Thursday, 10 September 2015

আফ্রিকায় নতুন মানব প্রজাতির সন্ধান

জোহানেসবার্গে অবস্থিত University of the Witwatersrand এর প্রফেসর Lee Berger তার জীবনে আজ পর্যন্ত অনেক প্রয়োজনীর জিনিষ আবিস্কার করেছেন। কিন্তু তিনি এবার অনুধাবন করেছিলেন, তিনি অনেক বড় কিছু আবিস্কার করতে যাচ্ছেন। তবে তিনি এটা জানতেন না যে তিনি যা আবিস্কার করতে যাচ্ছেন, তা মানুষের বিবর্তনের ইতিহাসকে এক নতুন মোড় দেবে এবং আমাদের পরিচয় সম্পর্কে আরো নতুন কিছু প্রশ্ন উপস্থাপন করবে।
150910112952-restricted-homo-naledi-lee-berger-wits-exlarge-169 (1)তিনি ও তার দল দুই বছর ধরে জোহানেসবার্গের কাছাকাছি অবস্থিত রাইসিং স্টার কেভের লাইমস্টোন টানেলের গভীরে কোনো কিছুর সন্ধানের উদ্দেশ্যে যেতে যেতে কিছু কঙ্কাল এবং হাড়গোড় (ফসিল) আবিষ্কার করে বসেন, যা আমাদের বিবর্তনের তালিকায় নতুন এক সদস্য হিসেবে যোগ হয়। যে প্রজাতির ফসিল তারা খুঁজে পেয়েছেন, তারা এর নাম দিয়েছেন Homo naledi। কঙ্কাল পর্যবেক্ষণের পর তাদের মতে, তার মৃত্যুর পর তার সাথীরা তাকে এখানে কবর দিয়েছিলো, যে প্রথাটি বিজ্ঞানীদের মতে শুধু মানুষের মাঝেই সীমাবদ্ধ ছিলো। টানেলটির আরেকটি আলাদা করা জায়গায় এই প্রজাতির আরো কিছু কঙ্কাল পাওয়া যায়, যেগুলোর মধ্যে শিশু, মহিলা, মধ্য বয়স্করাও রয়েছে। এসবের সন্ধান পাওয়ার পর বারজার এবং তার সহকর্মীরা এই মতে আসেন।
150910094401-restricted-homo-naledi-wits-university-1-exlarge-169 (1)তাদের বিশ্বাস, ৩০ মিটার গভীরে অবস্থিত এই চেম্বারটি Homo naledi প্রজাতির কবরস্থান ছিলো, যেখানে তারা মৃত্যুর পর সবাইকে কবর দিতো এবং পথ প্রদর্শনের জন্য পুরো রাস্তায় তারা আগুন জ্বালিয়ে আসতো। বারজার CNN কে বলেন, সেখানে শিকারীদের হামলা এমনকি প্রাকৃতিক দুর্যোগেরও কোনো চিহ্ন ছিলো না। যার ফলে তারা মত দেন যে, এই প্রজাতিটি তাদের নিজেদের ইচ্ছায় এখানে এসে মৃতদেহের সৎকার করেছিলো। তিনি আরো বলেন, আমরা এমন এক প্রজাতির আবিষ্কার করলাম, যারা হয়তোবা মৃত্যু এবং এর পরবর্তী জীবন সম্পর্কে একটু হলেও ভেবেছিলো এবং এতো গভীরে অন্ধকারে এসে যথেষ্ট ঝুঁকি এবং প্রচেষ্টা সহকারে মৃতদেহের সৎকার করেছিলো। তিনি মনে করেন, মৃতদেহের সৎকারের বিষয়টিই ছিলো আমাদের মানুষের এক অনন্য বৈশিষ্ট্য এবং মানুষ নামের সংজ্ঞা। এই প্রজাতি আবিষ্কারের পর এখন আমাদের মানুষের সংজ্ঞাকে আবার নতুন করে ভাবতে হবে।
কিন্তু বারজার ও তার দল প্রজাতিটির বয়স/উৎপত্তিকাল এখনো নির্ণয় করতে না পারায় তারা এখনো তাদের মতগুলো যথাযথ কিনা, সে ব্যাপারে নিশ্চিত নন। কারণ প্রথম মৃতদেহ কবর দেয়ার প্রচলন ঘটে আজ থেকে প্রায় ১ লাখ বছর আগে।
অনেকটা মানুষ, কিন্তু পুরোপুরি নয় কেনো?
Homo naledi প্রাচীন এবং আধুনিকের মধ্যবর্তী এক অদ্ভুত বৈচিত্রতা বিশিষ্ট প্রজাতি। বিজ্ঞানীরা তাদের ফসিল পর্যবেক্ষণ করে কিছু বৈশিষ্ট্য বের করেছেন।
150910092424-restricted-homo-naledi-nat-geo-3-exlarge-169 (1)
১। তাদের মস্তিষ্ক ছিলো একটা কমলালেবুর সমান।
150910105558-restricted-homo-naledi-foot-wits-exlarge-169 (1)
২। তারা অপেক্ষাকৃতভাবে লম্বা, প্রায় ৫ ফুট লম্বা এবং লম্বা পা বিশিষ্ট। তাদের পা অনেকটা আমাদের মতো এবং বিজ্ঞানীরা বলেন, এই প্রজাতি অনেক দীর্ঘ রাস্তা পাড়ি দিতে সক্ষম ছিলো।
150910110718-restricted-homo-naledi-hands-wits-exlarge-169 (1)
৩। তাদের হাত অনেকটা মানুষের মতো কিন্তু আঙ্গুলের হাড়িগুলো বাঁকান। ধারণা করা হয়, তারা কোনো কিছু বেয়ে উঠা এবং বিভিন্ন জিনিষকে যন্ত্রপাতি হিসেবে ব্যবহার করতে জানতো।
150910112025-restricted-homo-naledi-skull-closeup-wits-exlarge-169 (1)
৪। তাদের মাথার খুলি আমাদের মাথার তুলনায় অর্ধেকেরও কম ছিলো।
University of Wisconsin-Madison এর একজন বিজ্ঞানী John Hawks বলেন, এই প্রজাতিকে বলতে গেলে আমদের বর্গেরই সবচেয়ে আদিম প্রাণী বিবেচনা করা যেতে পারে। কিন্তু এরও কিছু অবিশ্বাস্য রকমের গুণাবলি আছে, যা মানুষের সাথে মিলে যায়। যার ফলে আমরা একে আমাদের Homo বর্গের অন্তর্ভুক্ত করতে পারি।
সুত্রঃ সি এন এন এবং Sci-News.com

No comments:

Post a Comment