যের কুলকিনারা এতো সহজে সম্ভব নয়। বিশ্বের বড় বড় ব্যক্তিত্বের বিপক্ষে বা সপক্ষে কথা বলার মানুষের অভাব কখনোই ছিলো না। তাই আমরা শুধু আপনাদের চলতি বিশ্বের পরিস্থিতির কাছাকাছিই নিয়ে যেতে পারি। সত্য-মিথ্যা জানার জন্য আমাদের হয়ত অপেক্ষা করতে হবে আরও বেশ কিছুটা সময়। কিন্তু উন্নত বিশ্বের অনেক ঘটনার সুরাহা যে আমাদের কান পর্যন্ত আসেনা- এ নতুন কিছু নয়। তাই আপাতত এসব কোন্দলে না পড়ে আমরা নিজেদের ও নিজ নিজ সন্তানদের নিরাপত্তা প্রদানের দিকেই বেশি মনোযোগী হই। আশা করি বিশ্বে বিরাজমান এই জিকা ভাইরাস আতংক আমাদের দ্বারপ্রান্তে এসে কখনোই হানা দেবে না।
উৎসঃ
ফারজানা অনন্যা (টপিক)
http://www.cdc.gov/zika/
http://www.trinfinity8.com/
No comments:
Post a Comment